ঢাকা শহরে আবাসন সন্ধানের সময় অনেকেই এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন হন, যেখানে ভাড়া ও অবস্থান পছন্দ হলেও 'ফ্যামিলি নাকি ব্যাচেলর' এই প্রশ্নেই প্রক্রিয়াটি থেমে যায়। 'দুঃখিত, ব্যাচেলর ভাড়া দেওয়া হয় না'—এই বাক্যটি ঢাকায় ব্যাচেলরদের জন্য একটি অতি পরিচিত বাস্তবতা। শিক্ষার্থী বা কর্মজীবী নির্বিশেষে, 'ব্যাচেলর' পরিচয়ের কারণে অসংখ্য বাড়ির দরজা শুরুতেই বন্ধ হয়ে যায়। অনেক ক্ষেত্রে ছাত্র-ছাত্রী বা নির্দিষ্ট লিঙ্গের ব্যাচেলরদের প্রতি বাড়িওয়ালাদের আপত্তির কারণে সমস্যা আরও প্রকট হয়। ফলস্বরূপ, অন্যান্য ভাড়াটিয়াদের মতো কেবল 'টু-লেট' বিজ্ঞপ্তি দেখে ফোন করলেই ব্যাচেলরদের আবাসন সংকট দূর হয় না। তবে, কিছু সুচিন্তিত কৌশল অবলম্বন করলে সময় ও ভোগান্তি অনেকটাই হ্রাস করা সম্ভব।
**ব্যাচেলর ভাড়াটিয়া আছে এমন বাসা খুঁজুন**
প্রতিটি 'টু-লেট' নম্বরে ফোন করে 'ব্যাচেলর ভাড়া দেওয়া হয় না' শুনতে বারবার সময় নষ্ট না করে, প্রাথমিকভাবে সেইসব ভবন বা গলির খোঁজ নিন যেখানে ইতোমধ্যে ব্যাচেলর ভাড়াটিয়ারা অবস্থান করছেন। সহকর্মী, বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধু, সিনিয়র বা পরিচিতদের মাধ্যমে এ ধরনের তথ্য সংগ্রহ করা যেতে পারে। যে ভবনগুলোতে পূর্বে থেকেই ব্যাচেলর ভাড়াটিয়া রয়েছে, সেখানে নতুন ব্যাচেলরদের স্থান পাওয়ার সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে। তাই শুধু শূন্য বাসা নয়, ব্যাচেলররা কোথায় বসবাস করছেন, সেই সুনির্দিষ্ট তথ্য সংগ্রহে মনোযোগ দিন।
**দারোয়ান বা নিরাপত্তাকর্মীদের জিজ্ঞেস করুন**
ঢাকা শহরে আবাসন সন্ধানের ক্ষেত্রে ভবনের দারোয়ান বা নিরাপত্তাকর্মীরা অত্যন্ত সহায়ক হতে পারেন। অনেক সময় 'টু-লেট' বোর্ড না থাকলেও কোন ফ্ল্যাট খালি হবে অথবা কোন বাড়িওয়ালা ব্যাচেলরদের ভাড়া দেন, সে সম্পর্কে তাদের কাছে মূল্যবান তথ্য থাকে। আপনার পছন্দের এলাকার কয়েকটি গলি ঘুরে ভবনের নিরাপত্তাকর্মীদের সাথে সরাসরি কথা বলতে পারেন। একটি ভবনে স্থান না মিললেও তারা পার্শ্ববর্তী ভবনের তথ্য দিতে সক্ষম হতে পারেন।
**'টু-লেট' দেখলেই নম্বরের ছবি তুলে রাখুন**
একই অঞ্চলে আবাসন অনুসন্ধানের সময় একাধিক 'টু-লেট' বিজ্ঞপ্তি চোখে পড়তে পারে। প্রতিটি ভবনের সামনে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে কথা না বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত ফোন নম্বরগুলোর ছবি তুলে নিন। পরবর্তীতে সুবিধাজনক সময়ে বসে একে একে ফোন করে প্রথমেই নিশ্চিত হয়ে নিন যে ব্যাচেলর ভাড়া দেওয়া হবে কিনা। ইতিবাচক উত্তর পেলে ভাড়া, অগ্রিম এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক তথ্য জেনে তারপর বাসা পরিদর্শনে যান। এই পদ্ধতিতে 'ব্যাচেলর ভাড়া দেওয়া হয় না' শুনে অযথা এক ভবন থেকে অন্য ভবনে ঘোরাঘুরির প্রয়োজন হবে না।
**মাসের শেষের দিকে খোঁজ বাড়ান**
অনেক ভাড়াটিয়া সাধারণত মাস শেষে তাদের বর্তমান বাসা ছেড়ে দেন। ফলে মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে পরবর্তী মাসে খালি হতে যাওয়া বাসার খবর পাওয়া যেতে পারে। বাসা ছাড়ার মাত্র কয়েক দিন আগে অনুসন্ধান শুরু করলে পছন্দের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ে, বিশেষ করে ব্যাচেলরদের জন্য বিকল্প আবাসন তুলনামূলকভাবে কম থাকে। তাই, সম্ভব হলে কয়েক সপ্তাহ আগে থেকেই অনুসন্ধান প্রক্রিয়া শুরু করা উচিত। পছন্দের এলাকায় নিয়মিত খোঁজখবর রাখলে নতুন রুম বা ফ্ল্যাট খালি হওয়ার খবর দ্রুত জানা সম্ভব।
**পরিচিত কারও মাধ্যমে কথা বলুন**
অনেক বাড়িওয়ালার আপত্তির মূল কারণ হলো ব্যাচেলর ভাড়াটিয়াদের ব্যক্তিগতভাবে না চেনা। বাসায় অতিরিক্ত ব্যক্তির আনাগোনা, উচ্চ শব্দ, নিয়মিত ভাড়া পরিশোধে অনিয়ম অথবা বাসার রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে তাদের মধ্যে বিভিন্ন আশঙ্কা কাজ করতে পারে। যদি ওই ভবনের বর্তমান কোনো ভাড়াটিয়া বা পরিচিত কারও মাধ্যমে বাড়িওয়ালার সাথে কথা বলার সুযোগ হয়, তবে তা কাজে লাগানো উচিত। আপনি কোথায় পড়াশোনা বা চাকরি করেন, কতজন বসবাস করবেন এবং কতদিনের জন্য বাসা প্রয়োজন, সে সম্পর্কে পরিষ্কারভাবে তথ্য দিন। পরিচিত কারও সুপারিশ বাড়িওয়ালার আস্থা অর্জনে অত্যন্ত সহায়ক হতে পারে।
**'আমরা ভালো ব্যাচেলর' না বলে নির্দিষ্ট তথ্য দিন**
'আমরা কোনো ