Sun 6th Sep 2026, 5:00 pm

ইন্দোনেশিয়ায় আনাক ক্রাকাতোয়ার ভয়াবহ অগ্ন্যুৎপাত: পাঁচ বিমানবন্দরে শত শত ফ্লাইট বাতিল, ২২ হাজার যাত্রী দুর্ভোগে

ইন্দোনেশিয়ায় আনাক ক্রাকাতোয়ার ভয়াবহ অগ্ন্যুৎপাত: পাঁচ বিমানবন্দরে শত শত ফ্লাইট বাতিল, ২২ হাজার যাত্রী দুর্ভোগে
ইন্দোনেশিয়ার আনাক ক্রাকাতোয়া আগ্নেয়গিরির ভয়াবহ অগ্ন্যুৎপাতের কারণে দেশটির প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সুকর্ণ-হাত্তা সহ পাঁচটি বিমানবন্দরে মোট ৩০১টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। জাকার্তার নিকটবর্তী আকাশসীমায় আগ্নেয়গিরির ছাই ছড়িয়ে পড়ায় রোববার এই বিমান চলাচল স্থগিত ঘোষণা করা হয়, যার ফলস্বরূপ ২২ হাজারেরও বেশি যাত্রী চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, স্থানীয় সময় রোববার সকালে সুকর্ণ-হাত্তা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আশপাশের আকাশসীমায় আগ্নেয়গিরির ছাই শনাক্ত হওয়ার পরপরই ফ্লাইট বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর মধ্যে ৫৮টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

দেশের পরিবহন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এই ঘটনায় সিঙ্গাপুরগামী ও সিঙ্গাপুর থেকে আসা ফ্লাইটগুলি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দোহা, সিডনি এবং কুয়ালালামপুরসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক রুটের ফ্লাইটগুলিও এই স্থগিতাদেশের আওতায় পড়েছে।

আনাক ক্রাকাতোয়া থেকে অগ্ন্যুৎপাত শুরু হয় শুক্রবার গভীর রাতে। এরপর থেকে সেখানে অবিরাম ভূকম্পন, লাভার ফোয়ারা এবং বিকট শব্দ অনুভূত হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে, আজ ভোরেও আগ্নেয়গিরিটি থেকে আরও দুটি অগ্ন্যুৎপাত হয়েছে।

আনাক ক্রাকাতোয়া জাভা ও সুমাত্রা দ্বীপের মধ্যবর্তী গুরুত্বপূর্ণ সুন্দা প্রণালিতে অবস্থিত। তবে সাম্প্রতিক এই অগ্ন্যুৎপাতের কারণে কোনো সুনামির সতর্কতা জারি করা হয়নি বলে কর্তৃপক্ষ আশ্বস্ত করেছে।

আগ্নেয়গিরির ছাইয়ের কারণে সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকির প্রেক্ষিতে, স্বাস্থ্যমন্ত্রী ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দাদের বাড়ির ভেতরে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। শ্বাসতন্ত্র, চোখ এবং ত্বকের সুরক্ষায় মুখে মাস্ক ব্যবহারেরও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

স্থানীয় সংবাদপত্র 'কম্পাস'-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ছাইয়ের কারণে চোখে জ্বালাপোড়ার অভিযোগ ওঠার পর শনিবার বেশ কয়েকটি স্কুল তাদের কার্যক্রম বাতিল করে। কিছু জেলে চোখে ব্যথা ও অস্বস্তির কথা জানিয়ে সাগরে মাছ ধরতে যাওয়ার পরিকল্পনাও বাতিল করেছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা আলদি চান্দ্রা প্রায়োগি 'কম্পাস'-কে জানান, গত শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে তাঁর চোখে "ছোট ছোট বালুর কণা ঢুকে গেছে" এমন অনুভূতি হচ্ছিল। চোখের জ্বালাপোড়া কমাতে তাঁকে নিয়মিত আই-ড্রপ ব্যবহার করতে হচ্ছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বাড়ির সামনের উঠানে এত ঘন ছাই জমছে যে তাঁকে প্রতি পাঁচ মিনিট পরপর তা ঝাড়ু দিতে হচ্ছে।

'আনাক ক্রাকাতোয়া' শব্দটির অর্থ হলো 'ক্রাকাতোয়ার সন্তান'। গত শতাব্দীর শুরুর দিকে সমুদ্র থেকে জেগে ওঠার পর থেকে এই আগ্নেয়গিরিটি মাঝেমধ্যে সক্রিয় হয়ে উঠছে। এটি ১৮৮৩ সালের ভয়াবহ মাউন্ট ক্রাকাতোয়ার অগ্ন্যুৎপাতের পর তৈরি হওয়া আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখে গড়ে উঠেছে।

২০১৮ সালের ডিসেম্বরে আনাক ক্রাকাতোয়া আগ্নেয়গিরির ধসের কারণে বিশাল সুনামি সৃষ্টি হয়, যেখানে ৪০০ জনেরও বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটে। জাভা ও সুমাত্রার উপকূলীয় অঞ্চলে হাজার হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত ও আহত হয়েছিলেন। বিজ্ঞানীরা পরবর্তীতে দেখতে পান, আগ্নেয়গিরিটি ধসে পড়ার সময় সেখান থেকে প্রায় ৭০ থেকে ৯০ মিটার উচ্চতার পাথরের খণ্ড সরে গিয়েছিল।

ইন্দোনেশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় 'রিং অব ফায়ার'-এ অবস্থিত, যা আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ও ভূমিকম্প প্রবণতার জন্য সুপরিচিত। প্রশান্ত মহাসাগরের প্রায় পুরো প্রান্ত ঘিরে থাকা এই অঞ্চলে প্রায়শই ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ঘটে থাকে।