পাকিস্তানের বৃহত্তম শহর করাচির একটি সরকারি হাসপাতালে এইচআইভি সংক্রমণ ছড়িয়ে অন্তত ১৩০ জন আক্রান্ত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই শিশু। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
সিন্ধু প্রদেশের শ্রমমন্ত্রী সাঈদ গনি এই সপ্তাহের শুরুতে তথ্য জানান যে, কুলসুম বাই ভালিকা (কেবিভি) হাসপাতাল এবং এর পার্শ্ববর্তী এলাকায় ১০,৫০০-এর বেশি মানুষের স্ক্রিনিং করা হয়েছে। এর মধ্যে ১২০ জনের শরীরে এইচআইভি শনাক্ত হয়েছে। সিন্ধু এমপ্লয়িজ সোশ্যাল সিকিউরিটি ইনস্টিটিউশন (সেসি) এই হাসপাতালটি পরিচালনা করে।
এছাড়াও, করাচির লান্ধি এলাকায় সেসি পরিচালিত আরেকটি কেন্দ্রে আলাদা পরীক্ষা চালিয়ে আরও ১০ জনের শরীরে এইচআইভি শনাক্ত হয়েছে। সেসি একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রাদেশিক সংস্থা, যা সিন্ধু প্রদেশের শিল্প ও বাণিজ্য খাতের শ্রমিক এবং তাদের নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের স্বাস্থ্যসেবা, চিকিৎসাসুবিধা ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করে।
কেবিভি হাসপাতালে এই সংকটটি প্রথম নজরে আসে ২০২৫ সালের নভেম্বরে, যখন করাচির 'সাইট টাউন' এলাকার বাসিন্দারা লক্ষ্য করেন যে, ওই হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া বেশ কয়েকজন শিশু একইসাথে সংক্রমিত হয়েছে। যদিও কর্মকর্তারা এই সংক্রমণের শুরুটা ২০২৫ সালের অক্টোবর মাস থেকে হিসাব করছেন, যখন প্রাদেশিক স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে প্রথমবারের মতো ছয়জন এইচআইভি পজিটিভ রোগীর তথ্য আসে।
তাহলে আসলে কী ঘটেছিল? কেনইবা এভাবে এইচআইভি ছড়িয়ে পড়ল? আর সিন্ধু প্রদেশে কেন বারবার এ ধরনের ঘটনা ঘটছে?
**চলতি মাসে কী ঘটেছে?**
গত ১৪ জুলাই মুখ্যমন্ত্রী মুরাদ আলী শাহকে দুটি তদন্তের বিষয়ে জানানো হয়, যেখানে বড় ধরনের বেশ কিছু গাফিলতির প্রমাণ মিলেছে। এর মধ্যে রয়েছে—সংক্রমণ প্রতিরোধের নিয়মকানুন যথাযথভাবে অনুসরণ না করা, সুরক্ষাসামগ্রীর অপর্যাপ্ত ব্যবহার এবং একবার ব্যবহারযোগ্য (সিঙ্গেল ইউজ) সিরিঞ্জের ভুল ব্যবহার।
গত বছরের নভেম্বরে প্রথম তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছিল, যেখানে ১৬ জন শিশুর শরীরে এইচআইভি শনাক্তের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। এই শিশুরা সবাই কেবিভি হাসপাতালের শিশু বিভাগে কোনো না কোনো সময়ে চিকিৎসার জন্য গিয়েছিল। এরপর গত ১৯ জুন প্রাদেশিক ন্যায়পালের কাছে দ্বিতীয় ও আরও বিস্তারিত একটি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। এই প্রতিবেদনে ৭৮ জনের আক্রান্ত হওয়া এবং ৬ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। সেখানে প্রশাসনিক ও তদারকির ব্যর্থতার জন্য হাসপাতালের নির্দিষ্ট কর্মীদের দায়ী করা হয়েছে।
এরপর থেকে আক্রান্তের সংখ্যা কেবলই বেড়েছে। সেসির কেন্দ্রগুলোতে নতুন করে আরও অনেকের শরীরে সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। প্রাদেশিক শ্রমমন্ত্রী সাঈদ গনি জানিয়েছেন, আক্রান্ত সব রোগীই ২০২৫ সালের অক্টোবরের আগে সংক্রমিত হয়েছেন বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। তিনি আরও বলেন, ‘নতুন রোগী পাওয়া যেতে পারে—এমন আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও পরীক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া হবে।’
গত ৩ জুলাই হাসপাতালটির ৩৭ জন চিকিৎসক ও কর্মীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে। জবাব দেওয়ার জন্য তাঁদের সময় দেওয়া হয়েছে ১৪ দিন। সাঈদ গনি জানান, তদন্তে যাঁরা দোষী সাব্যস্ত হবেন, তাঁদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করা হবে এবং চাকরি থেকেও বরখাস্ত করা হবে। এ ঘটনায় নিজের ‘পরোক্ষ দায়’ স্বীকার করেছেন মন্ত্রী সাঈদ গনি। তিনি বলেন, এমনকি পদত্যাগ করলে যদি এই সংকটের সমাধান হয়, তবে তাতেও তাঁর আপত্তি নেই।
**এটি কি একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা?**
সিন্ধু হাইকোর্টে করা এক রিট আবেদনে অভিযোগ করা হয় যে, সিরিঞ্জ বারবার ব্যবহারের কারণেই এইচআইভি ছড়িয়েছে। তবে ৪ জুলাই সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে গনি দাবি করেন, সংক্রমণ সিরিঞ্জের পুনর্ব্যবহারের কারণে ঘটেনি। তাঁর যুক্তি হলো, কেবিভি হাসপাতালে ‘অটো-ডিজেবল’ বা স্বয়ংক্রিয়ভাবে অকেজো হয়ে যাওয়া সিরিঞ্জ ব্যবহার করা হয়, যা দ্বিতীয়বার ব্যবহারের সুযোগ নেই।
তবে সরকারি তদন্ত প্রতিবেদনগুলো বলছে ভিন্ন কথা। সেখানে বলা হয়েছে, সংক্রমণ প্রতিরোধের পুরো ব্যবস্থাই ভেঙে পড়েছিল। গাফিলতির মধ্যে রয়েছে স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিধি না মানা, সুরক্ষাসামগ্রীর অপর্যাপ্ত ব্যবহার এবং একবার ব্যবহারযোগ্য সিরিঞ্জের ভুল ব্যবহার। সিন্ধু হাইকোর্টে দায়ের করা ওই রিট আবেদনে আরও অভিযোগ করা হয়, সরকারিভাবে যে হিসাব দেওয়া হচ্ছে, আক্রান্তের প্রকৃত সংখ্যা তার চেয়ে অনেক বেশি।
সিন্ধু প্রদেশে বড় পরিসরে এইচআইভি ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা এটাই প্রথম নয়। গত বছরের ডিসেম্বরে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এবং ইউএনএইডস পাকিস্তানের এই সংকটকে ডব্লিউএইচওর পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের দ্রুত বর্ধনশীল এইচআইভি মহামারিগুলোর একটি হিসেবে চিহ্নিত করে। এই অঞ্চলে ২১টি দেশ রয়েছে। গত ১৫ বছরে পাকিস্তানে বার্ষিক এইচআইভি সংক্রমণের হার ২০০ শতাংশ বেড়েছে। ২০১০ সালে দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১৬ হাজার, যা ২০২৪ সালে এসে ৪৮ হাজারে দাঁড়িয়েছে।
গত ১ ডিসেম্বর বিশ্ব এইডস দিবস উপলক্ষে সংস্থা দুটি একটি যৌথ বিবৃতি দেয়। সেখানে ধারণা দেওয়া হয়, পাকিস্তানে বর্তমানে প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষ এইচআইভি নিয়ে বেঁচে আছেন। এর মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ জানেনই না যে তাঁরা আক্রান্ত। ওই বিবৃতিতে আরও বলা হয়, শূন্য থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে এইচআইভি সংক্রমণের হারও বেড়েছে। ২০১০ সালে এই সংখ্যা ছিল ৫৩০, যা ২০২৩ সালে বেড়ে ১ হাজার ৮০০ জনে দাঁড়িয়েছে। এইচআইভি আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে মাত্র ৩৮ শতাংশ চিকিৎসা পাচ্ছে। অন্যদিকে মায়ের কাছ থেকে শিশুর শরীরে সংক্রমণ ঠেকাতে থেরাপি প্রয়োজন এমন গর্ভবতী নারীদের মাত্র ১৪ শতাংশ এই সেবা পান।
গত জুনে ব্রিটিশ মেডিক্যাল জার্নাল ‘দ্য ল্যানসেট এইচআইভি’-তে চিকিৎসকেরা একটি নিবন্ধ লেখেন। সেখানে তাঁরা যুক্তি দেন, পাকিস্তানের এই মহামারি এখন ‘বড় অংশে চিকিৎসাব্যবস্থার মাধ্যমেই’ ছড়িয়ে পড়ছে। অনিরাপদ চিকিৎসাপদ্ধতির কারণে বারবার এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঘটছে বলে তাঁরা উল্লেখ করেন। তবে এই মূল্যায়ন এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি।
