Sun 16th Aug 2026, 2:27 pm

ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য স্বস্তি: বিকাশ অ্যাপে জামানতবিহীন ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত মার্চেন্ট ঋণ প্রাপ্তি ও এর শর্তাবলী

ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য স্বস্তি: বিকাশ অ্যাপে জামানতবিহীন ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত মার্চেন্ট ঋণ প্রাপ্তি ও এর শর্তাবলী
ব্যবসার জরুরি প্রয়োজনে অর্থের সংস্থানে ব্যাংক বা আত্মীয়স্বজনের দ্বারস্থ হওয়ার প্রচলিত চিত্র এবার পাল্টে যাচ্ছে। দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে ব্র্যাক ব্যাংক এবং বিকাশ যৌথভাবে চালু করেছে জামানতবিহীন ডিজিটাল ঋণ সেবা।

এই নতুন ব্যবস্থার ফলে, বিকাশ অ্যাপ ব্যবহারকারী যোগ্য মার্চেন্টরা কোনো প্রকার কাগজপত্র জমা দেওয়ার ঝামেলা ছাড়াই তাৎক্ষণিকভাবে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ গ্রহণ করতে পারছেন। এটি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য এক দারুণ সুযোগ, যা তাঁদের আর্থিক সংকট নিরসনে সহায়ক হবে।

জাতীয় অর্থনৈতিক শুমারি ২০২৪ এর তথ্য অনুযায়ী, দেশের প্রায় সোয়া এক কোটি অর্থনৈতিক ইউনিটের মধ্যে প্রায় ৬৫ শতাংশেরই আনুষ্ঠানিক নিবন্ধন নেই। এই অ-নিবন্ধিত ব্যবসায়ীদের একটি বড় অংশ প্রায়শই অনানুষ্ঠানিক উৎস থেকে উচ্চ সুদে ঋণ নিতে বাধ্য হন। এমনকি নিবন্ধিত উদ্যোক্তারাও অনেক সময় ব্যাংকিং প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা, জটিল কাগজপত্র এবং আনুষ্ঠানিকতার বেড়াজালে আটকে পড়ে প্রচলিত ব্যাংক ঋণ প্রাপ্তিতে সমস্যার সম্মুখীন হন। এমন পরিস্থিতিতে অপ্রাতিষ্ঠানিক উৎসই তাঁদের ভরসা হয়ে দাঁড়ায়। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের এমন অর্থায়ন সমস্যার একটি কার্যকর ডিজিটাল সমাধান হিসেবেই এই মার্চেন্ট ঋণ চালু করা হয়েছে বলে বিকাশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

**যেভাবে মিলবে এই লোন**

এই ঋণ সুবিধা প্রাপ্তির জন্য কোনো দৃশ্যমান সম্পত্তি বা জামানতের প্রয়োজন নেই। বিকাশ জানিয়েছে, মার্চেন্ট অ্যাকাউন্টের নিয়মিত লেনদেনের ইতিহাসকেই ঋণ প্রাপ্তির যোগ্যতা হিসেবে বিবেচনা করা হবে, যা ব্যাংকিং জটিলতা এড়াতে সাহায্য করবে। যোগ্য মার্চেন্টরা সরাসরি বিকাশ মার্চেন্ট অ্যাপ থেকেই মাত্র কয়েকটি ক্লিকে ঋণের জন্য আবেদন করতে পারবেন। তাঁদের অ্যাকাউন্টে যত বেশি এবং যত নিয়মিত ডিজিটাল পেমেন্ট গ্রহণ করা হবে, ঋণ পাওয়ার সম্ভাবনাও তত বৃদ্ধি পাবে। এই ঋণের অর্থ মার্চেন্টরা পণ্য ক্রয়, ব্যবসা সম্প্রসারণ, মৌসুমী চাহিদা পূরণ কিংবা অন্যান্য ব্যবসায়িক প্রয়োজনে কার্যনির্বাহী মূলধন হিসেবে ব্যবহার করতে পারবেন।

**যা বলছেন উদ্যোক্তারা**

দীর্ঘদিন ধরে ব্যাংকিং ব্যবস্থার আনুষ্ঠানিকতা ও দীর্ঘসূত্রতা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ঋণ সুবিধা থেকে বঞ্চিত করে রেখেছিল, তবে এই নতুন ডিজিটাল সেবা তাঁদের ব্যবসায়িক কার্যক্রমে স্বস্তি এনে দিয়েছে। সাতক্ষীরার ‘সম্রাট শু’-এর স্বত্বাধিকারী মো. শিহার রায়হান, যিনি সম্প্রতি অ্যাপ থেকে ১০ হাজার টাকা মার্চেন্ট ঋণ পেয়েছেন, জানান, ‘আগে হঠাৎ টাকার দরকার হলে আত্মীয়স্বজনের কাছে হাত পাততে হতো, যা অস্বস্তিকর ছিল। বিকাশ মার্চেন্ট অ্যাপ থেকে ঋণ পাওয়ার ব্যবস্থা আমার ব্যবসাকে অনেক সহজ করে দিয়েছে।’ কারুপণ্যের উদ্যোক্তা রোকেয়া আকতারও তাঁর ইতিবাচক অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘গ্রাহকদের কাছ থেকে নিয়মিত বিকাশে পেমেন্ট নেওয়ার কারণে আমার হিসাবে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে লেনদেন হয়। এই ভালো লেনদেন তথ্যের কারণে মার্চেন্ট ঋণ পাওয়া আমার জন্য সহজ হয়েছে।’

বিকাশের চিফ কমার্শিয়াল অফিসার আলী আহম্মেদ জানান, দেশে বর্তমানে বিকাশের প্রায় ৮ লাখ মার্চেন্টের একটি বিশাল নেটওয়ার্ক রয়েছে। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ডিজিটাল লেনদেনের তথ্য বিশ্লেষণ করে তাঁদের ঋণ পাওয়ার যোগ্যতা নিরূপণ করা হয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, স্থাবর সম্পদের পরিবর্তে লেনদেনের ধরনই এখন ঋণ প্রাপ্তির প্রধান সূচক।