গত শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন যে, তিনি 'খুব শীঘ্রই' হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করবেন। এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ, যা ইরান সংঘাত শুরুর পূর্বে বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) এক-পঞ্চমাংশ পরিবহনে ব্যবহৃত হতো, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক ও কূটনৈতিক অচলাবস্থার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
ট্রাম্পের এই ঘোষণাকে ইরান ‘অর্থহীন বাগাড়ম্বর’ আখ্যা দিয়ে প্রত্যাখ্যান করেছে। এর মধ্যে, গত জুনে স্বাক্ষরিত দুই দেশের সমঝোতা স্মারকের ৬০ দিনের মেয়াদ গতকাল রোববার শেষ হওয়ায় উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
ইরান হরমুজ প্রণালিকে বৈশ্বিক অর্থনীতিকে অচল করার একটি কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে বিবেচনা করে এটিকে বন্ধ করে রেখেছে। অন্যদিকে, ওয়াশিংটন ইরানের বন্দরসমূহে নৌ অবরোধ অব্যাহত রেখেছে, যা যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির অর্থনীতিকে আরও নাজুক করে তুলছে।
ইরানের সেনাপ্রধান আমির হাতামি এই প্রসঙ্গে সতর্ক করে বলেছেন, 'ইরানকে নিয়ে এ ধরনের রসিকতা করা একটি বড় ভুল। কারণ, এটি ইরান। আর এ দেশের এমন সব যোদ্ধা রয়েছেন, যাঁরা আপনার পা ভেঙে দেবেন।' কে আগে নতি স্বীকার করবে—এই লড়াইয়ে ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে আলোচনাকে 'দাবার লড়াইয়ের' সঙ্গে তুলনা করেছেন। ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইরান সংঘাতের পর থেকে ট্রাম্পের সামরিক হুমকির একটি নির্দিষ্ট প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে; যেখানে তিনি প্রায়শই হামলার হুমকি দিয়েও শেষ মুহূর্তে সরে এসেছেন।
এ পরিপ্রেক্ষিতে প্রশ্ন জাগছে, যুক্তরাষ্ট্র কি বাস্তবিক অর্থেই হরমুজ প্রণালিকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ করতে সক্ষম? এবং এমন ঘোষণার তাৎপর্যই বা কী?
ট্রাম্পের বক্তব্য: শুক্রবার নিউইয়র্কের একটি পুলিশ একাডেমিতে দেওয়া বক্তৃতায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেন, 'ইরান শোচনীয়ভাবে হারছে। দেশটিকে পুরোপুরি পরাজিত করার পর খুব শিগগিরই আমি হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হিসেবে ঘোষণা করব।'
কে আগে নতি স্বীকার করবে, সেই প্রতিযোগিতায় ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে আলোচনাকে 'দাবার লড়াই' হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরুর পর তিনি একাধিকবার ইরানে হামলার হুমকি দিয়েও শেষ মুহূর্তে পিছু হটেছেন। নৌ অবরোধের প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প আরও দাবি করেন যে, হরমুজ প্রণালি কার্যত এখনই যুক্তরাষ্ট্রের অংশে পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, 'মূলত এটি এখন তা-ই। আমাদের অবরোধ কার্যকর রয়েছে। আমরা না চাইলে কোনো জাহাজ সেখান দিয়ে চলাচল করতে পারব না।'
তবে ইরান পাল্টা দাবি করেছে যে, নৌপথটি তাদের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। নৌ চলাচল বিষয়ক তথ্য ইঙ্গিত দেয় যে, যুক্তরাষ্ট্রের দাবি সত্ত্বেও কিছু জাহাজ অবরোধ উপেক্ষা করে ঐ পথ দিয়ে চলাচল করেছে।
আল-জাজিরার ওয়াশিংটন সংবাদদাতা কিম্বার্লি হ্যালকেট জানান, 'ট্রাম্প কথাটি বলার সময় হাসছিলেন। এটি স্পষ্ট যে তিনি নিজেও বিষয়টি খুব বেশি গুরুত্ব দিয়ে বলছেন না।'