বারবার এই প্রাদুর্ভাবের কারণে চিকিৎসাব্যবস্থার অনিরাপদ দিকগুলো সামনে এসেছে। তবে গবেষকেরা বলছেন, পাকিস্তানে বিস্তৃত নজরদারিব্যবস্থারও ঘাটতি রয়েছে। যৌন মিলন, মায়ের থেকে শিশুতে সংক্রমণ কিংবা শিরায় মাদক নেওয়ার তুলনায় স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলো থেকে দেশজুড়ে ঠিক কতজন এইচআইভিতে সংক্রমিত হচ্ছেন, তা নির্ধারণ করা যাচ্ছে না। করাচির আগা খান ইউনিভার্সিটি হাসপাতালের সংক্রামক রোগ বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দ ফয়সাল মাহমুদ এ বিষয়ে সতর্ক হওয়ার তাগিদ দিয়েছেন।
অধ্যাপক ফয়সাল আল-জাজিরাকে বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে সংক্রমণ ছড়ানোর ক্ষেত্রে প্রধান কারণ ঠিক কোনটি, তা নিশ্চিত করে বলা প্রায় অসম্ভব।’ যৌন সম্পর্ক, মায়ের কাছ থেকে শিশুতে সংক্রমণ এবং শিরায় মাদক গ্রহণের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এসব ক্ষেত্রে সংখ্যাগুলো তুলনামূলকভাবে বেশ নির্ভরযোগ্য। কারণ, প্রতিষ্ঠিত নজরদারি কাঠামোর মাধ্যমে এই বিষয়গুলোতে বিস্তর কাজ করা হয়েছে।’ অধ্যাপক সৈয়দ ফয়সাল আরও বলেন, ‘ক্লিনিক, হাসপাতাল বা হাতুড়ে চিকিৎসকদের কাছে গিয়ে কত মানুষ এইচআইভিতে আক্রান্ত হয়েছেন, তা পর্যবেক্ষণের জন্য কাঠামোগত কোনো নজরদারি ব্যবস্থা নেই।’
এই প্রবণতা শুধু কেবিভি হাসপাতালেই সীমাবদ্ধ নেই। করাচির আরও তিনটি হাসপাতালে এইচআইভি আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা বাড়ার খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে একটি হাসপাতালে ২০২৪ সালে আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছিল ১০ জন। ২০২৫ সালে তা বেড়ে ৭০ জনে দাঁড়িয়েছে। ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে সিন্ধু প্রদেশে ৮৯৪ জন এইচআইভি রোগী শনাক্ত হয়। এর মধ্যে ৩২৯ জনই শিশু। এ বিষয়ে গত এপ্রিলে সতর্ক করে পাকিস্তান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন বলেছিল, এই পরিসংখ্যানটি মূলত ‘হিমশৈলের চূড়া মাত্র’।
ফয়সাল মাহমুদের মতে, এসব ঘটনা আরও বড় কোনো সমস্যার ইঙ্গিত দিচ্ছে। সৈয়দ ফয়সাল বলেন, ‘আমরা যারা এ ক্ষেত্রে কাজ করছি, তাদের অনেকের কাছেই এটি একটি পদ্ধতিগত সমস্যা। এর সঙ্গে কোনো একটি নির্দিষ্ট হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার সম্পর্ক নেই। বরং সারা দেশে স্বাস্থ্যসেবার প্রতিটি স্তরেই ইনজেকশনের সিরিঞ্জ ব্যবহারের ক্ষেত্রে চরম অবহেলা ও নিরাপত্তাহীনতা ছড়িয়ে আছে।’
শুধু শিশুরাই এর শিকার হচ্ছে না বলেও জানান ফয়সাল। তিনি ডায়ালাইসিস কেন্দ্রগুলোতে অনিরাপদ রক্ত সঞ্চালনের কারণে ঘটা প্রাদুর্ভাবের দিকেও ইঙ্গিত করেন। হেপাটাইটিস ‘সি’ আক্রান্ত রোগীর সংখ্যায়ও বিশ্বে শীর্ষ দেশগুলোর একটি পাকিস্তান। ফয়সাল মাহমুদ বলেন, বর্তমানে এইচআইভি ছড়ানোর পেছনে যেসব কারণ বা পদ্ধতি কাজ করছে, ঠিক একই কারণে হেপাটাইটিস সি-ও ছড়াচ্ছে।
**কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে?**
সিরিঞ্জ নিয়ন্ত্রণ ও ফেলার ক্ষেত্রে প্রাদেশিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে একটি আবেদন করা হয়েছিল। এর জন্য সিন্ধু হাইকোর্ট প্রাদেশিক সরকারকে ২০ জুলাই পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছেন। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ৩ জুলাই সারা দেশে মানহীন সিরিঞ্জ ব্যবহার বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন। ড্রাগ রেগুলেটরি অথরিটি অব পাকিস্তান পরে জানায়, ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে পুনর্ব্যবহারযোগ্য সাধারণ সিরিঞ্জের খুচরা বিক্রি পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হবে। কারণ, ‘অটো-ডিজেবল’ সিরিঞ্জগুলো একবার ব্যবহারের পর এর প্লাঞ্জার আটকে যায় বা ভেঙে যায়, কিন্তু সাধারণ সিরিঞ্জে সেই সুবিধা নেই।
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী মুস্তাফা কামাল বলেছেন, সারা দেশে যেকোনো অস্ত্রোপচারের আগে এইচআইভি পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা হবে। তবে তিনি বর্তমান পরিস্থিতিকে বড় পরিসরে ‘মহামারি’ বলার বিষয়ে সতর্ক করেছেন। এদিকে প্রাদেশিক ন্যায়পাল বিষয়টি নজরে নেওয়ার পর বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে সিন্ধু সরকার। আক্রান্ত শিশুদের দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার জন্য ২০০ কোটি রুপির (৭২ লাখ মার্কিন ডলার) একটি তহবিল অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি একটি আইসোলেশন ওয়ার্ড স্থাপন এবং কেবিভি হাসপাতালের কেনাকাটা ও সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার ওপর তৃতীয় পক্ষের (থার্ড পার্টি) নিরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এ বিষয়ে সিন্ধু প্রদেশের স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের মন্তব্য জানতে আল-জাজিরার পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয়েছিল। তবে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে ফয়সাল মাহমুদ বলেন, সিরিঞ্জ নিষিদ্ধ করার মতো পদক্ষেপগুলো এই সমস্যার আংশিক সমাধান মাত্র। তাঁর মতে, পাকিস্তানের প্রায় ৬০ শতাংশ চিকিৎসাসেবা দিয়ে থাকে বেসরকারি খাত। আর এই খাতকে নিয়ন্ত্রণ বা নজরদারিতে রাখাটা অনেক বেশি কঠিন।
ফয়সাল মাহমুদ বলেন, ‘বেসরকারি খাত নিয়ন্ত্রণ করা বেশ কঠিন। এর আওতায় শুধু হাসপাতালই নয়, বরং অনেক ক্লিনিক, ফার্মেসি এবং এ ধরনের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানও রয়েছে। হেলথকেয়ার কমিশনগুলো নামমাত্র এগুলো তদারকি করে। কারণ, প্রতিটি প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করার মতো পর্যাপ্ত জনবল তাদের নেই।’ ফয়সাল আরও বলেন, পাকিস্তানের চিকিৎসাসেবায় ইনজেকশনের অনিরাপদ ব্যবহার একেবারে গভীরভাবে মিশে আছে। শুধু দুর্বল নজরদারিই নয়, বরং রোগীদের প্রত্যাশাও এর একটি বড় কারণ।
তিনি ব্যাখ্যা করেন, ‘চিকিৎসকের কাছে এলে রোগীরা আশা করেন যে তাঁদের ইনজেকশন দেওয়া হবে। কারণ তাঁরা বিশ্বাস করেন, এতে তাঁরা দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন। অনেক সময় স্বাস্থ্যকর্মীরাও এমনটাই ভাবেন।’ ফয়সালের ভাষায়, ‘সব মিলিয়ে এটি যেন একটি বড় বিপর্যয়ের ক্ষেত্র তৈরি করেছে। প্রচুর ইনজেকশন দেওয়া হচ্ছে, এসবের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই, নিরাপদ ইনজেকশন পদ্ধতি সম্পর্কে জ্ঞান সীমিত, ঠিকমতো ইনজেকশন দেওয়া হচ্ছে কি না, তার কোনো নজরদারি নেই এবং অনিরাপদ চর্চার জন্য কাউকে শাস্তির মুখেও পড়তে হয় না।’
