Wed 5th Aug 2026, 2:53 am

ইরানের প্রতি ট্রাম্পের চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি: 'এটিই শেষ সুযোগ'

ইরানের প্রতি ট্রাম্পের চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি: 'এটিই শেষ সুযোগ'
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও দাবি করেছেন যে ইরানের সঙ্গে আলোচনা চলছে, যদিও তেহরান তাৎক্ষণিকভাবে এ দাবি অস্বীকার করেছে। এমন পরিস্থিতিতে ট্রাম্প ইরানকে সতর্ক করে বলেছেন যে, একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য এটিই তাদের ‘শেষ সুযোগ’, অন্যথায় দেশটিকে ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে।

সোমবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প উল্লেখ করেন, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং কাতারসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি মিত্র দেশের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি ইরানের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রাখতে সম্মত হয়েছেন। তবে, একই দিনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ট্রাম্পের এ দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে যে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো প্রকার আলোচনা চলছে না। এর বিপরীতে ট্রাম্প নিজের দাবিতে অটল থেকে বলেন, ‘আমরা এখন আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি।’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনায় দুটি বিষয় গুরুত্ব পাচ্ছে। এর মধ্যে একটি হলো হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়া, যা তার মতে ‘হয়তো আগামীকালই’ সম্ভব। অন্যটি হলো ইরানের পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ, যার বাস্তবায়নে কিছুটা সময় লাগতে পারে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে আকস্মিক হামলার পর থেকে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘাত চলছে। পাঁচ মাসের বেশি সময় ধরে মাঝেমধ্যে কূটনৈতিক আলোচনার পরও এই যুদ্ধ পুরোপুরি থামেনি। হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করা যুদ্ধের আলোচনায় অন্যতম প্রধান প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়িয়েছে। যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর ইরান আবারও এ প্রণালিতে অবরোধ জোরদার করেছে, বাণিজ্যিক জাহাজের চলাচলে বাধা দিচ্ছে এবং কিছু ক্ষেত্রে জাহাজে গুলি চালিয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, ‘হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে ওমানের সঙ্গে আমাদের আলোচনা হচ্ছে।’

এদিকে, আজ মঙ্গলবার সকালে যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও (UKMTO) জানায়, ওমান উপকূলসংলগ্ন হরমুজ প্রণালিতে পণ্যবাহী একটি জাহাজে ‘অজ্ঞাত উৎস থেকে ক্ষেপণাস্ত্র’ আঘাত হেনেছে। তবে জাহাজটির নাম, সম্ভাব্য হতাহতের সংখ্যা ও ক্ষয়ক্ষতির তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

গত সপ্তাহে ট্রাম্প ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোয় বড় ধরনের হামলার হুমকি দিলেও, গত শনিবার তিনি সে অবস্থান থেকে সরে এসে বলেন, একটি চুক্তির ‘কাঠামো’ প্রায় প্রস্তুত। অন্যদিকে, ইরান আবারও জোর দিয়ে বলেছে যে তারা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা করছে না।

সপ্তাহান্তে এয়ারফোর্স ওয়ানে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি মিত্রদেশ তাঁকে ইরানে নতুন করে হামলা না চালানোর অনুরোধ জানিয়েছে। তা না হলে ইরানে যে হামলা চালানো হতো, তা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় কোনো হামলার ঘটনা হতো।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প আরও বলেন, ‘ইরান স্বীকার করুক বা না করুক, বহু বছর ধরে তাদের তৈরি করা এ সংকটের সমাধান নিয়ে আমরা সত্যিই আলোচনা করছি।’ তিনি হুঁশিয়ারি দেন, ‘ইরানের বন্দরগুলোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা অবরোধ কার্যকর রয়েছে। আমরা না চাইলে ইরানে কিছুই পৌঁছাতে পারবে না। আর কোনো চুক্তি বা পুরোপুরি আত্মসমর্পণ না করলে দেশটিতে কিছুই পৌঁছাতে দেওয়া হবে না।’

যুদ্ধ শুরুর আগে হরমুজ প্রণালি দিয়ে অবাধে জাহাজ চলাচল করত। তবে এখন ইরান প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখতে এবং জাহাজ থেকে ফি আদায় করতে চায়, যা যুক্তরাষ্ট্র মানছে না। বর্তমানে ইরান জাহাজগুলোকে শুধু নিজেদের উপকূলঘেঁষা পথ ব্যবহার করতে দিচ্ছে।

গত রোববার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বাঘাই বলেন, হরমুজের ব্যবস্থাপনা নিয়ে ওমানের সঙ্গে সমঝোতার কাছাকাছি পৌঁছেছে তেহরান। বাঘাই আরও বলেন, ‘আমরা এমন একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে যাচ্ছি, যা উভয় পক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে। উভয় দেশের সার্বভৌম অধিকার, জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে এটি করা হবে।’ তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, সমঝোতা হলেও হরমুজ প্রণালি (এখনই) আবার খুলে দেওয়ার সম্ভাবনা নেই।

যুদ্ধের শুরু থেকেই ট্রাম্প দাবি করে আসছেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঠেকাতেই এ যুদ্ধের প্রয়োজন। গতকালও তিনি বলেন, ‘অবশ্যই ইরানের পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ নিশ্চিত করতে হবে।’ পশ্চিমা দেশগুলোর অভিযোগ, ইরান গোপনে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে। তবে তেহরানের দাবি, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বেসামরিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত।

গত মাসে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তিও শেষ পর্যন্ত ভেঙে পড়েছে। ওই চুক্তির আওতায় উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে জ্বালানিবাহী জাহাজ চলাচলের জন্য হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার কথা ছিল।