Tue 8th Sep 2026, 4:54 pm

ইতালিতে হেনস্তার শিকার অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন: "আমাকে দমানো সহজ নয়"

ইতালিতে হেনস্তার শিকার অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন: "আমাকে দমানো সহজ নয়"
ইতালিতে এক ন্যাক্কারজনক হামলা ও হেনস্তার শিকার হয়েছেন বাংলাদেশের সুপরিচিত অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। তিনি জানিয়েছেন যে, তাঁর দিকে পানি, কোমল পানীয় এবং ডিম নিক্ষেপ করা হয়েছে এবং তাঁকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়েছে।
বাঁধন আরও উল্লেখ করেন যে, হামলাকারীরা তাঁর মুঠোফোন কেড়ে নিয়ে ফেলে দেয়। এই ঘটনার সময় তাঁর ভাইয়ের শিশুসন্তানও তাঁর সঙ্গে ছিল। এই হামলার পর তিনি দ্রুত স্থানীয় থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিনেত্রী বাঁধন অভিযোগ করেছেন যে, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে তাঁর সক্রিয় অংশগ্রহণের কারণেই তাঁকে উদ্দেশ্য করে এই আক্রমণ চালানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, হামলাকারীদের কয়েকজন নিজেদের আওয়ামী লীগ (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) এবং ছাত্রলীগের (নিষিদ্ধ) কর্মী ও 'বঙ্গবন্ধুর সৈনিক' হিসেবে পরিচয় দেয়।
অভিনেত্রীর ভাষ্যমতে, তাঁকে জোরপূর্বক 'জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু' স্লোগান দিতে বাধ্য করা হয়। হামলাকারীরা এই দৃশ্য ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার ও প্রকাশেরও অপচেষ্টা চালায়।
৮৩তম ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত 'দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড' চলচ্চিত্রের প্রদর্শনীতে যোগ দিতে ইতালিতে অবস্থান করছেন বাঁধন। বর্তমানে তিনি মেস্ত্রে শহরে রয়েছেন। গত সোমবার রাতে তিনি তাঁর ভাই ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে একটি স্থানীয় পার্কে গেলে এই হামলা ও হেনস্তার শিকার হন।
এই ঘটনার পর, বাঁধন তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে সরাসরি সম্প্রচারে এসে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। পরবর্তীতে তিনি হামলা ও হেনস্তার বেশ কয়েকটি ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করেন।
প্রকাশিত ভিডিওগুলোতে দেখা যায়, কয়েকজন ব্যক্তি বাঁধনের দিকে আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে এগিয়ে আসছেন, তাঁর সঙ্গে ধস্তাধস্তি করছেন এবং উত্তেজিত কণ্ঠে কথা বলছেন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন বাঁধনকে 'জুলাই জঙ্গি' হিসেবে উল্লেখ করেন।
ফেসবুক লাইভে বাঁধন বলেন, "আমি আমার ভাইয়ের পরিবারের সঙ্গে একটি পার্কে গিয়েছিলাম। সেখানে আমাদের অনেক বাঙালি ভাই আমাকে শারীরিকভাবে হেনস্তা করেছে। তারা আমার শরীরে পানি, কোমল পানীয় নিক্ষেপ করেছে, যার ফলে আমি সম্পূর্ণ ভিজে গিয়েছিলাম।"
বাঁধন আরও জানান, তাঁকে শারীরিকভাবে আঘাত করা হয়েছে এবং তাঁর কানের পাশেও আঘাত লেগেছে। তিনি উল্লেখ করেন, "তারা আমার শরীরে হাত তুলেছে, আমার ফোন কেড়ে নিয়ে ফেলে দিয়েছে এবং আমার কানের পাশে আঘাত করেছে।"
ঘটনার সময় বাঁধনের ভাইয়ের শিশুসন্তানও উপস্থিত ছিল। প্রকাশিত একটি ভিডিওতে শিশুটির উপস্থিতির কথা উল্লেখ করে হামলাকারীদের থামাতে চেষ্টা করতে শোনা যায়। জবাবে একজন হামলাকারীকে বলতে শোনা যায়, "কিসের আবার বাচ্চা, ওকে জয় বাংলা বলতে হবে।"
ভিডিও ফুটেজগুলোতে আরও দেখা যায় যে, কয়েকজন ব্যক্তি বাঁধনকে 'জুলাই জঙ্গি' আখ্যা দিচ্ছেন এবং তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান সম্পর্কে আক্রমণাত্মক মন্তব্য করছেন।
বাঁধন দৃঢ়ভাবে বলেন, "তারা আমাকে 'জুলাই যোদ্ধা' বলেছে। হ্যাঁ, আমি তাই। আমি অবশ্যই জুলাই মাসের আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছি।"
বাঁধনের ভাইয়ের স্ত্রীকেও ধাক্কা দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, "আমার গায়ে হাত তোলা হয়েছে। আমার ভাইয়ের স্ত্রীকেও ধাক্কা দেওয়া হয়েছে।"
এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বাঁধন বলেন, "আজমেরী হক বাঁধনকে দমিয়ে রাখা এত সহজ হবে না। আপনারা আজ সারা বিশ্বের মানুষকে দেখিয়ে দিলেন যে, বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বকারী একজন অভিনেত্রীকে কীভাবে হেনস্তা করা হয়।"
হামলাকারীদের উদ্দেশে বাঁধন আরও বলেন, "আপনাদের এই অসংলগ্ন ও অশালীন আচরণ থেকে সরে আসা উচিত ছিল, কিন্তু আপনারা তা করেননি। আপনারা হয়তো ভেবেছেন যে, এভাবে করেই ভবিষ্যতে নিজেদের অবস্থান সুসংহত করতে পারবেন। আমার এমনটা মনে হচ্ছে না।"
এক ভিডিও বার্তায় বাঁধন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের কথাও উল্লেখ করেন। তিনি জানান যে, সজীব ওয়াজেদ জয়ও ভেনিসে উপস্থিত আছেন এবং অভিনেত্রী এই ঘটনা তাঁর গোচরে আনার কথা বলেন।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে বাঁধন রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন। তিনি এই আন্দোলনের সমর্থনে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন গণমাধ্যমেও কথা বলেছিলেন।
ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে 'দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড' চলচ্চিত্রের দলের একজন সদস্য হিসেবে বাঁধন অংশ নিয়েছেন। রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত এই চলচ্চিত্রটি উৎসবের প্রতিযোগিতামূলক 'অরিজন্তি' বিভাগে স্থান পেয়েছে। ৬ সেপ্টেম্বর সালা দারসেনা থিয়েটারে সিনেমাটির ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার অনুষ্ঠিত হয়। এই চলচ্চিত্রে জাইনীন করিম, রিকিতা নন্দিনী শিমু, সুনেরাহ্‌ বিনতে কামাল এবং আজমেরী হক বাঁধন – এই চারজন অভিনেত্রী মুখ্য নারী চরিত্রে অভিনয় করেছেন।