রোনাল্ড রিগ্যান আমলের অ্যাসোসিয়েট ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এবং মার্কিন সংবিধান বিশেষজ্ঞ ব্রুস ফেইন উল্লেখ করেছেন যে, লুইজিয়ানা ক্রয়, হাওয়াই বা পানামা খাল দখল কিংবা স্পেন-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শেষে পুয়ের্তোরিকো বা ফিলিপাইন অধিগ্রহণের মতো কোনো অঞ্চল দখল করতে হলে সাংবিধানিকভাবে সিনেটের অনুমোদিত চুক্তি বা আইনের প্রয়োজন হবে। হ্যালকেট আরও বলেন, এই নৌপথ ইরান ও ওমানের আঞ্চলিক জলসীমার অংশ। ট্রাম্প মূলত তার প্রতিপক্ষকে উত্তেজিত করতে পছন্দ করেন এবং এই ক্ষেত্রেও তিনি ইরানের সঙ্গে একই কৌশল অবলম্বন করছেন। তবে হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ অব্যাহত থাকবে।
ইরানের প্রতিক্রিয়া:
গতকাল ইরানের সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল আমির হাতামি হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন যে, এই অঞ্চল রক্ষায় নিয়োজিত ইরানি বাহিনী প্রয়োজনে ট্রাম্পের 'পা ভেঙে দেবে'।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের একতরফা ঘোষণায় কোনো অঞ্চলের সার্বভৌমত্ব পরিবর্তিত হয় না উল্লেখ করে, পূর্বে তিনি ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খারগ দ্বীপ দখলে মার্কিন সেনা পাঠানোর হুমকি দিয়েছিলেন। তখন তেহরান পাল্টা জানিয়েছিল যে, আইআরজিসির সদস্যরা 'ট্রিগারে আঙুল রেখে' অপেক্ষা করবেন। একইভাবে তিনি গ্রিনল্যান্ড দখলেরও হুমকি দিয়েছিলেন। এই প্রসঙ্গে ইরানের সেনাপ্রধান পুনর্ব্যক্ত করেন, 'ইরানকে নিয়ে এ ধরনের রসিকতা করা একটি বড় ভুল। কারণ, এটি ইরান। আর এ দেশের এমন সব যোদ্ধা রয়েছেন, যাঁরা আপনার পা ভেঙে দেবেন।'
ইরানের বিচার বিভাগের প্রধান মার্কিন প্রেসিডেন্টকে 'অপরাধী' ও 'নির্বোধ' আখ্যা দিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্যকে 'বাজে কথা' হিসেবে উল্লেখ করেন এবং জোর দেন যে হরমুজ প্রণালি ইরানেরই অংশ।
ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি বলেন, 'টুইট করে, বিমানবাহী রণতরি পাঠিয়ে, কোনো আদেশ জারি করে কিংবা নির্বাচনী বক্তৃতার মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি দখল করা সম্ভব নয়।' ঘারিবাবাদি আরও দৃঢ়ভাবে বলেন, 'হরমুজ প্রণালি ইরানের ছিল, আছে ও থাকবে। এই প্রণালি শুধুমাত্র ইরানের নির্দেশেই খোলা বা বন্ধ হবে। যতক্ষণ আপনারা পরাজয়ের বাস্তবতা মেনে না নেবেন এবং অবাস্তব ভাবনাচিন্তা বন্ধ না করবেন, ততক্ষণ ইরান অবরোধ কার্যকর রাখবে।'
হরমুজ প্রণালির দক্ষিণ প্রান্তে ওমান এবং উত্তরে ইরান অবস্থিত। প্রণালির নৌ চলাচল ব্যবস্থাপনা বিষয়ে ওমানের সঙ্গে ইরানের আলোচনা যথেষ্ট অগ্রসর হয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন যে, মাসকাটের (ওমানের রাজধানী) সঙ্গে আলোচনা শীঘ্রই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারে। তবে আরাগচি স্পষ্ট করেছেন যে, নৌপথটি পুনরায় খুলে দেওয়া একটি স্বতন্ত্র বিষয়। এর জন্য ওয়াশিংটনকে জুনের সমঝোতা স্মারকে করা প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে হবে, যার মধ্যে ইরানের বন্দরসমূহে নৌ অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা অন্যতম।
ট্রাম্পের দাবির বাস্তবসম্মত বিচার: প্রথমত, শুধুমাত্র প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের একতরফা ঘোষণার মাধ্যমে কোনো অঞ্চলের সার্বভৌমত্ব পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। এর আগে ট্রাম্প পারস্য উপসাগরে ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র ‘খারগ দ্বীপ’ দখলের জন্য মার্কিন সেনা পাঠানোর হুমকি দিয়েছিলেন। জবাবে তেহরান তখন পাল্টা জানিয়েছিল যে, তাদের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) সদস্যরা 'ট্রিগারে আঙুল রেখে' তাদের জন্য অপেক্ষা করবেন। এছাড়া, ট্রাম্প পূর্বে ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড দখলেরও হুমকি দিয়েছিলেন।
