Wed 2nd Sep 2026, 11:09 am

ইরানের বিয়ের অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা: শিশুসহ ৫ জন নিহত, ৬৩ আহত; উত্তেজনা চরমে

ইরানের বিয়ের অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা: শিশুসহ ৫ জন নিহত, ৬৩ আহত; উত্তেজনা চরমে
ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের সিরিক কাউন্টিতে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার অভিযোগ করেছে তেহরান। এই হামলায় শিশুসহ অন্তত পাঁচজনের প্রাণহানি ঘটেছে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, বুধবার ভোরে কুহেস্তাক শহরের একটি বাড়িতে এই 'নিষ্ঠুর' হামলা চালানো হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভিও হামলায় অন্তত পাঁচজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে।

সিরিক কাউন্টির গভর্নর রেজা শহিদিয়ান রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, হামলায় আরও ৬৩ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৫০ জনই নারী ও শিশু। আহতদের মিনাব শহরের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তাদের অবস্থা 'স্থিতিশীল'।

তেহরানের এই অভিযোগের মাঝেই মার্কিন সামরিক বাহিনী 'ইরানের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে' নতুন করে হামলার ঘোষণা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার চেষ্টা চালিয়েছিল, যার প্রতিক্রিয়ায় এই হামলা চালানো হয়েছে।

এদিকে, আধা সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সি এক শিশুর বক্তব্য প্রকাশ করেছে, যে এই বিস্ফোরণ থেকে প্রাণে বেঁচে গেছে। শিশুটি জানিয়েছে, তারা অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছানোর আগেই যুদ্ধবিমান উড়তে দেখেছিল। সে আরও বলে, "আমরা সেখানে পৌঁছানোর পরই একটি ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। ইট, পাথর ও সিমেন্টের টুকরা আমার মুখ ও মাথায় এসে লাগে। অনেকেই আহত হন, যারা সবাই সাধারণ বেসামরিক মানুষ ছিলেন।"

মার্কিন সামরিক বাহিনী আরও জানিয়েছে যে তারা ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, রাডার, সমুদ্রপথে ব্যবহৃত সামরিক সরঞ্জাম ও স্থাপনা, সমুদ্রে মাইন স্থাপনের সক্ষমতা এবং যোগাযোগব্যবস্থার বিভিন্ন স্থাপনায় আঘাত হেনেছে।

এই হামলা সপ্তাহান্তে দুই পক্ষের মধ্যে হওয়া পাল্টাপাল্টি হামলার ধারাবাহিকতায় এসেছে। এটি হরমুজ প্রণালি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে চলমান অচলাবস্থার মধ্যেও নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরুর পর থেকেই ইরান এই গুরুত্বপূর্ণ প্রণালি অবরোধ করে রেখেছে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বাঘাই যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ হামলার জবাব দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। তিনি মন্তব্য করেন, "এই নিষ্ঠুরতাকে এর আগে ঘটে যাওয়া ধারাবাহিক নৃশংসতা থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেখা যায় না।" এ প্রসঙ্গে তিনি যুদ্ধের প্রথম দিনে মিনাব ও লামার্দ শহরে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার কথা স্মরণ করিয়ে দেন। মিনাবের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ওই হামলায় ১৫০ জনের বেশি এবং লামার্দের একটি ক্রীড়া কমপ্লেক্সে ২১ জন নিহত হয়েছিলেন।

তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে যে কুহেস্তাক ছাড়াও দেশের দক্ষিণাঞ্চলের কোনারাক, বন্দর আব্বাস এবং কেশম দ্বীপসহ আরও কয়েকটি এলাকায় বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।

এর পাল্টা হিসেবে ইরানের সামরিক বাহিনী জর্ডান, বাহরাইন ও ইরাকে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি ও সামরিক স্থাপনায় আঘাত হানার দাবি করেছে। এছাড়া কুয়েত জানিয়েছে যে তারা বেশ কয়েকটি ড্রোন আকাশে প্রতিহত করেছে।