Fri 10th Jul 2026, 12:01 am

বিশ্বকাপ ফুটবল: মিসরের ঐতিহাসিক সাফল্য ও আর্থিক প্রাপ্তির নতুন মাইলফলক

বিশ্বকাপ ফুটবল: মিসরের ঐতিহাসিক সাফল্য ও আর্থিক প্রাপ্তির নতুন মাইলফলক
আটলান্টায় এক ঐতিহাসিক ম্যাচের ৬৭ মিনিট পর্যন্ত বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ২-০ গোলে এগিয়ে থেকে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন দেখছিল মোহাম্মদ সালাহর নেতৃত্বাধীন মিসরীয় ফুটবল দল। কিন্তু শেষ ১০ মিনিটে লিওনেল মেসিদের অপ্রতিরোধ্য প্রত্যাবর্তনে ৩-২ ব্যবধানে হার মেনে ফারাওদের সেই স্বপ্নযাত্রা থেমে যায়। মাত্র কয়েক মিনিটের জন্য ইতিহাসের খুব কাছাকাছি পৌঁছেও তাদের বিদায় নিতে হয়।

যদিও বিদায়টা ছিল অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক, তবুও ২০২৬ বিশ্বকাপ মিসরের ফুটবল ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে। এবারের আসরে তারা নিজেদের ইতিহাসের অন্যতম সেরা পারফরম্যান্স প্রদর্শন করেছে। গ্রুপ পর্বে বেলজিয়াম, ইরান এবং নিউজিল্যান্ডকে পেছনে ফেলে রানার্সআপ হিসেবে নকআউট পর্বে নিজেদের স্থান করে নেয় দেশটি। এরপর শেষ ষোলোতে শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়াকে পরাজিত করে বিশ্বকাপে তাদের প্রথম নকআউট জয়ের স্বাদ গ্রহণ করে।

আর্জেন্টিনার কাছে হেরে শেষ ষোলো থেকে বিদায় নিলেও, আফ্রিকান এই দেশটি বেশ কয়েকটি নতুন রেকর্ড নিয়ে ফিরেছে। এক আসরে এবারই প্রথম পাঁচটি ম্যাচ খেলার কীর্তি গড়েছে মিসর। এছাড়াও, এই বিশ্বকাপে তাদের করা মোট ৮ গোল একক আসরে দেশটির সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড।

শুধু পরিসংখ্যানই নয়, তাদের ফলাফলও ছিল ধারাবাহিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। পাঁচ ম্যাচের মধ্যে দুটি জয়, দুটি ড্র এবং বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে মাত্র একটি হার, যা সালাহর দলকে বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত করেছে। শক্তিশালী প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে তাদের লড়াকু ফুটবল মন জয় করেছে সকলের।

মাঠের এই অভূতপূর্ব সাফল্যের পাশাপাশি আর্থিক দিক থেকেও মিসরের জন্য এটি ছিল এক বিশাল অর্জন। ফিফার নতুন প্রাইজমানি কাঠামো অনুযায়ী, মিসর মোট ১৮.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বা প্রায় ২২৬ কোটি টাকা পেয়েছে। দেশের বিশ্বকাপ ইতিহাসে এটিই সর্বোচ্চ আর্থিক প্রাপ্তি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, যা তাদের ফুটবল অগ্রযাত্রায় নতুন প্রেরণা যোগাবে।