ভারতে সম্প্রতি তরুণদের নেতৃত্বে পরিচালিত বিক্ষোভ দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অবস্থানকে উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল করেছে বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক।
পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে তরুণদের ওই আন্দোলনে সোনম ওয়াংচুক সংহতি প্রকাশ করে অনশনে বসেছিলেন। তাঁর অনশন কর্মসূচি এই আন্দোলনকে ব্যাপকভাবে উদ্দীপ্ত করেছিল।
পরবর্তীতে, তরুণদের ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে গত ২৫ জুলাই শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগে বাধ্য হন।
ভারতের সুপরিচিত পরিবেশ আন্দোলনকর্মী সোনম ওয়াংচুক Desi Media Point-কে জানান, তরুণদের এই গণবিক্ষোভের পর দেশটির সামগ্রিক পরিস্থিতি ও জনমনে এক উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।
তরুণেরা এখন পূর্বের চেয়ে অধিক আত্মবিশ্বাসী। তারা এখন উপলব্ধি করছে যে, নিজেদের ইচ্ছাশক্তিতে তারা যেকোনো পরিস্থিতি পরিবর্তন করতে সক্ষম। তারা এখন বুঝতে পেরেছে যে, অন্যায় বা অপছন্দের সবকিছু নীরবে মেনে নিতে তারা বাধ্য নয়।
২০১৪ সালে ভারতে মোদি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে তাকে দেশের অভ্যন্তরে যে কয়েকটি বড় গণ-আন্দোলনের মুখোমুখি হতে হয়েছে, তার অন্যতম ছিল ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ব্যানারে জুন ও জুলাই মাসের এই আন্দোলন। রাজধানী নয়াদিল্লিসহ আরও কয়েকটি শহরে হওয়া ওই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের অধিকাংশই ছিলেন জেন-জি প্রজন্ম হিসেবে পরিচিত তরুণ সমাজ।
ওয়াংচুক জুন ও জুলাই মাসে দিল্লির তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যে টানা ২৬ দিন অনশন করেন। এই সময়ে তিনি কেবল লবণ ও পানি গ্রহণ করেছিলেন। তিনি জানান, অনশনের কারণে তাঁর ১১ কেজি ওজন কমে গিয়েছিল, যা থেকে বর্তমানে ছয় কেজি পুনরুদ্ধার হয়েছে।
দিল্লি পুলিশ ওয়াংচুককে অনশন মঞ্চ থেকে জোর করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। তিনি বলেন, অনশনের শেষ ছয় দিন হাসপাতালে থাকাকালীন তাঁর মনে হয়েছিল তিনি কারাগারে আছেন, হাসপাতালে নন।
ওয়াংচুককে জোর করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর আন্দোলন আরও বেগবান হয় এবং এটি ভারতের সাম্প্রতিক বছরগুলোর অন্যতম বৃহৎ সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়।
ওয়াংচুক অনশন শেষ করার (২৩ জুলাই মধ্যরাতের পর) পরদিন ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগের ঘোষণা দেন।
এছাড়াও, মোদি সরকার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিচারের জন্য দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল গঠনের ঘোষণা দিয়েছে এবং পরীক্ষাব্যবস্থা সংস্কারের উদ্যোগে নেতৃত্ব দিতে একজন প্রযুক্তি খাতের বিলিয়নিয়ারকে নিয়োগ করেছে।
সরকার প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে মানসিক চাপে আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণাও দিয়েছে।
যদিও ভারতে এই সমস্যার শিকড় আরও গভীরে প্রোথিত। গত ২৫ বছর ধরে দেশটিতে স্নাতক ডিগ্রিধারীদের মধ্যে বেকারত্বের হার ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশের মধ্যে ওঠানামা করছে।