প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যানের আমলের অ্যাসোসিয়েট ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এবং মার্কিন সংবিধান বিশেষজ্ঞ ব্রুস ফেইন জোর দিয়ে বলেছেন যে, একতরফাভাবে কোনো অঞ্চল দখলের সাংবিধানিক ক্ষমতা ট্রাম্পের নেই। তিনি বলেন, 'লুইজিয়ানা ক্রয়, হাওয়াই বা পানামা খাল দখল কিংবা স্পেন-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শেষে পুয়ের্তোরিকো বা ফিলিপাইন অধিগ্রহণের মতো কোনো অঞ্চল দখল করতে হলে সাংবিধানিকভাবে সিনেটের অনুমোদিত চুক্তি বা আইনের প্রয়োজন হবে।'
ফেইন আরও সতর্ক করে দেন যে, ট্রাম্প যদি এই দখলদারত্বের বিষয়টি এগিয়ে নিয়ে যান, তবে তা জাতিসংঘ সনদসহ আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী 'আগ্রাসন' হিসেবে বিবেচিত হবে।
সিডনির ইউনিভার্সিটি অব নিউ সাউথ ওয়েলসের আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ নাটালি ক্লেইন ব্যাখ্যা করেন যে, আন্তর্জাতিক আইনে ট্রাম্পের দাবি কার্যকর করতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রথমে সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এর অর্থ হলো, ইরান বা অন্তত এর উপকূলীয় এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক নিয়ন্ত্রণ স্থাপন করতে হবে, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জাপানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পরিস্থিতির অনুরূপ হবে।
ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের বর্তমান সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রেও যথেষ্ট অজনপ্রিয়। আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট এবং তাঁর রিপাবলিকান সহযোগীরা কংগ্রেসে তাঁদের সামান্য সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার চেষ্টা করবেন। রয়টার্স/ইপসোসের সাম্প্রতিক এক জরিপ অনুসারে, মাত্র ৩৫ শতাংশ মার্কিন নাগরিক এই সংঘাতকে সমর্থন করেন।
বেশ কিছু মার্কিন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে যে, ওয়াশিংটনে গোলাবারুদের সংকট দেখা দিয়েছে, যার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র-বিধ্বংসী ইন্টারসেপ্টরও রয়েছে। জ্বালানি তেলের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বর্তমানে প্রতি গ্যালন তেলের গড় দাম ৪ ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা মার্কিন নাগরিকদের জন্য একটি গুরুতর সমস্যা।
গত সপ্তাহে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন যে, এই সংঘাতে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রধান অগ্রাধিকার হলো তেলের ক্রমবর্ধমান মূল্য নিয়ন্ত্রণ করা। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়টি বর্তমানে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সম্ভাব্য হামলার জবাবে তেহরান পারস্য উপসাগরের প্রতিবেশী এবং মার্কিন মিত্র দেশগুলোর ওপরও হামলা চালিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এর উদ্দেশ্য হলো আঞ্চলিক দেশগুলোকে এমনভাবে চাপ সৃষ্টি করা, যাতে তারা ওয়াশিংটনকে আলোচনার টেবিলে বসতে বাধ্য করে।
