Wed 19th Aug 2026, 4:30 pm

এসএসসি ফলাফল পুনর্নিরীক্ষণে অভূতপূর্ব সাড়া: ১৩ লাখ আবেদনের নতুন রেকর্ড

এসএসসি ফলাফল পুনর্নিরীক্ষণে অভূতপূর্ব সাড়া: ১৩ লাখ আবেদনের নতুন রেকর্ড
চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার পাসের হার গত ১৯ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন হওয়ায় রেকর্ড সংখ্যক ১৩ লাখ শিক্ষার্থী তাদের ফলাফল চ্যালেঞ্জ করে উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আবেদন করেছে, যা শিক্ষা বোর্ডগুলোর জন্য গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এই প্রসঙ্গে বলেন, "মনে হচ্ছে, সবাই তাদের উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়ন করাতে আগ্রহী। এমনকি জিপিএ-৫ বা গোল্ডেন এ প্লাস প্রাপ্ত শিক্ষার্থীরাও তাদের খাতা পুনর্মূল্যায়ন করাতে চাইছে। এর কারণ হলো, পরীক্ষার নম্বর ভবিষ্যতের শিক্ষাজীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এত বিপুল সংখ্যক উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়ন করা অত্যন্ত শ্রমসাধ্য একটি কাজ। এ কারণে সরকার উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের জন্য একটি নতুন নীতিমালা প্রণয়নের পরিকল্পনা করছে। এই নতুন নীতিমালায় কোন ধরনের উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের আওতায় আসবে, সেই বিষয়টি সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

মন্ত্রী এই মন্তব্যগুলো গতকাল সোমবার সকালে রাজধানী ঢাকার বনানীতে শেরাটন হোটেলে আয়োজিত ‘কিউএস বাংলাদেশ ফোরাম ২০২৬’ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে করেন। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এ যাবৎ পুনর্নিরীক্ষার প্রক্রিয়ায় মূলত চারটি বিষয় যাচাই করা হতো। এগুলো হলো: সব প্রশ্নের নম্বর সঠিকভাবে দেওয়া হয়েছে কিনা, প্রাপ্ত নম্বরগুলোর যোগফল নির্ভুল আছে কিনা, খাতার ভেতরের নম্বর মূল কভার বা ওএমআর শিটে যথাযথভাবে স্থানান্তরিত হয়েছে কিনা এবং ওএমআর শিটে নম্বর অনুযায়ী বৃত্ত সঠিকভাবে ভরাট করা হয়েছে কিনা। এই চারটি পর্যায়ে কোনো ত্রুটি বা অসংগতি ধরা পড়লে তা সংশোধন করে নতুন ফল প্রকাশ করা হতো। তবে উত্তরপত্রকে কখনো নতুন করে মূল্যায়ন করা হয়নি। তবে, নতুন পদ্ধতিতে এবার পুনর্নিরীক্ষণের ক্ষেত্রে পুরো উত্তরপত্র একজন তৃতীয় পরীক্ষকের মাধ্যমে পুনরায় যাচাই বা মূল্যায়ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।

আন্তঃশিক্ষা সমন্বয় বোর্ড সভাপতি এবং ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আখতারুজ্জামান গতকাল বিকালে সাংবাদিকদের জানান যে, এসএসসির ১৩ লাখেরও বেশি উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের জন্য আবেদন জমা পড়েছে। গতকাল রাত ১২টায় এই আবেদনের সময়সীমা শেষ হয়েছে।

এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল পুনর্নিরীক্ষণের জন্য গত ১১ আগস্ট থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত অনলাইনে আবেদনপত্র গ্রহণ করা হয়। গত ১০ আগস্ট এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা ২০২৬-এর ফল প্রকাশের অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, কোনো শিক্ষার্থীকে যদি ভুল নম্বর দেওয়া হয় বা তারা তাদের প্রাপ্য নম্বর থেকে বঞ্চিত হয়, তবে সংশ্লিষ্ট উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়ন করা হবে। এর জন্য একটি রিভিউ কমিটি গঠন করা হবে এবং প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে তাদের ন্যায্য নম্বর প্রদানের ব্যবস্থা করা হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, পূর্বে পুনর্নিরীক্ষার ক্ষেত্রে প্রধানত ট্যাবুলেশন শিট যাচাই করা হতো এবং শিক্ষক সঠিকভাবে নম্বর দিয়েছেন কিনা, তা পুনরায় পরীক্ষা করার কোনো সুযোগ ছিল না। তবে, এবার আইনগতভাবে প্রতিটি শিক্ষার্থীর উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ নিশ্চিত করা হয়েছে।