Wed 16th Sep 2026, 3:12 pm

আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসির অন্তিম অধ্যায়: বিদায়ী ম্যাচের আয়োজন

আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসির অন্তিম অধ্যায়: বিদায়ী ম্যাচের আয়োজন
এটি এক অন্তিম মুহূর্ত, এক ‘শেষ নৃত্য’, যার পর লিওনেল মেসিকে আর কখনও আর্জেন্টিনার জাতীয় দলের জার্সিতে দেখা যাবে না। গত মাসে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দেন মেসি। সেই সময় থেকেই গুঞ্জন ছিল যে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) এই কিংবদন্তিকে তাঁর প্রাপ্য সম্মান ও ভালোবাসায় বিদায় জানাতে বদ্ধপরিকর। শোনা গিয়েছিল, ফিফা আন্তর্জাতিক বিরতির সময়ে ঘরের মাঠে অন্তত একটি প্রীতি ম্যাচে মেসিকে দলে রাখা হবে, যাতে তিনি নিজ দেশের দর্শকদের সামনে তাঁর বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটাতে পারেন। অবশেষে সেই জল্পনা-কল্পনাই বাস্তবে রূপ নিতে চলেছে।

আগামী ৬ অক্টোবর বুয়েনস এইরেসের ঐতিহ্যবাহী ৮৫ হাজার আসনের মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে লিওনেল স্কালোনির দল বেনিনের বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচে অংশ নেবে। এই ঐতিহাসিক ম্যাচের জন্য গতকাল ঘোষিত আর্জেন্টিনার স্কোয়াডে লিওনেল মেসিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এটিই হবে জাতীয় দলের জার্সিতে তাঁর শেষ উপস্থিতি, এক আবেগঘন বিদায়ী মুহূর্ত।

এএফএ সভাপতি ক্লদিও তাপিয়ার ভিডিও বার্তায় এই সিদ্ধান্তের প্রতিধ্বনি সুস্পষ্ট। তিনি বলেছেন, ‘আমরা বিশ্বের শ্রেষ্ঠ খেলোয়াড়, আমাদের জাতীয় দলের অবিসংবাদিত প্রতীক এবং আমাদের অধিনায়ক লিওনেল আন্দ্রেস মেসিকে আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যাতে তিনি আগামী ৬ অক্টোবর আর্জেন্টিনায় তাঁর প্রাপ্য মর্যাদাপূর্ণ বিদায়টি গ্রহণ করতে পারেন।’

নিশ্চিতভাবে, সেদিন রিভার প্লেটের মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামের গ্যালারি আবেগ ও ভালোবাসায় সিক্ত হবে। কেবল দর্শকরাই নন, মেসির হৃদয়েও কি স্মৃতির এক উত্তাল ঢেউ খেলবে না? এএফএ এই বিদায়কে truly ‘অবিস্মরণীয়’ করে তুলতে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। ২০২২ বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টিনা দলের সকল সদস্যকে তাদের প্রিয় অধিনায়ককে বিদায় জানাতে এই ম্যাচে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তাপিয়া নিশ্চিত করেছেন যে বেনিনের বিপক্ষে এই ম্যাচটি সম্পূর্ণরূপে মেসিকে উৎসর্গ করা হবে।

এই আমন্ত্রণ প্রসঙ্গে এএফএ সভাপতি ভিডিও বার্তায় বলেন, ‘লিওনেল আমাদের এই আমন্ত্রণ গ্রহণ করার পর আমরা কাতারে তাঁর সাথে ২০২২ বিশ্বকাপ জেতা দলের সকল সদস্যকে তাদের পরিবারসহ এই স্মরণীয় অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এটি সত্যিই এক অবিস্মরণীয় উপলক্ষ হতে চলেছে। বিশ্বসেরা এই খেলোয়াড়ের “শেষ ট্যাঙ্গো” উপভোগ করার জন্য আমরা সকল আর্জেন্টাইন এবং জাতীয় দলের সকল সমর্থককে আন্তরিকভাবে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।’

গত জুলাইয়ে এক বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে পরাজিত হয়েছিল আর্জেন্টিনা। এরপর, গত ৩১ আগস্ট, ৩৯ বছর বয়সী মেসি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা দেন। সেই সময় অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন যে ২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালে পরাজয়ই হয়তো আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসির অন্তিম স্মৃতি হয়ে থাকবে। তবে এএফএ সেই ধারণাকে বাস্তব হতে দিতে নারাজ।

বিশ্বকাপ ফাইনালে পরাজয়ের পর প্রথমবার মাঠে নেমে আর্জেন্টিনা এই আন্তর্জাতিক বিরতিতে তিনটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে। ৩০ সেপ্টেম্বর কর্দোবায় বলিভিয়ার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ৩ অক্টোবর বুয়েনস এইরেসে স্কালোনির দল বুরকিনা ফাসোর মুখোমুখি হবে। সবশেষে বেনিনের বিপক্ষে এক ঐতিহাসিক ম্যাচে মেসিকে আকাশি-সাদা জার্সিতে শেষবারের মতো দেখা যাবে। এটি জাতীয় দলের হয়ে তাঁর ২০৮তম ম্যাচ হিসেবে নথিভুক্ত হবে।

আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বাধিক ম্যাচ খেলা এবং গোল করার রেকর্ডে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোই একমাত্র খেলোয়াড় যিনি মেসির উপরে অবস্থান করছেন। আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসি ইতোমধ্যেই সর্বোচ্চ ম্যাচ (২০৭) এবং সর্বোচ্চ গোলের (১২৫) রেকর্ড নিজের করে নিয়েছেন।

গত মাসে ফিফা শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে আর্জেন্টিনাকে তাদের পরবর্তী ঘরের মাঠের ম্যাচের দর্শক ধারণক্ষমতা অর্ধেকে (৫০ শতাংশ) কমিয়ে আনার নির্দেশ দিয়েছে। এর ফলস্বরূপ, মারিও কেম্পেস স্টেডিয়ামে বলিভিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে এএফএকে ৫০ শতাংশ দর্শক ধারণক্ষমতা হ্রাস করতে হবে।

ক্রীড়া ইভেন্টকে রাজনৈতিক বা ক্রীড়াবহির্ভূত প্রদর্শনীর কাজে ব্যবহার করার কারণেই আর্জেন্টিনা এই শাস্তির সম্মুখীন হয়েছে। সর্বশেষ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে পরাজিত করার পর আর্জেন্টিনার কয়েকজন খেলোয়াড় ‘ফকল্যান্ড আর্জেন্টিনার’ লেখা একটি রাজনৈতিক বার্তাসংবলিত ব্যানার প্রদর্শন করেছিলেন।

ধারণা করা হচ্ছে যে, সর্বশেষ বিশ্বকাপ ফাইনালের পর আর্জেন্টিনা ও স্পেনের খেলোয়াড়দের মধ্যে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘর্ষের ঘটনায় প্রাপ্ত নিষেধাজ্ঞাগুলো এই প্রীতি ম্যাচগুলোতেই কার্যকর করা হবে। সেই ঘটনায় আর্জেন্টিনা দলের মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে ১০ ম্যাচ, ডিফেন্ডার নাহুয়েল মলিনাকে ৭ ম্যাচ এবং ফরোয়ার্ড থিয়াগো আলমাদাকে ১ ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।