Thu 16th Jul 2026, 2:07 am

বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার ওপরই চাপ দেখছেন ইংলিশ ডিফেন্ডাররা

বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার ওপরই চাপ দেখছেন ইংলিশ ডিফেন্ডাররা
একটি দল ১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপের ফাইনালে পৌঁছাতে পারেনি, যেখানে অন্য দলটি সর্বশেষ আসরেই ফাইনাল খেলার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। আবারও শিরোপা লড়াইয়ের মঞ্চে ওঠার এই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে কোন দল বেশি চাপে থাকবে? ইংলিশ ডিফেন্ডার মার্ক গেহির দৃঢ় বিশ্বাস, চাপটা মূলত আর্জেন্টিনার ওপরই, কারণ তারাই সর্বশেষ বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলেছে।

আজ রাতে বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ইংল্যান্ড যখন আর্জেন্টিনার মোকাবিলা করবে, তখন শুধু ফাইনালের টিকিট পাওয়ার লড়াই নয়, বরং এক দীর্ঘ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ইতিহাসের ছায়াও এই ম্যাচের ওপর পড়বে। ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে ডিয়েগো ম্যারাডোনার বিতর্কিত ‘হ্যান্ড অব গড’ গোলটি আজও ইংল্যান্ডের ফুটবল ইতিহাসে একটি তিক্ত অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত। একইভাবে, ১৯৯৮ বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ডেভিড বেকহামের লাল কার্ডও ইংলিশদের স্মৃতিপটে গভীরভাবে অঙ্কিত হয়ে আছে।

শুধু ফুটবল মাঠেই নয়, এই দুটি দেশের মধ্যে মাঠের বাইরেও দীর্ঘদিনের এক উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্ক বিদ্যমান। ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ড যুদ্ধের রেশ এখনো দুই দেশের কূটনৈতিক প্রেক্ষাপটে প্রভাব বিস্তার করে। ব্রিটিশ-নিয়ন্ত্রিত এই দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌমত্ব নিয়ে আর্জেন্টিনা বরাবরই আপত্তি জানিয়ে আসছে।

তবে, ইংল্যান্ডের ডিফেন্ডার এজরি কনসা নিশ্চিত করেছেন যে, তার দল মাঠের বাইরের এসব বিতর্কিত বিষয় থেকে নিজেদের যথাসম্ভব দূরে রাখার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, “আমাদের নিজেদের খেলাতেই পূর্ণ মনোযোগ দিতে হবে। অতীতের ঘটনাগুলো ভুলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা উচিত। এসব বিষয় নিয়ে অতিরিক্ত আবেগপ্রপ্রবণ না হয়ে মাঠে নেমে নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স দেওয়াটাই আমাদের লক্ষ্য।”

উভয় দলই মাঠে নিজেদের সর্বোচ্চটা দিতে প্রস্তুত। তবে ইংলিশ ডিফেন্ডার মার্ক গেহির মতে, আর্জেন্টিনার ওপরই চাপটা বেশি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “আমাদের ওপর কোনো চাপ নেই। কিসের চাপ? দায়িত্বটা তাদের। তারাই তো বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন। শিরোপা ধরে রাখার জন্যই তাদের খেলতে হবে। আমাদের ওপর বিন্দুমাত্র চাপ নেই।”

ইংলিশ এই ডিফেন্ডার আরও যোগ করেন, “সত্যি বলতে, দলের সবাই দারুণ রোমাঞ্চিত। এটি নিঃসন্দেহে একটি বিশাল উপলক্ষ। বিশ্বসেরা খেলোয়াড়দের বিপক্ষে খেলার এই বিশেষ সুযোগটি সবাই প্রাণভরে উপভোগ করতে উন্মুখ হয়ে আছে।”

আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে গেহি এবং কনসা, দুজনেরই মূল একাদশে থাকার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। লিওনেল মেসিকে নিষ্ক্রিয় করার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সম্ভবত তাদের কাঁধেই বর্তাবে।

তবে গেহি দৃঢ়তার সঙ্গে উল্লেখ করেছেন যে, আর্জেন্টিনা কেবল একজন খেলোয়াড়ের ওপর নির্ভরশীল দল নয়। তিনি বলেন, “মেসি নিঃসন্দেহে একজন অসাধারণ খেলোয়াড়, সম্ভবত সর্বকালের সেরা ফুটবলারদের একজন। তাকে আটকানোর জন্য আমরা আমাদের সর্বোচ্চটা দেব। কিন্তু তাদের দলে আরও অনেক প্রতিভাবান খেলোয়াড় রয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আমরা যেন নিজেদের শতভাগ মনোযোগ ধরে রাখতে পারি এবং আমাদের কৌশলগত পরিকল্পনা সফলভাবে প্রয়োগ করতে পারি।”