Wed 12th Aug 2026, 4:50 pm

আমদানিনির্ভরতার গভীর সংকটে জর্জরিত দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত

আমদানিনির্ভরতার গভীর সংকটে জর্জরিত দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত
বাংলাদেশের জ্বালানি চাহিদার সিংহভাগ, ৬৫ শতাংশেরও বেশি, আমদানি নির্ভর। দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার ৯ শতাংশও বৈদেশিক উৎস থেকে আসে। প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ায় দেশজুড়ে তীব্র গ্যাস সংকট তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি, আমদানি করা বিদ্যুতের সরবরাহও হ্রাস পেয়েছে, যার ফলস্বরূপ লোডশেডিংয়ের মাত্রা বেড়েছে। বিশেষজ্ঞরা এই পরিস্থিতিকে দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের আমদানিনির্ভরতার ফল হিসেবে চিহ্নিত করছেন।

বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা) সূত্রে জানা গেছে, অগ্নিদুর্ঘটনার কারণে এলএনজি সরবরাহ অর্ধেকে নেমে যাওয়ার প্রায় দুই সপ্তাহ পর গত বৃহস্পতিবার তা কিঞ্চিৎ বৃদ্ধি পেয়েছিল। তবে, সমুদ্রে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে গত সোমবার সন্ধ্যা থেকে সরবরাহ পুনরায় হ্রাস পেয়েছে, যার ফলে দৈনিক ২৫ কোটি ঘনফুটের বেশি গ্যাসের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, সমুদ্র পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আজ বুধবার থেকে সরবরাহ কিছুটা বাড়তে পারে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম গতকাল সকালে Desi Media Point-কে জানান যে, এলএনজি বহনকারী জাহাজ কাছাকাছি থাকা সত্ত্বেও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে টার্মিনালে এলএনজি স্থানান্তর করা সম্ভব হয়নি। গ্যাসের সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক করতে জ্বালানি বিভাগ সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সাথে নিবিড়ভাবে কাজ করছে।

দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট, যেখানে স্বাভাবিক সময়ে ২৭০ কোটি ঘনফুট পর্যন্ত সরবরাহ করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়। এই সরবরাহের ১০৫ কোটি ঘনফুট আসে এলএনজি থেকে।

আমদানি করা এলএনজি বিতরণের জন্য কক্সবাজারের মহেশখালীতে দুটি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে। এর মধ্যে মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালের সক্ষমতা দৈনিক ৬০ কোটি ঘনফুট এবং দেশীয় কোম্পানি সামিটের টার্মিনালের সক্ষমতা দৈনিক ৫০ কোটি ঘনফুট। গত ২১ জুলাই এক্সিলারেটের টার্মিনালে এক অগ্নিদুর্ঘটনার ফলে সেটি বন্ধ হয়ে যায়, যার পরিণতিতে গ্যাসের সরবরাহ কমে আসে এবং সংকট তীব্রতর হয়। এর প্রভাবে রান্নার চুলা থেকে শুরু করে শিল্পকারখানা ও বিদ্যুৎ উৎপাদন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এমনকি যানবাহনে সিএনজি সংগ্রহের জন্যও ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ সারি দেখা যায়।

সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, দেশের জ্বালানি খাতের আমদানিনির্ভরতার কারণে যেকোনো বৈশ্বিক সংকটে এর সরবরাহ বারবার বিঘ্নিত হয়। উদাহরণস্বরূপ, ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হলে দেশে গ্যাসের তীব্র সংকট দেখা দেয়, যা লোডশেডিংয়ের কারণ হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের মধ্যে উত্তেজনা বাড়লে মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি তেলের সরবরাহ প্রভাবিত হয়, যার ফলে দেশীয় বাজারেও চাপ পড়ে। এবার এক অগ্নিদুর্ঘটনায় টার্মিনাল বন্ধ হওয়ায় গ্যাসের সংকট বেড়েছে। এর আগে ২০২৪ সালে ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে একটি টার্মিনাল প্রায় সাড়ে তিন মাস বন্ধ ছিল। সমুদ্রে প্রতিকূল আবহাওয়া দেখা দিলেই এলএনজি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়, যার সর্বশেষ দৃষ্টান্ত গত সোমবার এলএনজি বহনকারী নতুন জাহাজটি প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে টার্মিনাল থেকে খালাস হতে না পারা।

ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা এম শামসুল আলম Desi Media Point-কে বলেন, "দেশ অনেক আগেই আমদানিনির্ভর হয়ে পড়েছে। যদি এমনটি না হতো, তবে হয়তো আজ এই সংকট দেখা দিত না। এছাড়া দুর্নীতি ও লুণ্ঠন বন্ধ করা গেলে আর্থিক চাপ সৃষ্টি হতো না এবং আমদানি ব্যবস্থাপনা যথাযথ থাকলে সংকট এড়ানো সম্ভব হতো।" এদিকে, পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা গেছে, এক্সিলারেটের টার্মিনালে দুটি বয়লার রয়েছে, যার প্রতিটির সক্ষমতা ৩০ কোটি ঘনফুট। এর মধ্যে একটি বয়লার আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অক্ষত বয়লারটি থেকে গত বৃহস্পতিবার থেকে গ্যাস সরবরাহ শুরু হলেও ক্ষতিগ্রস্ত বয়লারটি চালুর প্রক্রিয়া চলছে। এটি যখন পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত হবে, তখন বর্তমানে চালু বয়লারটি বন্ধ করতে হবে, যার ফলে এক্সিলারেটের টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ সাময়িকভাবে সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাবে। অন্তত ১২ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর এটি পুনরায় চালু হতে পারে এবং ধীরে ধীরে সরবরাহ স্বাভাবিক হবে। পেট্রোবাংলা ছুটির দিনে, যখন গ্যাসের চাহিদা কম থাকে, তখন এই কাজটি সম্পন্ন করতে আগ্রহী।

জ্বালানি বিভাগ ও পেট্রোবাংলার দুজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এক্সিলারেট এনার্জিকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও সরবরাহ চালুর বিষয়ে একটি বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা জমা দিতে বলা হয়েছে। পরবর্তীতে জ্বালানি বিভাগের সাথে পরামর্শক্রমে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এই সপ্তাহে এক্সিলারেট থেকে গ্যাস সরবরাহ বৃদ্ধির কোনো সম্ভাবনা নেই।

বর্তমানে গ্যাস বিতরণ সংস্থাগুলো চাহিদা মেটাতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে। আজ নতুন জাহাজ থেকে এলএনজি খালাস করা না গেলে গ্যাসের সরবরাহ আরও ভয়াবহভাবে কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

দেশের দৈনিক গ্যাসের চাহিদা ৩৮০ কোটি ঘনফুট, যেখানে স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে ২৭০ কোটি ঘনফুট সরবরাহ করা হয়, যার ১০৫ কোটি ঘনফুট আসে এলএনজি থেকে। এক্সিলারেটের টার্মিনাল বন্ধ হওয়ার পর সামিটের টার্মিনাল টানা চার দিন তাদের সক্ষমতার চেয়ে বেশি, দৈনিক প্রায় ৫৭ কোটি ঘনফুট এলএনজি সরবরাহ করেছিল। এর পর থেকে প্রতিদিন ৫০ কোটি ঘনফুট সরবরাহ করা হচ্ছিল। তবে, নতুন জাহাজ থেকে এলএনজি খালাস করতে না পারার কারণে গত সোমবার সন্ধ্যা সাতটা থেকে সামিট তাদের সরবরাহ হ্রাস করেছে।

গ্যাস সরবরাহের সাথে যুক্ত সরকারি প্রতিষ্ঠানের সূত্র অনুযায়ী, গতকাল সন্ধ্যায় সামিট ২০ কোটি ঘনফুট এবং এক্সিলারেট এনার্জি ৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করেছে। দেশীয় উৎস থেকে এসেছে প্রায় ১৬৩ কোটি ঘনফুট। সব মিলিয়ে মোট ২১৩ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ হচ্ছে, যা গত তিন সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন। এই পরিস্থিতিতে গ্যাস বিতরণ সংস্থাগুলো চাহিদা পূরণে তীব্র চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছে। আজ নতুন জাহাজ থেকে এলএনজি খালাস করতে ব্যর্থ হলে গ্যাসের সরবরাহ আরও কমে যাবে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ জানিয়েছেন যে, সরকার দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানিসংকট সমাধানের জন্য কাজ করছে। গতকাল ‘জ্বালানি খাতের সংকট: সম্ভাবনা ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক এক সেমিনারে তিনি বলেন, "আওয়ামী লীগ সরকার টেকসই উন্নয়ন করতে ব্যর্থ হওয়ায় এলএনজির একটি টার্মিনাল বন্ধ হলেই সারা দেশে গ্যাসের হাহাকার দেখা দেয়। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের এই সংকট উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত, এবং বর্তমান সরকার তা সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে।"

একই সেমিনারে গতকাল দুপুরে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম উল্লেখ করেন যে, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উভয় খাতেই চাহিদা এবং সরবরাহের মধ্যে একটি বড় পার্থক্য বিদ্যমান। তিনি আরও জানান যে, সরকার জ্বালানিসংকটে জনগণের দুর্ভোগ লাঘবের জন্য নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) কর্মকর্তারা বলছেন, তাপমাত্রা বাড়ার সাথে সাথে বিদ্যুতের চাহিদাও বাড়ছে, কিন্তু গ্যাসের তীব্র সংকটের কারণে চাহিদামতো উৎপাদন করা যাচ্ছে না। গ্যাসের অভাবে প্রায় দেড় হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে গেছে।

বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি করা সম্ভব না হওয়ায় গতকালও লোডশেডিংয়ের মাত্রা কমেনি। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) এবং পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি (পিজিসিবি)-এর তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক দিন ধরে দৈনিক সর্বোচ্চ লোডশেডিং ৩ হাজার মেগাওয়াট অতিক্রম করছে। গত রোববার সর্বোচ্চ লোডশেডিং ছিল ৩ হাজার ৬৭১ মেগাওয়াট, যা সোমবার বেড়ে ৩ হাজার ৭৫৭ মেগাওয়াটে পৌঁছে। ওই দিন সন্ধ্যায় টানা বৃষ্টির পর কিছুটা কমে এলেও গতকাল দুপুর থেকে এটি পুনরায় বাড়তে শুরু করে এবং বেলা তিনটায় সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৪৬৫ মেগাওয়াট লোডশেডিং রেকর্ড করা হয়।

পিডিবির কর্মকর্তারা আরও জানান, উষ্ণতা বৃদ্ধির সাথে সাথে বিদ্যুতের চাহিদা ক্রমাগত বাড়ছে। কিন্তু গ্যাসের অপ্রতুলতার কারণে প্রায় দেড় হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় চাহিদা পূরণ সম্ভব হচ্ছে না। দুটি বৃহৎ কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রও তাদের পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না। অধিক ব্যয়বহুল হওয়ায় তেলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো থেকে উৎপাদন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে, কারণ এগুলো বেশি চালালে পিডিবির আর্থিক লোকসান বেড়ে যাবে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পেট্রোবাংলাকে গ্যাসের সরবরাহ বাড়াতে অনুরোধ করা হয়েছে এবং কয়লাচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে সর্বোচ্চ উৎপাদনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর বকেয়া বিলের কারণে কয়লা আমদানিতে বিঘ্ন ঘটেছে, যার ফলে দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে কয়লার সংকট দেখা দিয়েছে। ভারতের ঝাড়খন্ডে নির্মিত আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্র ৭ আগস্ট থেকে উৎপাদন হ্রাস করেছে, কারণ ঝড়-বৃষ্টির কারণে কয়লা সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় কেন্দ্রটি উৎপাদন ধরে রাখতে পারেনি। আজ কেন্দ্রটি থেকে উৎপাদন বাড়ার কথা রয়েছে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা অভিমত দিয়েছেন যে, পূর্ববর্তী আওয়ামী লীগ সরকার দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদনে যথেষ্ট গুরুত্ব দেয়নি, যার ফলস্বরূপ এখন গ্যাসের উৎপাদন ক্রমাগত হ্রাস পাচ্ছে। ২০১৮ সাল থেকে এলএনজি আমদানি শুরু হয় এবং ২০১৩ সাল থেকে বিদ্যুৎ আমদানি শুরু হয়েছিল। বর্তমানে জ্বালানিসংকটের কোনো তাৎক্ষণিক সমাধান নেই; আমদানি অপরিহার্য। তবে, এর পাশাপাশি দেশীয় জ্বালানি উৎস বৃদ্ধিতে মনোযোগ দিতে হবে। উল্লেখ্য, বর্তমান সরকার দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানে জোর দিয়েছে এবং সমুদ্রে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। এছাড়া, নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতেও বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা এম শামসুল আলম Desi Media Point-কে বলেন, "দেশ অনেক আগেই আমদানিনির্ভর হয়ে পড়েছে। যদি এমনটি না হতো, তবে হয়তো আজ এই সংকট দেখা দিত না। এছাড়া, দুর্নীতি ও লুণ্ঠন বন্ধ করা গেলে আর্থিক চাপ সৃষ্টি হতো না এবং আমদানি ব্যবস্থাপনা যথাযথ থাকলে সংকট এড়ানো সম্ভব হতো।" তিনি আরও বলেন, আয়ের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে সাশ্রয়ী জ্বালানির ব্যবহার করা উচিত। কয়লা আমদানি না করে জ্বালানি তেল থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করলে খরচ বৃদ্ধি অবশ্যম্ভাবী।