ওয়াংচুকের মতে, এই সংকট মোকাবিলায় শিক্ষাব্যবস্থায় মৌলিক ও ব্যাপক সংস্কার আনা অত্যাবশ্যক।
ওয়াংচুক মনে করেন, বর্তমান পরীক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে চাকরির বাজারের চাহিদার খুব সামান্যই সম্পর্ক রয়েছে। তিনি বলেন, অধিকাংশ পরীক্ষাই বহু নির্বাচনী প্রশ্নের (এমসিকিউ) ওপর ভিত্তি করে তৈরি, যার মূল উদ্দেশ্য দ্রুত লাখো শিক্ষার্থীর মূল্যায়ন করা। কিন্তু এসব পরীক্ষা শিক্ষার্থীদের দক্ষতা, সৃজনশীলতা ও বিষয়বস্তুর প্রকৃত বোঝাপড়া কতটা যাচাই করতে পারে, সে বিষয় প্রায়শই বিবেচনায় নেওয়া হয় না। এর ফলস্বরূপ স্কুলগুলোও সেই পরীক্ষাকেন্দ্রিক পদ্ধতি অনুসরণ করে পাঠদান করে।
যদি পরীক্ষায় ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা ও শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক যোগ্যতার ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়, তবে স্কুলগুলোও তাদের শিক্ষাদান পদ্ধতি পরিবর্তন করতে বাধ্য হবে বলে মনে করেন ওয়াংচুক। এমন শিক্ষাপদ্ধতি দেশটির বেকারত্ব সমস্যা মোকাবিলায়ও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারবে।
ওয়াংচুক বলেন, ‘আগামী ১৫ বছরে বিশ্ব এবং দেশ কেমন হতে পারে, সে সম্পর্কে আগাম পরিকল্পনা ও দূরদর্শী চিন্তাভাবনা থাকা দরকার’।
ওয়াংচুকের মতে, শিশুদের শেখানোর পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা গেলে এমন একটি কর্মশক্তি গড়ে তোলা সম্ভব হবে, যেখানে একদিকে তরুণেরা বেকার থাকবে না; অন্যদিকে জনবল প্রয়োজন এমন খাতগুলোও দক্ষ কর্মীর অভাবে পিছিয়ে পড়বে না।
যদিও ভারত সরকার দাবি করে, দেশটিতে কর্মসংস্থানের অভাব বা বেকারত্ব নিয়ে যে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে, তা অতিরঞ্জিত।
পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে তরুণদের ওই আন্দোলনে সোনম ওয়াংচুক সংহতি প্রকাশ করে অনশনে বসেছিলেন। তাঁর অনশন কর্মসূচি এই আন্দোলনকে ব্যাপকভাবে উদ্দীপ্ত করেছিল।
পরবর্তীতে, তরুণদের ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে গত ২৫ জুলাই শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগে বাধ্য হন।
ভারতের সুপরিচিত পরিবেশ আন্দোলনকর্মী সোনম ওয়াংচুক Desi Media Point-কে জানান, তরুণদের এই গণবিক্ষোভের পর দেশটির সামগ্রিক পরিস্থিতি ও জনমনে এক উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।
তরুণেরা এখন পূর্বের চেয়ে অধিক আত্মবিশ্বাসী। তারা এখন উপলব্ধি করছে যে, নিজেদের ইচ্ছাশক্তিতে তারা যেকোনো পরিস্থিতি পরিবর্তন করতে সক্ষম। তারা এখন বুঝতে পেরেছে যে, অন্যায় বা অপছন্দের সবকিছু নীরবে মেনে নিতে তারা বাধ্য নয়।
২০১৪ সালে ভারতে মোদি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে তাকে দেশের অভ্যন্তরে যে কয়েকটি বড় গণ-আন্দোলনের মুখোমুখি হতে হয়েছে, তার অন্যতম ছিল ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ব্যানারে জুন ও জুলাই মাসের এই আন্দোলন। রাজধানী নয়াদিল্লিসহ আরও কয়েকটি শহরে হওয়া ওই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের অধিকাংশই ছিলেন জেন-জি প্রজন্ম হিসেবে পরিচিত তরুণ সমাজ।
