Mon 10th Aug 2026, 11:16 am

বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুলের মনোনয়ন সুনিশ্চিত: বিএনপিতে নয়া সমীকরণ ও বিরোধী জোটের প্রতিদ্বন্দ্বিতা

বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুলের মনোনয়ন সুনিশ্চিত: বিএনপিতে নয়া সমীকরণ ও বিরোধী জোটের প্রতিদ্বন্দ্বিতা
বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিএনপির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে মনোনীত করা হয়েছে। দলের উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্র 'ডেসিমিয়া পয়েন্ট'কে নিশ্চিত করেছে যে, দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই মনোনয়ন চূড়ান্ত করেছেন। রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সম্মতিসূচক স্বাক্ষর মির্জা ফখরুল গত শনিবার সম্পন্ন করেছেন বলেও সূত্রটি জানিয়েছে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় একজন সংসদ সদস্যের প্রস্তাব ও সমর্থনের পাশাপাশি প্রার্থীর স্বেচ্ছাসম্মতিপত্র বা স্বাক্ষরিত একটি বিবৃতি জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক।

এদিকে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জামায়াত নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে। মির্জা ফখরুলের রাষ্ট্রপতি হওয়া প্রায় নিশ্চিত হওয়ার প্রেক্ষাপটে বিএনপির পরবর্তী মহাসচিব কে হবেন, সেই প্রশ্ন এখন রাজনৈতিক মহলে প্রধান আলোচ্য বিষয়।

রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন বিষয়ে 'ডেসিমিয়া পয়েন্ট' আজ রোববার প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ এবং ক্ষমতাসীন বিএনপির উচ্চপর্যায়ের একাধিক নেতার সাথে কথা বলেছে। প্রায় সকলেই মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরই বিএনপির রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হচ্ছেন বলে নিশ্চিত করেছেন, যদিও দলীয়ভাবে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। উল্লেখ্য, গত ২ আগস্ট বিএনপির নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী মনোনয়নের দায়িত্ব দলীয় প্রধান তারেক রহমানকে দেওয়া হয়েছিল।

মির্জা ফখরুল ২০১১ সালে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব নিযুক্ত হন এবং ২০১৬ সালে দলের জাতীয় কাউন্সিলে আনুষ্ঠানিকভাবে মহাসচিবের দায়িত্ব লাভ করেন। এই দীর্ঘ সময়ে তিনি বিএনপির অন্যতম শীর্ষ নেতায় পরিণত হয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২০ আগস্ট বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি পদে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ১৩ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র দাখিল করা যাবে।

ইতিমধ্যে সরকারি দল বিএনপি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে। দলটি আজ সকালে নির্বাচন কমিশন থেকে দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছে। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি এবং জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী নির্বাচন কমিশনে সিইসির দপ্তর থেকে এই মনোনয়নপত্রগুলো সংগ্রহ করেন। দলের পক্ষ থেকে দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহের ঘটনা রাজনৈতিক মহলে বেশ কৌতূহলের সৃষ্টি করেছে। ইসি সূত্র জানায়, রাষ্ট্রপতি পদে একই ব্যক্তির নামে একাধিক মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ আছে এবং সেক্ষেত্রে যেকোনো একটি মনোনয়নপত্র বৈধ হলেই তিনি বৈধ প্রার্থী বলে বিবেচিত হবেন।

সদ্য বিদায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের নির্বাচনের সময়ও তাঁর দুটি মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছিল। মো. সাহাবুদ্দিন গত ২৪ জুলাই পদত্যাগ করার পর রাষ্ট্রপতির পদটি শূন্য হয়। এরপর থেকে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। সংবিধান এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১ অনুযায়ী, পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে।

মির্জা ফখরুল ইসলামের রাষ্ট্রপতি হওয়ার সম্ভাবনা যতই স্পষ্ট হচ্ছে, ততই বিএনপির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক পদ মহাসচিবের উত্তরসূরি কে হবেন—সেই প্রশ্ন সামনে আসছে। প্রায় ১৬ বছর ধরে তিনি বিএনপির মহাসচিবের পদে অধিষ্ঠিত আছেন। মির্জা ফখরুল ২০১১ সালে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে নিযুক্ত হন এবং ২০১৬ সালের দলের জাতীয় কাউন্সিলে আনুষ্ঠানিকভাবে মহাসচিবের পদ লাভ করেন। এই দীর্ঘ সময়ে তিনি বিএনপির অন্যতম প্রধান নেতায় পরিণত হন। বিশেষ করে দলের দুই শীর্ষ নেতা খালেদা জিয়ার কারাবন্দিত্ব এবং তারেক রহমানের লন্ডনে নির্বাসনের পুরো সময় তিনি দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বে ছিলেন।

এর মধ্যে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি ছয়বার কারাবরণ করেন। বিগত সরকারের নানামুখী নির্যাতন ও প্রতিকূলতার মুখেও তিনি দৃঢ়ভাবে দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন। রাজনীতিতে তিনি একজন অত্যন্ত গ্রহণযোগ্য নেতা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন। এখন মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে তাঁর সম্ভাব্য উত্তরসূরি কে—এ নিয়ে দলের ভেতরে কয়েক দিন ধরে দুজনের নাম বেশি আলোচিত হচ্ছে: তাঁদের একজন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং অন্যজন যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

