Wed 30th Sep 2026, 3:13 pm

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত বাড়লেও দেশে জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত থাকবে: বিপিসি চেয়ারম্যান

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত বাড়লেও দেশে জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত থাকবে: বিপিসি চেয়ারম্যান
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি)-এর চেয়ারম্যান ড. রফিকুল ইসলাম বলেছেন যে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও অবনতি হলেও সরকার দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের দাম আর বাড়াতে আগ্রহী নয়। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই তথ্য জানান।

ড. রফিকুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন যে আগামী ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত দেশে জ্বালানি তেল আমদানি, মূল্য পরিশোধ এবং মজুদের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের সংকট নেই। বর্তমানে দেশে প্রায় ৪৫ দিনের জ্বালানি তেলের মজুত রাখার সক্ষমতা রয়েছে এবং ৯০ দিনের মজুত সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্যে স্টোরেজ ক্যাপাসিটি বাড়ানোর কাজও চলমান।

এর আগে, গত ২০ সেপ্টেম্বর সরকার ডিজেলসহ সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারে এক লাফে ২০ টাকা বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে। এই আকস্মিক মূল্যবৃদ্ধি যাত্রী ও পণ্য পরিবহন খাতসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে ব্যাপক প্রভাব ফেলে। সাধারণত মাসের শুরুতে নতুন দাম ঘোষণা করা হলেও, এবার সেপ্টেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

মূল্যবৃদ্ধি প্রসঙ্গে বিপিসি চেয়ারম্যান জানান, পরিস্থিতি এমন ছিল যে জ্বালানি তেলের দাম বাড়াতে তারা বাধ্য হয়েছিলেন এবং আরও কয়েকদিন অপেক্ষা করার মতো সুযোগ ছিল না। তিনি সরকারের কাছ থেকে কিছু সহায়তা পাওয়ার আশা প্রকাশ করেন এবং জানান যে বর্তমান মূল্যবৃদ্ধির মাধ্যমে যে রাজস্ব আসবে, তা দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব হবে। প্রসঙ্গত, জ্বালানিমন্ত্রী অবশ্য আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে শিগগিরই জ্বালানি সংকট কেটে যাবে।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়ার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে ড. রফিকুল ইসলাম বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি অনিশ্চিত হলেও, বর্তমানের চেয়ে কিছুটা দাম বাড়লেও হয়তো দেশের বাজারে আর মূল্যবৃদ্ধি করতে হবে না।

বিপিসি চেয়ারম্যান দৃঢ়তার সাথে আরও বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতি সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছালেও তার বিশ্বাস, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর আর প্রয়োজন হবে না। বরং, ভবিষ্যতে যদি কম দামে তেল সংগ্রহ করা সম্ভব হয়, তবে সরকার দেশের বাজারে তেলের দাম কমানোর বিষয়টিও সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করতে পারে।