সমুদ্র আইনবিষয়ক জাতিসংঘ কনভেনশন (ইউএনসিএলওএস) উপকূলীয় দেশগুলোর আঞ্চলিক জলসীমার ওপর সার্বভৌমত্ব স্বীকার করে, তবে এই জলসীমা উপকূল থেকে সর্বোচ্চ ১২ নটিক্যাল মাইল (২২ কিলোমিটার) পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে। একই সাথে, এই জলসীমা দিয়ে যেকোনো দেশের জাহাজ চলাচলের অধিকারও সুরক্ষিত, যা কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত করা যাবে না।
হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক জলসীমায় অবস্থিত, যা ইরান ও ওমানের উপকূলের মধ্যবর্তী স্থানে। এর সবচেয়ে সংকীর্ণ অংশ মাত্র ২১ নটিক্যাল মাইল (৩৯ কিলোমিটার) প্রশস্ত। ফলে দুই দেশের ১২ নটিক্যাল মাইলের আঞ্চলিক জলসীমা এখানে একে অপরের সাথে মিশে গেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র বা ইরান—কেউই এই কনভেনশনে স্বাক্ষর বা অনুসমর্থন করেনি। তা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক প্রণালিসংক্রান্ত এসব নিয়ম বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত আইন হিসেবে বিবেচিত হয়।
কাতারের জর্জটাউন ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক পল মাসগ্রেভ মন্তব্য করেছেন যে, ট্রাম্প সাধারণত তার নিজ দেশের ভোটারদের, বিশেষ করে তার সমর্থক গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে এ ধরনের বক্তব্য দেন। তিনি মনে করিয়ে দেন, ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের রিয়েলিটি টিভির সৃষ্টি এবং দিনের শেষে তিনি একজন লোকরঞ্জনকারী।
মাসগ্রেভ সতর্ক করে বলেন, 'ট্রাম্প বড় বড় কথা বলেন। কিছু ক্ষেত্রে তাঁকে গুরুত্ব দিতে হবে। কিন্তু তাঁর কথা আক্ষরিক অর্থে গ্রহণ করা যাবে না।' তিনি মনে করেন যে, হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ করা বাস্তবে এবং আইনগতভাবে অসম্ভব। তাই এই ক্ষেত্রে ট্রাম্পকে গুরুত্ব দেওয়ার অবকাশ নেই। তবে তার বক্তব্য প্রমাণ করে যে, ট্রাম্প ইরানের কাছে নতি স্বীকার করতে বা কয়েক মাস ধরে চলা এই সংঘাতে পরাজয় মেনে নিতে প্রস্তুত নন।
ট্রাম্পের এই ঘোষণাকে ইরান ‘অর্থহীন বাগাড়ম্বর’ আখ্যা দিয়ে প্রত্যাখ্যান করেছে। এর মধ্যে, গত জুনে স্বাক্ষরিত দুই দেশের সমঝোতা স্মারকের ৬০ দিনের মেয়াদ গতকাল রোববার শেষ হওয়ায় উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
ইরান হরমুজ প্রণালিকে বৈশ্বিক অর্থনীতিকে অচল করার একটি কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে বিবেচনা করে এটিকে বন্ধ করে রেখেছে। অন্যদিকে, ওয়াশিংটন ইরানের বন্দরসমূহে নৌ অবরোধ অব্যাহত রেখেছে, যা যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির অর্থনীতিকে আরও নাজুক করে তুলছে।
ইরানের সেনাপ্রধান আমির হাতামি এই প্রসঙ্গে সতর্ক করে বলেছেন, 'ইরানকে নিয়ে এ ধরনের রসিকতা করা একটি বড় ভুল। কারণ, এটি ইরান। আর এ দেশের এমন সব যোদ্ধা রয়েছেন, যাঁরা আপনার পা ভেঙে দেবেন।' কে আগে নতি স্বীকার করবে—এই লড়াইয়ে ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে আলোচনাকে 'দাবার লড়াইয়ের' সঙ্গে তুলনা করেছেন। ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইরান সংঘাতের পর থেকে ট্রাম্পের সামরিক হুমকির একটি নির্দিষ্ট প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে; যেখানে তিনি প্রায়শই হামলার হুমকি দিয়েও শেষ মুহূর্তে সরে এসেছেন।
এ পরিপ্রেক্ষিতে প্রশ্ন জাগছে, যুক্তরাষ্ট্র কি বাস্তবিক অর্থেই হরমুজ প্রণালিকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ করতে সক্ষম? এবং এমন ঘোষণার তাৎপর্যই বা কী?
