সিলেট টেস্ট: হৃদয়ের অনবদ্য ব্যাটিংয়ে লড়ছে বাংলাদেশ

সিলেট টেস্ট: হৃদয়ের অনবদ্য ব্যাটিংয়ে লড়ছে বাংলাদেশ
সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে টসে হেরে প্রথমে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ পায় বাংলাদেশ। শীতের আমেজ ও মেঘলা আকাশের নিচে পেসারদের জন্য সহায়ক পরিবেশ ছিল।

মিরপুর টেস্টের আট উইকেটের হার ভুলে নতুন করে ঘুরে দাঁড়াতে মুশফিকুর রহিমকে দলে ফিরিয়ে এবং শরিফুল ইসলামের পরিবর্তে তাসকিন আহমেদকে একাদশে রেখে মাঠে নামে স্বাগতিক দল। দিনের শুরুটা দুর্দান্ত ছিল বাংলাদেশের জন্য।

তাসকিন আহমেদ ও হাসান মাহমুদের গতি ও সুইংয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ মাত্র ২৭ রানেই ৩ উইকেট হারায়। তাসকিন ফেরান ব্রেন্ডন কিং ও জশুয়া ডি সিলভাকে, অন্যদিকে কাভেম হজকে বোল্ড করেন হাসান মাহমুদ।

তবে এরপর ঘুরে দাঁড়ায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। অভিষিক্ত কেভিন উইকহ্যাম ও আমির জাঙ্গুর দৃঢ়তায় চতুর্থ উইকেট জুটিতে শতরানের বেশি রান যোগ হয়।

জাঙ্গু তার দ্বিতীয় টেস্ট সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন, আর উইকহ্যামও ফিফটির দেখা পান। দিনের খেলা আলোকস্বল্পতার কারণে আগেই শেষ হলে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৪ উইকেটে ২৩৫ রান তোলে, যেখানে জাঙ্গু অপরাজিত ছিলেন ১১১ রানে এবং জাস্টিন গ্রিভস ৩৫ রানে।

দ্বিতীয় দিনের সকালে হাসান মাহমুদ নতুন বলে আবারও জাদু দেখান। দ্বিতীয় নতুন বল হাতে নিয়ে নিজের প্রথম ওভারেই তিনি সেঞ্চুরিয়ান আমির জাঙ্গু ও অধিনায়ক রোস্টন চেজকে ফিরিয়ে দেন।

জশুয়া বিশপকে এলবিডব্লিউ করে তিনি হ্যাটট্রিকের সুযোগ সৃষ্টি করেন, যদিও রিভিউ নিয়ে বিশপ বেঁচে যান। হাসানের দুর্দান্ত বোলিংয়ের সুবাদে এটি তার ক্যারিয়ারের পঞ্চম ফাইফার ছিল, যা বাংলাদেশের কোনো পেসারের জন্য সর্বোচ্চ।

গ্রিভস অর্ধশতক পূর্ণ করলেও মিরাজের ঘূর্ণিতে তার ইনিংসের সমাপ্তি ঘটে। শেষ পর্যন্ত হাসান ৬ উইকেট, তাসকিন ২ উইকেট এবং মেহেদী হাসান মিরাজ ২ উইকেট নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংস ৩৫৬ রানে গুটিয়ে দেয়।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৩৫৬ রানের জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। ফিল্ডিংয়ের সময় গোড়ালিতে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন সাদমান ইসলাম, যার ফলে এই বোলিং অলরাউন্ডার নাঈম হাসানকে ওপেনিংয়ে নামতে হয়।

তবে নাঈম (৫) এবং তানজিদ হাসান (১৬) দ্রুত ফিরে গেলে বাংলাদেশ চাপে পড়ে। অধিনায়ক নাজমুল হোসেনও ১৮ রানে বোল্ড হয়ে ফিরে গেলে বাংলাদেশ মাত্র ৫১ রানে ৩ উইকেট হারায়।

এই কঠিন মুহূর্তে তাওহিদ হৃদয় মুশফিকুর রহিমকে সাথে নিয়ে চতুর্থ উইকেট জুটিতে প্রতিরোধ গড়েন। এই জুটি থেকে ৫৩ রান আসে, যেখানে হৃদয় তার ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট ফিফটি পূর্ণ করেন।

মুশফিকুর রহিম ৩৪ রান করে আউট হওয়ার পর লিটন দাস (৮), মেহেদী হাসান মিরাজ (১৬) এবং হাসান মাহমুদও দ্রুত সাজঘরে ফেরেন। এক পর্যায়ে বাংলাদেশ ২০৫ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে বসে।

তবে এক প্রান্ত আগলে রেখে দারুণভাবে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন তাওহিদ হৃদয়। দলের এই চরম বিপদের মুহূর্তে তাইজুল ইসলামকে সঙ্গী করে ধৈর্য ও দৃঢ়তার সাথে ব্যাট চালিয়ে হৃদয় তার প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি তুলে নেন।

এটি ছিল তার ক্যারিয়ারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস, যা বাংলাদেশ দলকে ভরসা যোগায়। এই জুটিতে ১৪৪ বলে ১১৭ রান আসে, যা টেস্ট ক্রিকেটে অষ্টম উইকেটে বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানের জুটি।

তাইজুল ২২ রানে স্টাম্পিংয়ের শিকার হলেও হৃদয় তার অনবদ্য ব্যাটিং অব্যাহত রাখেন। তিনি তার প্রথম সেঞ্চুরিকে দেড়শতে রূপ দেন এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্টে কোনো বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানের সর্বোচ্চ রানের ইনিংসের রেকর্ড গড়েন।

চা বিরতির সময় পর্যন্ত হৃদয় ১৯০ রানে অপরাজিত ছিলেন, এবং বাংলাদেশ ৮ উইকেটে ৩১৮ রান সংগ্রহ করে।