মসজিদের সিঁড়ির নিচে গ্যাসের লাইনের সন্ধান

মসজিদের সিঁড়ির নিচে গ্যাসের লাইনের সন্ধান

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার পশ্চিম তল্লা এলাকায় বায়তুস সালাত জামে মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনায় মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ হচ্ছে  হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে 

 

 শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন পার্থ সংকর পাল জানান, সন্ধ্যায় হান্নান (৫০) নামে একজনের মৃত্যু হয়েছে নিয়ে মোট ২৮ জনের মৃত্যু হলো বাকি আটজনের অবস্থাও আশঙ্কাজনক এদের প্রত্যেকের শ্বাসনালি পুড়ে গেছে এদিকে মসজিদের সিঁড়ির নিচে মাটি খুঁড়ে গতকাল গ্যাসের একটি পাইপ লাইনের সন্ধান পাওয়া গেছে এর আগে সন্ধান পাওয়া একটি গ্যাস লাইনের পাইপে পাওয়া যায় দুটি লিকেজ বিস্ফোরণের ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্ত শুরু করেছে পুুলিশ তদন্তকারী দল এদিন বেশ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে

 

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার পশ্চিম তল্লা এলাকার বাইতুস সালাত জামে মসজিদে বিস্ফোরণে হতাহতের ঘটনায় মৃত্যুর লড়াইয়ে হেরে না ফেরার দেশে চলে গেছেন ২৮ জন। এখন জীবিত নয়জনের মধ্যে আটজনের অবস্থাই আশঙ্কাজনক। একজন হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. পার্থ সংকর পাল বলেন, ঘটনায় পর্যন্ত মোট ৩৭ জন হাসপাতালে

 

গতকাল বিকালে ফুট মাটি খুঁড়ে তিন ইঞ্চি ব্যাসের পাইপ পাওয়া যায়। তিতাসের নিয়োজিত শ্রমিকরা জানান, মসজিদের দুটি সিঁড়ি ভাঙতে হয়েছে। তারপর মাটি খুঁড়ে সিঁড়ির নিচেই পাওয়া গেছে লাইনটি। সম্পূর্ণ পাইপটি বের না করা পর্যন্ত লিকেজ আছে কিনা বলা যাচ্ছে না।

 

এর আগে গত সোমবার সকাল ৯টা থেকে বিস্ফোরণের ঘটনায় মাটির নিচে গ্যাসের সম্ভাব্য উৎস অনুসন্ধানে খোঁড়াখুঁড়ি শুরু করে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের তদন্ত কমিটি। মসজিদের বিভিন্ন দিকে ছয়টি গর্ত করে ত্রুটিপূর্ণ গ্যাসের পাইপলাইন পাওয়া যায়। তিতাসের তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ঢাকা অফিসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (প্লানিং) আবদুল ওয়াহাব তালুকদার গণমাধ্যমকে বলেন, ‘যে পাইপটির সন্ধান পাওয়া যায় তাতে দুটি লিকেজ দেখা  গেছে। তিতাসের নারায়ণগঞ্জের উপমহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মো. মফিজুল ইসলাম বলেন, মসজিদের সিঁড়ির নিচে পাইপ লাইন পাওয়া গেছে। লিকেজ আছে কিনা সম্পূর্ণ কাজ শেষ হওয়ার পর জানানো হবে

 

এদিকে মসজিদের বিস্ফোরণের ঘটনায় পরদিন অবহেলা গাফিলতির অভিযোগে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা করেছে পুলিশ। এই মামলার তদন্তে এলাকাবাসীকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। প্রথম দিন মসজিদ কমিটির সভাপতি আবদুল গফফুরসহ বেশ কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলেছে পুলিশ

 

জিজ্ঞাসাবাদ শেষে গণমাধ্যমকে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ( সার্কেল) মেহেদী ইমরান সিদ্দিকী বলেন, প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া গেছে মসজিদটি নির্মাণের ক্ষেত্রে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেওয়া হয়নি। এতে মসজিদ কমিটির দায় এখানে আছে। তাদের বিরুদ্ধে অবহেলার প্রমাণ পেলে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে। মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে তিনি বলেন, আমরা কাজ করছি। কারা জড়িত তাদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি। ঘটনায় যারা প্রকৃতভাবে অবহেলা করেছে তাদের আমরা চিহ্নিত করার চেষ্টা করছি