Mon 10th Aug 2026, 12:22 pm

প্রায় ৫৭ লাখ টাকার জাল নোটসহ স্বর্ণ ক্রয়ের চেষ্টায় ধৃত রুবেল, রিমান্ড শেষে কারান্তরীণ

প্রায় ৫৭ লাখ টাকার জাল নোটসহ স্বর্ণ ক্রয়ের চেষ্টায় ধৃত রুবেল, রিমান্ড শেষে কারান্তরীণ
রাজধানীর বনানীতে প্রায় ৫৭ লাখ টাকার জাল নোট ব্যবহার করে স্বর্ণালংকার ক্রয়ের অপচেষ্টার দায়ে গ্রেপ্তারকৃত মো. রুবেল আহম্মেদ ফকিরকে (৪৬) দুই দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

গত রোববার (৯ আগস্ট) দুই দিনের রিমান্ডের মেয়াদ শেষে রুবেলকে আদালতে সোপর্দ করা হলে, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও বনানী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. জুম্মান খান তাকে কারান্তরীণ রাখার আবেদন জানান।

শুনানি সম্পন্ন হওয়ার পর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. রিপন হোসেন রুবেলকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ প্রদান করেন। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোক্তার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আদালতে দাখিলকৃত প্রতিবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন যে, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের সময় আসামি তার পলাতক সহযোগীর অবস্থান এবং জাল নোটের উৎস সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রদানে বিরত ছিলেন। তবে মামলার ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদঘাটিত হয়েছে, যা তদন্ত কার্যে সহায়ক হবে। তদন্তের প্রয়োজনে পরবর্তীতে তাকে পুনরায় রিমান্ডে গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিতে পারে।

আবেদনে আরও জানানো হয়, আসামি রুবেল একটি পেশাদার জাল নোট প্রস্তুতকারী চক্রের সক্রিয় সদস্য। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন থানায় তার বিরুদ্ধে জাল নোট তৈরি, প্রতারণা, মানি লন্ডারিং এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে অন্তত ১৬টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারান্তরীণ রাখা অপরিহার্য। জামিন প্রাপ্ত হলে তার পলাতক হওয়ার এবং মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

মামলার এজাহার এবং পুলিশ সূত্র অনুযায়ী, গত ৬ আগস্ট বিকেলে বনানী সুপারমার্কেটের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত ‘মনিমালা জুয়েলার্স’ নামক দোকানে রুবেল ফকির ও তার সহযোগী আবদুল্লাহ আল কাফি (৩৭) ক্রেতা সেজে প্রবেশ করেন। তারা তাদের ভাগনির বিয়ের জন্য স্বর্ণালংকার ক্রয়ের অভিপ্রায়ে কর্মচারীদের কাছে বিভিন্ন নকশার গয়না প্রদর্শনের অনুরোধ জানান।

একপর্যায়ে তারা প্রায় ২০-২১ ভরি স্বর্ণালংকার নির্বাচন করে সেগুলোর বিল ও প্যাকেজিং সম্পন্ন করতে বলেন। স্বর্ণের পরিমাণ ও মূল্য অধিক হওয়ায় দোকানের ব্যবস্থাপক মো. শহিদুল ইসলাম তাৎক্ষণিকভাবে মুঠোফোনে মালিককে বিষয়টি অবহিত করেন।

মালিকের আগমনে বিলম্ব হওয়ায় আসামিদের বিল পরিশোধের জন্য অনুরোধ জানানো হলে, রুবেল তার সঙ্গে থাকা একটি ট্রলি ব্যাগ থেকে ১০০০ টাকা মূল্যমানের নোটের বান্ডিল বের করে কাচের টেবিলের ওপর রাখেন। নোটগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর কর্মচারীদের সন্দেহ দৃঢ় হয় এবং তারা নিশ্চিত হন যে এগুলো জাল নোট।

পরিস্থিতির ভয়াবহতা অনুধাবন করে দুই আসামি তাৎক্ষণিকভাবে ট্রলি ব্যাগ ও টাকা ফেলে রেখে দোকান থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এই সময় দোকানের কর্মচারীদের চিৎকারে পার্শ্ববর্তী ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা দ্রুত এগিয়ে এসে রুবেলকে আটক করেন এবং ক্রুদ্ধ জনতার রোষানলে পড়েন তিনি। তবে তার সহযোগী আবদুল্লাহ আল কাফি সুকৌশলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।

সংবাদ পেয়ে বনানী থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে রুবেলকে উদ্ধার করে চিকিৎসার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে। পুলিশ তার নিকট থেকে ১০০০ টাকা মূল্যমানের ৫৮ বান্ডিল জাল নোট, যার মোট পরিমাণ ৫৭ লাখ ৫ হাজার টাকা, এবং একটি ট্রলি ব্যাগ জব্দ করে।

এই ঘটনায় মনিমালা জুয়েলার্সের ব্যবস্থাপক শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে বিশেষ ক্ষমতা আইনে বনানী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। উক্ত মামলায় গত ৭ আগস্ট আদালত রুবেলকে দুই দিনের রিমান্ডে প্রেরণের আদেশ দিয়েছিলেন।