ট্রাম্পের বক্তব্য: শুক্রবার নিউইয়র্কের একটি পুলিশ একাডেমিতে দেওয়া বক্তৃতায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেন, 'ইরান শোচনীয়ভাবে হারছে। দেশটিকে পুরোপুরি পরাজিত করার পর খুব শিগগিরই আমি হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হিসেবে ঘোষণা করব।'
কে আগে নতি স্বীকার করবে, সেই প্রতিযোগিতায় ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে আলোচনাকে 'দাবার লড়াই' হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরুর পর তিনি একাধিকবার ইরানে হামলার হুমকি দিয়েও শেষ মুহূর্তে পিছু হটেছেন। নৌ অবরোধের প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প আরও দাবি করেন যে, হরমুজ প্রণালি কার্যত এখনই যুক্তরাষ্ট্রের অংশে পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, 'মূলত এটি এখন তা-ই। আমাদের অবরোধ কার্যকর রয়েছে। আমরা না চাইলে কোনো জাহাজ সেখান দিয়ে চলাচল করতে পারব না।'
তবে ইরান পাল্টা দাবি করেছে যে, নৌপথটি তাদের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। নৌ চলাচল বিষয়ক তথ্য ইঙ্গিত দেয় যে, যুক্তরাষ্ট্রের দাবি সত্ত্বেও কিছু জাহাজ অবরোধ উপেক্ষা করে ঐ পথ দিয়ে চলাচল করেছে।
আল-জাজিরার ওয়াশিংটন সংবাদদাতা কিম্বার্লি হ্যালকেট জানান, 'ট্রাম্প কথাটি বলার সময় হাসছিলেন। এটি স্পষ্ট যে তিনি নিজেও বিষয়টি খুব বেশি গুরুত্ব দিয়ে বলছেন না।'
রোনাল্ড রিগ্যান আমলের অ্যাসোসিয়েট ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এবং মার্কিন সংবিধান বিশেষজ্ঞ ব্রুস ফেইন উল্লেখ করেছেন যে, লুইজিয়ানা ক্রয়, হাওয়াই বা পানামা খাল দখল কিংবা স্পেন-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শেষে পুয়ের্তোরিকো বা ফিলিপাইন অধিগ্রহণের মতো কোনো অঞ্চল দখল করতে হলে সাংবিধানিকভাবে সিনেটের অনুমোদিত চুক্তি বা আইনের প্রয়োজন হবে। হ্যালকেট আরও বলেন, এই নৌপথ ইরান ও ওমানের আঞ্চলিক জলসীমার অংশ। ট্রাম্প মূলত তার প্রতিপক্ষকে উত্তেজিত করতে পছন্দ করেন এবং এই ক্ষেত্রেও তিনি ইরানের সঙ্গে একই কৌশল অবলম্বন করছেন। তবে হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ অব্যাহত থাকবে।
ইরানের প্রতিক্রিয়া:
গতকাল ইরানের সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল আমির হাতামি হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন যে, এই অঞ্চল রক্ষায় নিয়োজিত ইরানি বাহিনী প্রয়োজনে ট্রাম্পের 'পা ভেঙে দেবে'।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের একতরফা ঘোষণায় কোনো অঞ্চলের সার্বভৌমত্ব পরিবর্তিত হয় না উল্লেখ করে, পূর্বে তিনি ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খারগ দ্বীপ দখলে মার্কিন সেনা পাঠানোর হুমকি দিয়েছিলেন। তখন তেহরান পাল্টা জানিয়েছিল যে, আইআরজিসির সদস্যরা 'ট্রিগারে আঙুল রেখে' অপেক্ষা করবেন। একইভাবে তিনি গ্রিনল্যান্ড দখলেরও হুমকি দিয়েছিলেন। এই প্রসঙ্গে ইরানের সেনাপ্রধান পুনর্ব্যক্ত করেন, 'ইরানকে নিয়ে এ ধরনের রসিকতা করা একটি বড় ভুল। কারণ, এটি ইরান। আর এ দেশের এমন সব যোদ্ধা রয়েছেন, যাঁরা আপনার পা ভেঙে দেবেন।'
ইরানের বিচার বিভাগের প্রধান মার্কিন প্রেসিডেন্টকে 'অপরাধী' ও 'নির্বোধ' আখ্যা দিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্যকে 'বাজে কথা' হিসেবে উল্লেখ করেন এবং জোর দেন যে হরমুজ প্রণালি ইরানেরই অংশ।
ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি বলেন, 'টুইট করে, বিমানবাহী রণতরি পাঠিয়ে, কোনো আদেশ জারি করে কিংবা নির্বাচনী বক্তৃতার মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি দখল করা সম্ভব নয়।' ঘারিবাবাদি আরও দৃঢ়ভাবে বলেন, 'হরমুজ প্রণালি ইরানের ছিল, আছে ও থাকবে। এই প্রণালি শুধুমাত্র ইরানের নির্দেশেই খোলা বা বন্ধ হবে। যতক্ষণ আপনারা পরাজয়ের বাস্তবতা মেনে না নেবেন এবং অবাস্তব ভাবনাচিন্তা বন্ধ না করবেন, ততক্ষণ ইরান অবরোধ কার্যকর রাখবে।'
হরমুজ প্রণালির দক্ষিণ প্রান্তে ওমান এবং উত্তরে ইরান অবস্থিত। প্রণালির নৌ চলাচল ব্যবস্থাপনা বিষয়ে ওমানের সঙ্গে ইরানের আলোচনা যথেষ্ট অগ্রসর হয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন যে, মাসকাটের (ওমানের রাজধানী) সঙ্গে আলোচনা শীঘ্রই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারে। তবে আরাগচি স্পষ্ট করেছেন যে, নৌপথটি পুনরায় খুলে দেওয়া একটি স্বতন্ত্র বিষয়। এর জন্য ওয়াশিংটনকে জুনের সমঝোতা স্মারকে করা প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে হবে, যার মধ্যে ইরানের বন্দরসমূহে নৌ অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা অন্যতম।
ট্রাম্পের দাবির বাস্তবসম্মত বিচার: প্রথমত, শুধুমাত্র প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের একতরফা ঘোষণার মাধ্যমে কোনো অঞ্চলের সার্বভৌমত্ব পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। এর আগে ট্রাম্প পারস্য উপসাগরে ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র ‘খারগ দ্বীপ’ দখলের জন্য মার্কিন সেনা পাঠানোর হুমকি দিয়েছিলেন। জবাবে তেহরান তখন পাল্টা জানিয়েছিল যে, তাদের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) সদস্যরা 'ট্রিগারে আঙুল রেখে' তাদের জন্য অপেক্ষা করবেন। এছাড়া, ট্রাম্প পূর্বে ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড দখলেরও হুমকি দিয়েছিলেন।
প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যানের আমলের অ্যাসোসিয়েট ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এবং মার্কিন সংবিধান বিশেষজ্ঞ ব্রুস ফেইন জোর দিয়ে বলেছেন যে, একতরফাভাবে কোনো অঞ্চল দখলের সাংবিধানিক ক্ষমতা ট্রাম্পের নেই। তিনি বলেন, 'লুইজিয়ানা ক্রয়, হাওয়াই বা পানামা খাল দখল কিংবা স্পেন-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শেষে পুয়ের্তোরিকো বা ফিলিপাইন অধিগ্রহণের মতো কোনো অঞ্চল দখল করতে হলে সাংবিধানিকভাবে সিনেটের অনুমোদিত চুক্তি বা আইনের প্রয়োজন হবে।'
ফেইন আরও সতর্ক করে দেন যে, ট্রাম্প যদি এই দখলদারত্বের বিষয়টি এগিয়ে নিয়ে যান, তবে তা জাতিসংঘ সনদসহ আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী 'আগ্রাসন' হিসেবে বিবেচিত হবে।
সিডনির ইউনিভার্সিটি অব নিউ সাউথ ওয়েলসের আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ নাটালি ক্লেইন ব্যাখ্যা করেন যে, আন্তর্জাতিক আইনে ট্রাম্পের দাবি কার্যকর করতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রথমে সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এর অর্থ হলো, ইরান বা অন্তত এর উপকূলীয় এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক নিয়ন্ত্রণ স্থাপন করতে হবে, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জাপানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পরিস্থিতির অনুরূপ হবে।
ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের বর্তমান সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রেও যথেষ্ট অজনপ্রিয়। আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট এবং তাঁর রিপাবলিকান সহযোগীরা কংগ্রেসে তাঁদের সামান্য সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার চেষ্টা করবেন। রয়টার্স/ইপসোসের সাম্প্রতিক এক জরিপ অনুসারে, মাত্র ৩৫ শতাংশ মার্কিন নাগরিক এই সংঘাতকে সমর্থন করেন।
বেশ কিছু মার্কিন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে যে, ওয়াশিংটনে গোলাবারুদের সংকট দেখা দিয়েছে, যার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র-বিধ্বংসী ইন্টারসেপ্টরও রয়েছে। জ্বালানি তেলের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বর্তমানে প্রতি গ্যালন তেলের গড় দাম ৪ ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা মার্কিন নাগরিকদের জন্য একটি গুরুতর সমস্যা।
গত সপ্তাহে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন যে, এই সংঘাতে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রধান অগ্রাধিকার হলো তেলের ক্রমবর্ধমান মূল্য নিয়ন্ত্রণ করা। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়টি বর্তমানে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সম্ভাব্য হামলার জবাবে তেহরান পারস্য উপসাগরের প্রতিবেশী এবং মার্কিন মিত্র দেশগুলোর ওপরও হামলা চালিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এর উদ্দেশ্য হলো আঞ্চলিক দেশগুলোকে এমনভাবে চাপ সৃষ্টি করা, যাতে তারা ওয়াশিংটনকে আলোচনার টেবিলে বসতে বাধ্য করে।
সমুদ্র আইনবিষয়ক জাতিসংঘ কনভেনশন (ইউএনসিএলওএস) উপকূলীয় দেশগুলোর আঞ্চলিক জলসীমার ওপর সার্বভৌমত্ব স্বীকার করে, তবে এই জলসীমা উপকূল থেকে সর্বোচ্চ ১২ নটিক্যাল মাইল (২২ কিলোমিটার) পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে। একই সাথে, এই জলসীমা দিয়ে যেকোনো দেশের জাহাজ চলাচলের অধিকারও সুরক্ষিত, যা কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত করা যাবে না।
হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক জলসীমায় অবস্থিত, যা ইরান ও ওমানের উপকূলের মধ্যবর্তী স্থানে। এর সবচেয়ে সংকীর্ণ অংশ মাত্র ২১ নটিক্যাল মাইল (৩৯ কিলোমিটার) প্রশস্ত। ফলে দুই দেশের ১২ নটিক্যাল মাইলের আঞ্চলিক জলসীমা এখানে একে অপরের সাথে মিশে গেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র বা ইরান—কেউই এই কনভেনশনে স্বাক্ষর বা অনুসমর্থন করেনি। তা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক প্রণালিসংক্রান্ত এসব নিয়ম বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত আইন হিসেবে বিবেচিত হয়।
কাতারের জর্জটাউন ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক পল মাসগ্রেভ মন্তব্য করেছেন যে, ট্রাম্প সাধারণত তার নিজ দেশের ভোটারদের, বিশেষ করে তার সমর্থক গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে এ ধরনের বক্তব্য দেন। তিনি মনে করিয়ে দেন, ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের রিয়েলিটি টিভির সৃষ্টি এবং দিনের শেষে তিনি একজন লোকরঞ্জনকারী।
মাসগ্রেভ সতর্ক করে বলেন, 'ট্রাম্প বড় বড় কথা বলেন। কিছু ক্ষেত্রে তাঁকে গুরুত্ব দিতে হবে। কিন্তু তাঁর কথা আক্ষরিক অর্থে গ্রহণ করা যাবে না।' তিনি মনে করেন যে, হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ করা বাস্তবে এবং আইনগতভাবে অসম্ভব। তাই এই ক্ষেত্রে ট্রাম্পকে গুরুত্ব দেওয়ার অবকাশ নেই। তবে তার বক্তব্য প্রমাণ করে যে, ট্রাম্প ইরানের কাছে নতি স্বীকার করতে বা কয়েক মাস ধরে চলা এই সংঘাতে পরাজয় মেনে নিতে প্রস্তুত নন।