Tue 27th Oct 2026, 2:40 pm
|

মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের জনসমর্থনে সামান্য বৃদ্ধি, তবে কংগ্রেসের লড়াই এখনো হাড্ডাহাড্ডি

মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের জনসমর্থনে সামান্য বৃদ্ধি, তবে কংগ্রেসের লড়াই এখনো হাড্ডাহাড্ডি
একটি সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনসমর্থন ৩২ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। গত সপ্তাহে এটি রেকর্ড সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসার পর এক সপ্তাহের ব্যবধানে সমর্থন ১ শতাংশ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়েছে।

আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই জরিপটি পরিচালিত হয়, যা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণ করবে। রিপাবলিকান পার্টির নেতারা প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে জোর চেষ্টা চালাচ্ছেন।

দেশজুড়ে পাঁচ দিনব্যাপী পরিচালিত এই জরিপে নিবন্ধিত ভোটারদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, কংগ্রেসের জন্য তারা কোন দলকে সমর্থন করবেন। জবাবে, ৪৭ শতাংশ ভোটার ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে এবং ৩৬ শতাংশ রিপাবলিকানদের পক্ষে মত দিয়েছেন।

প্রায় ১১ শতাংশ ভোটার জানান, তাৎক্ষণিক নির্বাচন হলে তারা কাকে ভোট দেবেন, সে বিষয়ে তারা এখনো অনিশ্চিত। ১৯ অক্টোবরের একটি পূর্ববর্তী জরিপের তুলনায় ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানদের মধ্যে ব্যবধান ১ শতাংশ পয়েন্ট কমেছে।

নতুন এই জরিপে সিদ্ধান্তহীন ভোটারদেরও পছন্দের দল সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়। তাদের মতামত অন্তর্ভুক্ত করলে, জাতীয় পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা কিছুটা তীব্র মনে হলেও, ডেমোক্র্যাটরা ৯ শতাংশ পয়েন্ট ব্যবধানে এগিয়ে আছেন; তাদের সমর্থন ৫০ শতাংশ, যেখানে রিপাবলিকানদের ৪১ শতাংশ।

কংগ্রেসের যেকোনো একটি কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারালে রিপাবলিকানদের জন্য তা উদ্বেগের কারণ হতে পারে। এর ফলে প্রেসিডেন্টের দ্বিতীয় মেয়াদের শেষ দুই বছরে তার নীতি ও পরিকল্পনা বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়বে।

এই জরিপটিকে ‘জেনেরিক ব্যালট জরিপ’ বলা হয়, যা একটি জাতীয় স্তরের সমীক্ষা। এটি কংগ্রেসে ভোটাররা কোন দলকে ক্ষমতায় দেখতে চান, তার একটি সার্বিক চিত্র তুলে ধরে।

এই ধরনের জরিপ জাতীয় জনমত সম্পর্কে ধারণা দিলেও, অঙ্গরাজ্যভিত্তিক প্রতিযোগিতার সূক্ষ্ম পার্থক্যগুলো ধরতে পারে না, যা সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ক্ষেত্রে ডেমোক্র্যাটদের একটি শক্তিশালী সুযোগ রয়েছে, কিন্তু সিনেটে জয়ী হওয়া তাদের জন্য বেশ চ্যালেঞ্জিং হবে।

কতজন ভোটার শেষ পর্যন্ত ভোট দিতে আসবেন, তার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে। যারা ভোট দিতে সবচেয়ে বেশি আগ্রহী, সেই ভোটারদের মধ্যেও ডেমোক্র্যাটরা ৯ শতাংশ পয়েন্টে এগিয়ে, যেখানে তাদের সমর্থন ৫৩ শতাংশ এবং রিপাবলিকানদের ৪৪ শতাংশ।

এই কংগ্রেসীয় লড়াইয়ের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে মূল্যস্ফীতিকেই দেখা হচ্ছে। ফেব্রুয়ারিতে ইরানের ওপর সামরিক হামলার নির্দেশের পর জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় মূল্যস্ফীতি অনেক বেড়েছে।

জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় ৭৩ শতাংশ ভোটার মনে করেন, তাদের জীবনযাত্রার ব্যয় ভুল পথে যাচ্ছে, অর্থাৎ খরচ অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে। যুদ্ধ শুরুর আগে ভোটাররা অর্থনীতির ক্ষেত্রে রিপাবলিকানদের বেশি নির্ভরযোগ্য মনে করতেন।

তবে সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, ৩৭ শতাংশ ভোটার ডেমোক্র্যাটদের অর্থনৈতিক নীতিকে ভালো বলছেন, যেখানে ৩৩ শতাংশ রিপাবলিকানদের সমর্থন করছেন। এছাড়াও, ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ভোটারদের মধ্যে ভোটের আগ্রহ বেশি দেখা গেছে।

৪৬ শতাংশ ডেমোক্র্যাট এই মধ্যবর্তী নির্বাচন নিয়ে অত্যন্ত উৎসাহী বলে জানিয়েছেন, যেখানে মাত্র ৩০ শতাংশ রিপাবলিকান একই কথা বলেছেন। রয়টার্স/ইপসোসের এই অনলাইন জরিপে ১ হাজার ৬৭৯ জন প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিক অংশ নেন, যাদের মধ্যে ১ হাজার ২৮০ জন নিবন্ধিত ভোটার ছিলেন।