সিন্ধু প্রদেশের শ্রমমন্ত্রী সাঈদ গনি এই সপ্তাহের শুরুতে তথ্য জানান যে, কুলসুম বাই ভালিকা (কেবিভি) হাসপাতাল এবং এর পার্শ্ববর্তী এলাকায় ১০,৫০০-এর বেশি মানুষের স্ক্রিনিং করা হয়েছে। এর মধ্যে ১২০ জনের শরীরে এইচআইভি শনাক্ত হয়েছে। সিন্ধু এমপ্লয়িজ সোশ্যাল সিকিউরিটি ইনস্টিটিউশন (সেসি) এই হাসপাতালটি পরিচালনা করে।
এছাড়াও, করাচির লান্ধি এলাকায় সেসি পরিচালিত আরেকটি কেন্দ্রে আলাদা পরীক্ষা চালিয়ে আরও ১০ জনের শরীরে এইচআইভি শনাক্ত হয়েছে। সেসি একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রাদেশিক সংস্থা, যা সিন্ধু প্রদেশের শিল্প ও বাণিজ্য খাতের শ্রমিক এবং তাদের নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের স্বাস্থ্যসেবা, চিকিৎসাসুবিধা ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করে।
কেবিভি হাসপাতালে এই সংকটটি প্রথম নজরে আসে ২০২৫ সালের নভেম্বরে, যখন করাচির 'সাইট টাউন' এলাকার বাসিন্দারা লক্ষ্য করেন যে, ওই হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া বেশ কয়েকজন শিশু একইসাথে সংক্রমিত হয়েছে। যদিও কর্মকর্তারা এই সংক্রমণের শুরুটা ২০২৫ সালের অক্টোবর মাস থেকে হিসাব করছেন, যখন প্রাদেশিক স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে প্রথমবারের মতো ছয়জন এইচআইভি পজিটিভ রোগীর তথ্য আসে।
তাহলে আসলে কী ঘটেছিল? কেনইবা এভাবে এইচআইভি ছড়িয়ে পড়ল? আর সিন্ধু প্রদেশে কেন বারবার এ ধরনের ঘটনা ঘটছে?
**চলতি মাসে কী ঘটেছে?**
গত ১৪ জুলাই মুখ্যমন্ত্রী মুরাদ আলী শাহকে দুটি তদন্তের বিষয়ে জানানো হয়, যেখানে বড় ধরনের বেশ কিছু গাফিলতির প্রমাণ মিলেছে। এর মধ্যে রয়েছে—সংক্রমণ প্রতিরোধের নিয়মকানুন যথাযথভাবে অনুসরণ না করা, সুরক্ষাসামগ্রীর অপর্যাপ্ত ব্যবহার এবং একবার ব্যবহারযোগ্য (সিঙ্গেল ইউজ) সিরিঞ্জের ভুল ব্যবহার।
গত বছরের নভেম্বরে প্রথম তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছিল, যেখানে ১৬ জন শিশুর শরীরে এইচআইভি শনাক্তের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। এই শিশুরা সবাই কেবিভি হাসপাতালের শিশু বিভাগে কোনো না কোনো সময়ে চিকিৎসার জন্য গিয়েছিল। এরপর গত ১৯ জুন প্রাদেশিক ন্যায়পালের কাছে দ্বিতীয় ও আরও বিস্তারিত একটি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। এই প্রতিবেদনে ৭৮ জনের আক্রান্ত হওয়া এবং ৬ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। সেখানে প্রশাসনিক ও তদারকির ব্যর্থতার জন্য হাসপাতালের নির্দিষ্ট কর্মীদের দায়ী করা হয়েছে।
এরপর থেকে আক্রান্তের সংখ্যা কেবলই বেড়েছে। সেসির কেন্দ্রগুলোতে নতুন করে আরও অনেকের শরীরে সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। প্রাদেশিক শ্রমমন্ত্রী সাঈদ গনি জানিয়েছেন, আক্রান্ত সব রোগীই ২০২৫ সালের অক্টোবরের আগে সংক্রমিত হয়েছেন বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। তিনি আরও বলেন, ‘নতুন রোগী পাওয়া যেতে পারে—এমন আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও পরীক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া হবে।’