বিএনপির অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো বলছে, জাতীয় কাউন্সিলের আগে বা কাউন্সিলকে কেন্দ্র করে দলটি প্রাথমিকভাবে একজন ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব নিয়োগ করতে পারে। পরে জাতীয় কাউন্সিলে বা তার আশপাশের সময়ে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। রুহুল কবির রিজভী নির্বাচন করেননি এবং তাকে মন্ত্রিসভায়ও রাখা হয়নি। তাই মহাসচিবের পদ শূন্য হলে রিজভীকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব করার সম্ভাবনা বেশি বলে মনে করছেন দায়িত্বশীল নেতাদের কেউ কেউ।

রাষ্ট্রপতি পদে জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্য বিএনপির সাবেক নেতা, বর্তমানে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে প্রার্থী মনোনীত করেছে। রোববার মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে এই জোটের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক শেষে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এই সিদ্ধান্তের কথা সাংবাদিকদের জানান। আলাদাভাবে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী দেওয়ার ব্যাখ্যা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, 'জুলাই সনদ এবং রাষ্ট্র সংস্কারে বিএনপি অনীহা দেখিয়েছে। তারা পূর্বতন সরকারগুলোর মতোই এগিয়ে যাচ্ছে। আশা করা হয়েছিল, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনটা জুলাই সনদের ভিত্তিতে সংস্কারের মাধ্যমে হবে। কিন্তু বিএনপি এ বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নেয়নি। বিএনপি সংস্কারের পথে হাঁটলে ঐক্যবদ্ধভাবে ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দল মিলে এককভাবে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী দেওয়া যেত। কিন্তু তারা সেটা করেনি। এ জন্য ১১-দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে আলাদাভাবে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী দেওয়া হচ্ছে।' অবশ্য বিরোধী দলের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সিদ্ধান্ত এবং বিএনপির সাবেক জ্যেষ্ঠ নেতা অলি আহমদকে মনোনীত করাকে রাজনীতি-সংশ্লিষ্টরা আকস্মিক মনে করছেন না। কারণ, জাতীয় নির্বাচনের আগেই এমন আলোচনা ছড়িয়েছিল যে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোট ক্ষমতায় গেলে অলি আহমদকে রাষ্ট্রপতি করা হবে। এই সিদ্ধান্তকে তারই প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে অনুষ্ঠিত ১১-দলীয় ঐক্যের রোববারের বৈঠকে অলি আহমদও উপস্থিত ছিলেন। পরে তিনি সংবাদ সম্মেলনেও যোগ দেন এবং তাঁকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী মনোনীত করার জন্য ১১-দলীয় ঐক্যের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। অলি আহমদ বলেন, 'একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে এবং পরীক্ষিত একজন লোক, যার বিরুদ্ধে দুর্নীতির কোনো অভিযোগ নাই, শিক্ষাগত যোগ্যতার কোনো অভিযোগ নাই, সুন্দরভাবে জীবনযাপন করেছি বিধায় সবাই সর্বসম্মতিক্রমে আমার নাম প্রস্তাব করেছে।' তিনি আরও বলেন, প্রার্থী চূড়ান্ত করার মাধ্যমে ১১-দলীয় ঐক্য জনগণকে বার্তা দিতে চায় যে কর্নেল অলি দেশের অভিভাবকত্বের যোগ্য। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশগ্রহণই একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা।

জামায়াতে ইসলামীর উচ্চপর্যায়ের একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নিশ্চিত পরাজয় জেনেও এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্য দিয়ে তারা একটি রাজনৈতিক বার্তা দিতে চান। সেটি হচ্ছে, জামায়াতসহ বিরোধী দল যে একটি কার্যকর বিরোধী দল, সেটির দৃষ্টান্ত বা উপস্থিতি দৃশ্যমান করা। সে ক্ষেত্রে বিরোধী দলগুলো রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে নীরব থাকা বা সরকারি দলের প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়ার চেয়ে তাদের ৯০ জন সদস্যকে নির্বাচনে সক্রিয় এবং আলোচনায় রাখাকে শ্রেয় মনে করেছে। রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী দেওয়ার বিষয়ে জামায়াতের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, 'আমরা মনে করি সর্বক্ষেত্রে রাজনীতি স্বচ্ছ এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হওয়া উচিত। তাহলে গণতন্ত্রের গতি ফিরে আসবে। গণতন্ত্রের সৌন্দর্যের জন্য এটা দায়িত্ব হিসেবে আমরা নিয়েছি।' দলের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের আজ 'ডেসিমিয়া পয়েন্ট'কে বলেন, 'আমরা মনে করি, এই নির্বাচন উভয়ের (সরকার ও বিরোধী দল) মধ্যে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করবে। এখন কেউ কেউ সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা নিয়ে কথা বলছেন। জামায়াত যে ফাইল ছোড়াছুঁড়ির সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে একটা সভ্য উপায়ে ভিন্ন টেস্টের গঠনমূলক বিরোধিতা বা সমালোচনার জায়গা তৈরি করছে, সেটি একসময় মানুষ বুঝবে। এই নির্বাচনকে তারই নমুনা হিসেবে দেখা যেতে পারে।'

