Tue 27th Oct 2026, 4:33 pm
|

ইসরায়েলের দীর্ঘতম প্রধানমন্ত্রী: নেতানিয়াহুর উত্থান-পতনের এক বিরল রাজনৈতিক জীবন

ইসরায়েলের দীর্ঘতম প্রধানমন্ত্রী: নেতানিয়াহুর উত্থান-পতনের এক বিরল রাজনৈতিক জীবন
ইসরায়েলের রাজনৈতিক অঙ্গনে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এক অত্যন্ত পরিচিত ও প্রভাবশালী নাম, যাঁর কর্মজীবন দেশের সীমানা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করেছে। ৭৭ বছর বয়সী এই অভিজ্ঞ নেতা ২০২৩ সাল থেকে গাজায় ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান পরিচালনা করছেন।

এই সময়ে তাকে গাজায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং দীর্ঘদিনের দুর্নীতির মামলার বিচার— উভয়ই মোকাবিলা করতে হচ্ছে। ডানপন্থী লিকুদ পার্টির এই নেতা ইসরায়েলের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন।

বিভিন্ন মেয়াদে প্রায় উনিশ বছর তিনি দেশটির সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন, যা তাকে এক অনন্য উচ্চতায় স্থাপন করেছে। ১৯৮২ সালে ওয়াশিংটন ডিসিতে ইসরায়েলি দূতাবাসের উপপ্রধান হিসেবে নেতানিয়াহুর কর্মজীবন শুরু হয়।

এরপর ১৯৮৪ সালে তিনি জাতিসংঘে ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিযুক্ত হন, যা তাকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে পরিচিতি এনে দেয়। ১৯৮৮ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইয়িৎসহাক শামিরের মন্ত্রিসভায় উপপররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে তিনি জাতীয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেন।

১৯৯৩ সালে ডানপন্থী লিকুদ পার্টির চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে নেতানিয়াহু ১৯৯২ সালের নির্বাচনে দলের পরাজয়ের পর তা পুনরায় সুসংহত করেন। ফলস্বরূপ, ১৯৯৬ সালে তিনি প্রথমবারের মতো ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন এবং ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত দেশ পরিচালনা করেন।

২০০৯ সালে আবারও প্রধানমন্ত্রীর আসনে বসে নেতানিয়াহু টানা ১২ বছর, অর্থাৎ ২০২১ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় ছিলেন। এই দীর্ঘ মেয়াদ তাকে ইসরায়েলের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।

এরপর ২০২২ সালে তিনি ষষ্ঠবারের মতো প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন, যার নেতৃত্বাধীন সরকারকে ইসরায়েলের ইতিহাসের সবচেয়ে ডানপন্থী সরকার হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও একাধিকবার ক্ষমতায় ফেরার রেকর্ড থাকলেও, নেতানিয়াহুর বর্তমান রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ দুর্নীতির মামলা, গাজা যুদ্ধ নিয়ে তীব্র বিতর্ক এবং তার সরকারের নিরাপত্তা ও নীতিগত সিদ্ধান্ত ঘিরে প্রবল সমালোচনার মুখে।

নতুন এই নির্বাচনের মাধ্যমে তিনি আবারও ইসরায়েলের নেতৃত্ব দিতে পারবেন কি না, সেটাই এখন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মহলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জিজ্ঞাসা।