গত ৩ জুলাই হাসপাতালটির ৩৭ জন চিকিৎসক ও কর্মীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে। জবাব দেওয়ার জন্য তাঁদের সময় দেওয়া হয়েছে ১৪ দিন। সাঈদ গনি জানান, তদন্তে যাঁরা দোষী সাব্যস্ত হবেন, তাঁদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করা হবে এবং চাকরি থেকেও বরখাস্ত করা হবে। এ ঘটনায় নিজের ‘পরোক্ষ দায়’ স্বীকার করেছেন মন্ত্রী সাঈদ গনি। তিনি বলেন, এমনকি পদত্যাগ করলে যদি এই সংকটের সমাধান হয়, তবে তাতেও তাঁর আপত্তি নেই।
**এটি কি একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা?**
সিন্ধু হাইকোর্টে করা এক রিট আবেদনে অভিযোগ করা হয় যে, সিরিঞ্জ বারবার ব্যবহারের কারণেই এইচআইভি ছড়িয়েছে। তবে ৪ জুলাই সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে গনি দাবি করেন, সংক্রমণ সিরিঞ্জের পুনর্ব্যবহারের কারণে ঘটেনি। তাঁর যুক্তি হলো, কেবিভি হাসপাতালে ‘অটো-ডিজেবল’ বা স্বয়ংক্রিয়ভাবে অকেজো হয়ে যাওয়া সিরিঞ্জ ব্যবহার করা হয়, যা দ্বিতীয়বার ব্যবহারের সুযোগ নেই।
তবে সরকারি তদন্ত প্রতিবেদনগুলো বলছে ভিন্ন কথা। সেখানে বলা হয়েছে, সংক্রমণ প্রতিরোধের পুরো ব্যবস্থাই ভেঙে পড়েছিল। গাফিলতির মধ্যে রয়েছে স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিধি না মানা, সুরক্ষাসামগ্রীর অপর্যাপ্ত ব্যবহার এবং একবার ব্যবহারযোগ্য সিরিঞ্জের ভুল ব্যবহার। সিন্ধু হাইকোর্টে দায়ের করা ওই রিট আবেদনে আরও অভিযোগ করা হয়, সরকারিভাবে যে হিসাব দেওয়া হচ্ছে, আক্রান্তের প্রকৃত সংখ্যা তার চেয়ে অনেক বেশি।
সিন্ধু প্রদেশে বড় পরিসরে এইচআইভি ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা এটাই প্রথম নয়। গত বছরের ডিসেম্বরে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এবং ইউএনএইডস পাকিস্তানের এই সংকটকে ডব্লিউএইচওর পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের দ্রুত বর্ধনশীল এইচআইভি মহামারিগুলোর একটি হিসেবে চিহ্নিত করে। এই অঞ্চলে ২১টি দেশ রয়েছে। গত ১৫ বছরে পাকিস্তানে বার্ষিক এইচআইভি সংক্রমণের হার ২০০ শতাংশ বেড়েছে। ২০১০ সালে দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১৬ হাজার, যা ২০২৪ সালে এসে ৪৮ হাজারে দাঁড়িয়েছে।
গত ১ ডিসেম্বর বিশ্ব এইডস দিবস উপলক্ষে সংস্থা দুটি একটি যৌথ বিবৃতি দেয়। সেখানে ধারণা দেওয়া হয়, পাকিস্তানে বর্তমানে প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষ এইচআইভি নিয়ে বেঁচে আছেন। এর মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ জানেনই না যে তাঁরা আক্রান্ত। ওই বিবৃতিতে আরও বলা হয়, শূন্য থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে এইচআইভি সংক্রমণের হারও বেড়েছে। ২০১০ সালে এই সংখ্যা ছিল ৫৩০, যা ২০২৩ সালে বেড়ে ১ হাজার ৮০০ জনে দাঁড়িয়েছে। এইচআইভি আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে মাত্র ৩৮ শতাংশ চিকিৎসা পাচ্ছে। অন্যদিকে মায়ের কাছ থেকে শিশুর শরীরে সংক্রমণ ঠেকাতে থেরাপি প্রয়োজন এমন গর্ভবতী নারীদের মাত্র ১৪ শতাংশ এই সেবা পান।
গত জুনে ব্রিটিশ মেডিক্যাল জার্নাল ‘দ্য ল্যানসেট এইচআইভি’-তে চিকিৎসকেরা একটি নিবন্ধ লেখেন। সেখানে তাঁরা যুক্তি দেন, পাকিস্তানের এই মহামারি এখন ‘বড় অংশে চিকিৎসাব্যবস্থার মাধ্যমেই’ ছড়িয়ে পড়ছে। অনিরাপদ চিকিৎসাপদ্ধতির কারণে বারবার এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঘটছে বলে তাঁরা উল্লেখ করেন। তবে এই মূল্যায়ন এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি।
বারবার এই প্রাদুর্ভাবের কারণে চিকিৎসাব্যবস্থার অনিরাপদ দিকগুলো সামনে এসেছে। তবে গবেষকেরা বলছেন, পাকিস্তানে বিস্তৃত নজরদারিব্যবস্থারও ঘাটতি রয়েছে। যৌন মিলন, মায়ের থেকে শিশুতে সংক্রমণ কিংবা শিরায় মাদক নেওয়ার তুলনায় স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলো থেকে দেশজুড়ে ঠিক কতজন এইচআইভিতে সংক্রমিত হচ্ছেন, তা নির্ধারণ করা যাচ্ছে না। করাচির আগা খান ইউনিভার্সিটি হাসপাতালের সংক্রামক রোগ বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দ ফয়সাল মাহমুদ এ বিষয়ে সতর্ক হওয়ার তাগিদ দিয়েছেন।
অধ্যাপক ফয়সাল আল-জাজিরাকে বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে সংক্রমণ ছড়ানোর ক্ষেত্রে প্রধান কারণ ঠিক কোনটি, তা নিশ্চিত করে বলা প্রায় অসম্ভব।’ যৌন সম্পর্ক, মায়ের কাছ থেকে শিশুতে সংক্রমণ এবং শিরায় মাদক গ্রহণের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এসব ক্ষেত্রে সংখ্যাগুলো তুলনামূলকভাবে বেশ নির্ভরযোগ্য। কারণ, প্রতিষ্ঠিত নজরদারি কাঠামোর মাধ্যমে এই বিষয়গুলোতে বিস্তর কাজ করা হয়েছে।’ অধ্যাপক সৈয়দ ফয়সাল আরও বলেন, ‘ক্লিনিক, হাসপাতাল বা হাতুড়ে চিকিৎসকদের কাছে গিয়ে কত মানুষ এইচআইভিতে আক্রান্ত হয়েছেন, তা পর্যবেক্ষণের জন্য কাঠামোগত কোনো নজরদারি ব্যবস্থা নেই।’
এই প্রবণতা শুধু কেবিভি হাসপাতালেই সীমাবদ্ধ নেই। করাচির আরও তিনটি হাসপাতালে এইচআইভি আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা বাড়ার খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে একটি হাসপাতালে ২০২৪ সালে আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছিল ১০ জন। ২০২৫ সালে তা বেড়ে ৭০ জনে দাঁড়িয়েছে। ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে সিন্ধু প্রদেশে ৮৯৪ জন এইচআইভি রোগী শনাক্ত হয়। এর মধ্যে ৩২৯ জনই শিশু। এ বিষয়ে গত এপ্রিলে সতর্ক করে পাকিস্তান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন বলেছিল, এই পরিসংখ্যানটি মূলত ‘হিমশৈলের চূড়া মাত্র’।
ফয়সাল মাহমুদের মতে, এসব ঘটনা আরও বড় কোনো সমস্যার ইঙ্গিত দিচ্ছে। সৈয়দ ফয়সাল বলেন, ‘আমরা যারা এ ক্ষেত্রে কাজ করছি, তাদের অনেকের কাছেই এটি একটি পদ্ধতিগত সমস্যা। এর সঙ্গে কোনো একটি নির্দিষ্ট হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার সম্পর্ক নেই। বরং সারা দেশে স্বাস্থ্যসেবার প্রতিটি স্তরেই ইনজেকশনের সিরিঞ্জ ব্যবহারের ক্ষেত্রে চরম অবহেলা ও নিরাপত্তাহীনতা ছড়িয়ে আছে।’
শুধু শিশুরাই এর শিকার হচ্ছে না বলেও জানান ফয়সাল। তিনি ডায়ালাইসিস কেন্দ্রগুলোতে অনিরাপদ রক্ত সঞ্চালনের কারণে ঘটা প্রাদুর্ভাবের দিকেও ইঙ্গিত করেন। হেপাটাইটিস ‘সি’ আক্রান্ত রোগীর সংখ্যায়ও বিশ্বে শীর্ষ দেশগুলোর একটি পাকিস্তান। ফয়সাল মাহমুদ বলেন, বর্তমানে এইচআইভি ছড়ানোর পেছনে যেসব কারণ বা পদ্ধতি কাজ করছে, ঠিক একই কারণে হেপাটাইটিস সি-ও ছড়াচ্ছে।
**কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে?**
সিরিঞ্জ নিয়ন্ত্রণ ও ফেলার ক্ষেত্রে প্রাদেশিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে একটি আবেদন করা হয়েছিল। এর জন্য সিন্ধু হাইকোর্ট প্রাদেশিক সরকারকে ২০ জুলাই পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছেন। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ৩ জুলাই সারা দেশে মানহীন সিরিঞ্জ ব্যবহার বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন। ড্রাগ রেগুলেটরি অথরিটি অব পাকিস্তান পরে জানায়, ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে পুনর্ব্যবহারযোগ্য সাধারণ সিরিঞ্জের খুচরা বিক্রি পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হবে। কারণ, ‘অটো-ডিজেবল’ সিরিঞ্জগুলো একবার ব্যবহারের পর এর প্লাঞ্জার আটকে যায় বা ভেঙে যায়, কিন্তু সাধারণ সিরিঞ্জে সেই সুবিধা নেই।
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী মুস্তাফা কামাল বলেছেন, সারা দেশে যেকোনো অস্ত্রোপচারের আগে এইচআইভি পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা হবে। তবে তিনি বর্তমান পরিস্থিতিকে বড় পরিসরে ‘মহামারি’ বলার বিষয়ে সতর্ক করেছেন। এদিকে প্রাদেশিক ন্যায়পাল বিষয়টি নজরে নেওয়ার পর বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে সিন্ধু সরকার। আক্রান্ত শিশুদের দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার জন্য ২০০ কোটি রুপির (৭২ লাখ মার্কিন ডলার) একটি তহবিল অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি একটি আইসোলেশন ওয়ার্ড স্থাপন এবং কেবিভি হাসপাতালের কেনাকাটা ও সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার ওপর তৃতীয় পক্ষের (থার্ড পার্টি) নিরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এ বিষয়ে সিন্ধু প্রদেশের স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের মন্তব্য জানতে আল-জাজিরার পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয়েছিল। তবে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে ফয়সাল মাহমুদ বলেন, সিরিঞ্জ নিষিদ্ধ করার মতো পদক্ষেপগুলো এই সমস্যার আংশিক সমাধান মাত্র। তাঁর মতে, পাকিস্তানের প্রায় ৬০ শতাংশ চিকিৎসাসেবা দিয়ে থাকে বেসরকারি খাত। আর এই খাতকে নিয়ন্ত্রণ বা নজরদারিতে রাখাটা অনেক বেশি কঠিন।
ফয়সাল মাহমুদ বলেন, ‘বেসরকারি খাত নিয়ন্ত্রণ করা বেশ কঠিন। এর আওতায় শুধু হাসপাতালই নয়, বরং অনেক ক্লিনিক, ফার্মেসি এবং এ ধরনের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানও রয়েছে। হেলথকেয়ার কমিশনগুলো নামমাত্র এগুলো তদারকি করে। কারণ, প্রতিটি প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করার মতো পর্যাপ্ত জনবল তাদের নেই।’ ফয়সাল আরও বলেন, পাকিস্তানের চিকিৎসাসেবায় ইনজেকশনের অনিরাপদ ব্যবহার একেবারে গভীরভাবে মিশে আছে। শুধু দুর্বল নজরদারিই নয়, বরং রোগীদের প্রত্যাশাও এর একটি বড় কারণ।
তিনি ব্যাখ্যা করেন, ‘চিকিৎসকের কাছে এলে রোগীরা আশা করেন যে তাঁদের ইনজেকশন দেওয়া হবে। কারণ তাঁরা বিশ্বাস করেন, এতে তাঁরা দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন। অনেক সময় স্বাস্থ্যকর্মীরাও এমনটাই ভাবেন।’ ফয়সালের ভাষায়, ‘সব মিলিয়ে এটি যেন একটি বড় বিপর্যয়ের ক্ষেত্র তৈরি করেছে। প্রচুর ইনজেকশন দেওয়া হচ্ছে, এসবের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই, নিরাপদ ইনজেকশন পদ্ধতি সম্পর্কে জ্ঞান সীমিত, ঠিকমতো ইনজেকশন দেওয়া হচ্ছে কি না, তার কোনো নজরদারি নেই এবং অনিরাপদ চর্চার জন্য কাউকে শাস্তির মুখেও পড়তে হয় না।’