আইন অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন সংসদ সদস্যদের প্রকাশ্য ভোটে। একজন সংসদ সদস্য একটি ভোট দিতে পারবেন। ভোট গ্রহণের জন্য নির্বাচন কমিশন আগেই প্রয়োজনীয় সংখ্যক ব্যালট পেপার প্রস্তুত করবে। প্রতিটি ব্যালট পেপারে দুটি অংশ থাকবে—কাউন্টার ফয়েল বা চেকমুড়িতে প্রত্যেক ভোটারের নাম ও স্বাক্ষরের জন্য স্থান নির্ধারিত থাকবে। প্রতিটি ব্যালট পেপারের আউটার ফয়েলে, যেখানে ভোট দেন ভোটার, রাষ্ট্রপতি পদের প্রার্থীদের নাম আদ্যক্ষর অনুযায়ী ক্রমানুসারে মুদ্রিত থাকবে। এর পাশে সংসদ সদস্য অর্থাৎ ভোটার তাঁর পূর্ণ নাম স্বাক্ষর করে ভোট দেবেন। সংসদে ক্ষমতাসীন দলের একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলে বিরোধী দল সাধারণত রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী মনোনয়ন দেয় না। কারণ, ভোট হলেও বিরোধী দলের প্রার্থীর জেতার সম্ভাবনা থাকে না। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো সংসদ সদস্য দলের বিপক্ষে ভোট দিলে তাঁর সংসদ সদস্য পদ শূন্য হয়ে যায়। দেশে ১৯৯১ সালে সংসদীয় গণতন্ত্র চালু হওয়ার পর থেকে শুধু একবারই রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচনের জন্য ভোট হয়েছে। সেটি হয়েছিল ১৯৯১ সালে। ওই বছর অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে কোনো দলের একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিল না। বিএনপি ১৪০টি আসন পেয়েছিল, আওয়ামী লীগ পেয়েছিল ৮৮ আসন। জামায়াতে ইসলামীর সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করেছিল বিএনপি। সেবার রাষ্ট্রপতি পদে বিরোধী দল আওয়ামী লীগ প্রার্থী দিয়েছিল। সে নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী আবদুর রহমান বিশ্বাস ১৭২ ভোট পেয়ে জয়ী হন। এরপর আর কখনো বিরোধী দল থেকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী দেওয়া হয়নি। ফলে ভোটাভুটিরও প্রয়োজন হয়নি। এবার সংসদে সরকারি দল বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে। তবু রাষ্ট্রপতি পদে এবার প্রার্থী দিচ্ছে বিরোধী দল। শেষ পর্যন্ত বিরোধী দলের প্রার্থী থাকলে এই পদে ২০ আগস্ট ভোট গ্রহণ করা হবে সংসদ কক্ষে।

নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যে ভোটের প্রস্তুতি শুরু করেছে। তফসিল ঘোষণার দিনই ভোটারের বিভক্তি সংখ্যাসহ ৩৪৯ জন ভোটারের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। ইসি সূত্র জানায়, শুরুতে ইসির ধারণা ছিল ভোটাভুটির প্রয়োজন হবে না। তবে বিরোধী দল প্রার্থী ঘোষণা করায় এখন ইসিকে ভোটের আয়োজন করতে হচ্ছে। গতকাল বিকেলে অনানুষ্ঠানিক বৈঠক করেছে ইসি। সেখানে ব্যালট ছাপানো, ভোট ব্যবস্থাপনাসহ আনুষঙ্গিক বিষয়ে আলোচনা হয়। তফসিল অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৮ আগস্ট। এরপর একাধিক প্রার্থী থাকলে ইসি ব্যালট পেপার ছাপাবে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য জাতীয় সংসদ অধিবেশন চলমান থাকার বাধ্যবাধকতা নেই। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইনে বলা আছে, সংসদ অধিবেশনের বাইরে অন্য কোনো সময় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রয়োজন হলে স্পিকারের সঙ্গে আলোচনা করে ভোটের দিন ঠিক করবে নির্বাচন কমিশন। ভোট গ্রহণের দিনে সংসদ সদস্যদের বৈঠক আহ্বান করা হবে। ওই বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন সিইসি। সব মিলিয়ে এবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন শুধু নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আনুষ্ঠানিকতা নয়। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি হলে বিএনপির দীর্ঘদিনের মহাসচিবের পদে কে আসবেন, তা নিয়ে দলের ভেতরে শুরু হবে নতুন সমীকরণ। অন্যদিকে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ব্যবধান জানা সত্ত্বেও অলি আহমদকে প্রার্থী করে বিরোধী জোট যে প্রতিদ্বন্দ্বিতার বার্তা দিয়েছে, তাতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনও এবার রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।