Mon 13th Jul 2026, 12:07 am

হরমুজ প্রণালি বন্ধ করল ইরান, মার্কিন হস্তক্ষেপ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত অবরোধ

হরমুজ প্রণালি বন্ধ করল ইরান, মার্কিন হস্তক্ষেপ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত অবরোধ
আজ রোববার ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে। তেহরান দাবি করেছে যে, একটি জাহাজ অননুমোদিত পথে চলাচল করায় সেটিকে আক্রমণ করে থামানো হয়েছে। একই সাথে, এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে যেকোনো পাল্টা ব্যবস্থার ‘কঠোর জবাব’ দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে ইরান।

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌবাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, একটি অজ্ঞাত জাহাজ নিজেদের অবস্থান শনাক্তকারী ব্যবস্থা বন্ধ করে সামুদ্রিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত করছিল। সেটিকে আক্রমণ করে থামিয়ে দেওয়া হয়েছে, তবে জাহাজটির বিস্তারিত পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয় যে, একাধিক জাহাজ ‘অননুমোদিত পথ’ ব্যবহার করে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের প্রচেষ্টা চালিয়েছিল এবং তাদের দেওয়া সতর্কবার্তাগুলো উপেক্ষা করেছিল।

আইআরজিসির ভাষ্যমতে, ‘পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত’ এবং ‘এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের অবসান না হওয়া পর্যন্ত’ হরমুজ প্রণালিতে এই অবরোধ বলবৎ থাকবে।

আইআরজিসির নৌবাহিনী আরও সতর্ক করে বলেছে যে, ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো আগ্রাসনের ‘কঠোর জবাব’ দেওয়া হবে এবং এই অঞ্চলের শত্রুপক্ষের নতুন সামরিক ঘাঁটিগুলোকেও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা হবে।

অন্যদিকে, জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তারা গত শুক্রবার সাংবাদিকদের কাছে জানিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ লক্ষ্য করে হামলা বন্ধের ঘোষণা প্রকাশ্যে দিক। একই সাথে, কোনো প্রকার টোল ব্যতীত প্রণালির সকল নৌপথ নির্বিঘ্নে চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রাখা হোক।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার উল্লেখ করেন যে, চলতি সপ্তাহে সংঘাত বৃদ্ধি পেলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আলোচনা চালিয়ে যেতে সম্মত হয়েছে। তবে তিনি একই সাথে যুদ্ধবিরতির সমাপ্তিও ঘোষণা করেন।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে ইরানের এক জ্যেষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে যে, ইরান, যুক্তরাষ্ট্র, কাতার এবং পাকিস্তান আলোচনায় বসতে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে। মধ্যস্থতাকারীরা গত শনিবার এ বিষয়ে একটি ফোনালাপের আয়োজন করার চেষ্টা করছিলেন। সেই সময়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ওমানে অবস্থান করছিলেন।

তবে, সেই প্রচেষ্টা শেষ পর্যন্ত সফল হয়েছিল কিনা, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, ওমানে আরাগচি দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যিদ বদর আলবুসাইদির সাথে বৈঠক করেছেন। সেই বৈঠকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে ‘উপযুক্ত ব্যবস্থা’ গ্রহণ প্রসঙ্গে তাঁদের মধ্যে মতবিনিময় হয়।

এর পর ওমানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানিয়েছে যে, হরমুজ প্রণালি-সংক্রান্ত বিষয়ে ওমান এবং ইরানের প্রতিনিধিরা কারিগরি ও রাজনৈতিক উভয় পর্যায়ে আলোচনা চালিয়ে যাবেন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল একযোগে ইরানে বিমান হামলা শুরুর পর থেকে উপসাগরীয় অঞ্চলে সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করে। এর ফলস্বরূপ বৈশ্বিক জ্বালানির দাম বহুলাংশে বৃদ্ধি পায়। এই সংঘাতের অবসানে কয়েকটি দেশের পাশাপাশি ওমানও মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে।

সংঘাত শুরুর পূর্বে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো। তবে, এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে ইরানের অবরোধের কারণে জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতির চাপকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন গতকাল (১১ জুলাই) জানিয়েছে যে, হরমুজ প্রণালি নিয়ে ওমান একটি খসড়া প্রস্তাব পেশ করেছে। এই প্রস্তাবে ওমানের জলসীমার দক্ষিণ করিডর দিয়ে অবাধ নৌচলাচলের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে, ইরানের জলসীমার উত্তর করিডর দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে পূর্বানুমতি নিতে হবে, তবে এর জন্য কোনো টোল দিতে হবে না।

সিএনএনের ওই প্রতিবেদনের বিষয়ে হোয়াইট হাউস এবং মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।