ওয়াংচুক জুন ও জুলাই মাসে দিল্লির তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যে টানা ২৬ দিন অনশন করেন। এই সময়ে তিনি কেবল লবণ ও পানি গ্রহণ করেছিলেন। তিনি জানান, অনশনের কারণে তাঁর ১১ কেজি ওজন কমে গিয়েছিল, যা থেকে বর্তমানে ছয় কেজি পুনরুদ্ধার হয়েছে।
দিল্লি পুলিশ ওয়াংচুককে অনশন মঞ্চ থেকে জোর করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। তিনি বলেন, অনশনের শেষ ছয় দিন হাসপাতালে থাকাকালীন তাঁর মনে হয়েছিল তিনি কারাগারে আছেন, হাসপাতালে নন।
ওয়াংচুককে জোর করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর আন্দোলন আরও বেগবান হয় এবং এটি ভারতের সাম্প্রতিক বছরগুলোর অন্যতম বৃহৎ সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়।
ওয়াংচুক অনশন শেষ করার (২৩ জুলাই মধ্যরাতের পর) পরদিন ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগের ঘোষণা দেন।
এছাড়াও, মোদি সরকার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিচারের জন্য দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল গঠনের ঘোষণা দিয়েছে এবং পরীক্ষাব্যবস্থা সংস্কারের উদ্যোগে নেতৃত্ব দিতে একজন প্রযুক্তি খাতের বিলিয়নিয়ারকে নিয়োগ করেছে।
সরকার প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে মানসিক চাপে আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণাও দিয়েছে।
যদিও ভারতে এই সমস্যার শিকড় আরও গভীরে প্রোথিত। গত ২৫ বছর ধরে দেশটিতে স্নাতক ডিগ্রিধারীদের মধ্যে বেকারত্বের হার ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশের মধ্যে ওঠানামা করছে।
ওয়াংচুকের মতে, এই সংকট মোকাবিলায় শিক্ষাব্যবস্থায় মৌলিক ও ব্যাপক সংস্কার আনা অত্যাবশ্যক।
ওয়াংচুক মনে করেন, বর্তমান পরীক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে চাকরির বাজারের চাহিদার খুব সামান্যই সম্পর্ক রয়েছে। তিনি বলেন, অধিকাংশ পরীক্ষাই বহু নির্বাচনী প্রশ্নের (এমসিকিউ) ওপর ভিত্তি করে তৈরি, যার মূল উদ্দেশ্য দ্রুত লাখো শিক্ষার্থীর মূল্যায়ন করা। কিন্তু এসব পরীক্ষা শিক্ষার্থীদের দক্ষতা, সৃজনশীলতা ও বিষয়বস্তুর প্রকৃত বোঝাপড়া কতটা যাচাই করতে পারে, সে বিষয় প্রায়শই বিবেচনায় নেওয়া হয় না। এর ফলস্বরূপ স্কুলগুলোও সেই পরীক্ষাকেন্দ্রিক পদ্ধতি অনুসরণ করে পাঠদান করে।
যদি পরীক্ষায় ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা ও শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক যোগ্যতার ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়, তবে স্কুলগুলোও তাদের শিক্ষাদান পদ্ধতি পরিবর্তন করতে বাধ্য হবে বলে মনে করেন ওয়াংচুক। এমন শিক্ষাপদ্ধতি দেশটির বেকারত্ব সমস্যা মোকাবিলায়ও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারবে।
ওয়াংচুক বলেন, ‘আগামী ১৫ বছরে বিশ্ব এবং দেশ কেমন হতে পারে, সে সম্পর্কে আগাম পরিকল্পনা ও দূরদর্শী চিন্তাভাবনা থাকা দরকার’।
ওয়াংচুকের মতে, শিশুদের শেখানোর পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা গেলে এমন একটি কর্মশক্তি গড়ে তোলা সম্ভব হবে, যেখানে একদিকে তরুণেরা বেকার থাকবে না; অন্যদিকে জনবল প্রয়োজন এমন খাতগুলোও দক্ষ কর্মীর অভাবে পিছিয়ে পড়বে না।
যদিও ভারত সরকার দাবি করে, দেশটিতে কর্মসংস্থানের অভাব বা বেকারত্ব নিয়ে যে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে, তা অতিরঞ্জিত।
