Sat 5th Sep 2026, 1:09 pm

রাতে বারবার প্রস্রাব: কারণ অনুসন্ধান ও করণীয়

রাতে বারবার প্রস্রাব: কারণ অনুসন্ধান ও করণীয়
মানবদেহে বিপাকক্রিয়ার ফলস্বরূপ উৎপন্ন বর্জ্য পদার্থ প্রস্রাবের মাধ্যমে শরীর থেকে নিষ্কাশিত হয়। তবে, রাতে অতিরিক্ত প্রস্রাবের প্রবণতা, যা ডাক্তারি পরিভাষায় ‘নকচুরিয়া’ নামে পরিচিত, বিভিন্ন কারণে দেখা দিতে পারে। সাধারণত, রাতে একবার বা দুবার প্রস্রাব করার জন্য ওঠা স্বাভাবিক বলে বিবেচিত হলেও, যদি এই কারণে বারবার ঘুম ভেঙে যায় এবং দৈনন্দিন জীবনে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে, তবে এটিকে একটি সমস্যা হিসেবে দেখা উচিত। রাতে ঘন ঘন প্রস্রাবের প্রধান কারণগুলো নিচে আলোচনা করা হলো:

* **ঘুমের পূর্বে অতিরিক্ত তরল গ্রহণ:** রাতে শোবার আগে বেশি পরিমাণে পানি, চা, কফি বা অন্যান্য তরল পান করলে মূত্রাশয় দ্রুত পূর্ণ হয়ে যায়, যার ফলে মধ্যরাতে প্রস্রাবের তীব্র তাগিদ অনুভব হয়।

* **অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস:** রক্তে শর্করার মাত্রা অত্যধিক থাকলে, কিডনি সেই অতিরিক্ত শর্করাকে প্রস্রাবের মাধ্যমে শরীর থেকে বের করার চেষ্টা করে, যার ফলে প্রস্রাবের পরিমাণ বেড়ে যায়।

* **ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া:** কিছু নির্দিষ্ট ঔষধ, বিশেষত মূত্রবর্ধক (ডাইউরেটিক) জাতীয় ঔষধ রাতে সেবন করলে প্রস্রাবের মাত্রা বৃদ্ধি পেতে পারে।

* **মূত্রাশয়ের অতিসক্রিয়তা বা দুর্বলতা:** মূত্রাশয় সঠিকভাবে কাজ না করলে অথবা এর কার্যক্ষমতা হ্রাস পেলে বারবার মূত্রত্যাগের প্রয়োজন হতে পারে। এই অবস্থাকে ‘ওভার-অ্যাকটিভ ব্লাডার’ বলা হয় এবং নারীদের ক্ষেত্রে মেনোপজের পর এটি বেশি দেখা যেতে পারে।

* **বয়স-সংক্রান্ত পরিবর্তন:** বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানবদেহে অ্যান্টিডাইউরেটিক হরমোনের (ADH) উৎপাদন কমে যায়। এই হরমোন কিডনিকে জল ধরে রাখতে সাহায্য করে, এর অভাবে রাতে প্রস্রাবের পরিমাণ বেড়ে যায়।

* **অন্যান্য স্বাস্থ্যগত অবস্থা:** দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগ, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, পুরুষদের প্রোস্টেট গ্রন্থির বৃদ্ধি (বেনাইন প্রোস্ট্যাটিক হাইপারপ্লাসিয়া), এবং মূত্রনালীর সংক্রমণ (ইউটিআই) সহ বিভিন্ন শারীরিক অসুস্থতা নকচুরিয়ার কারণ হতে পারে।

* **জীবনযাত্রার অনিয়ম:** রাতে অতিরিক্ত ক্যাফেইন বা অ্যালকোহল গ্রহণ, অনিদ্রা এবং মানসিক চাপও এই সমস্যাকে আরও প্রকট করতে পারে।

যদি এই সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হয়, ঘুমের গুরুতর ব্যাঘাত ঘটায় অথবা এর সাথে দুর্বলতা, পা ফোলা বা অন্য কোনো অস্বাভাবিক লক্ষণ দেখা যায়, তবে অবিলম্বে একজন চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করা অপরিহার্য।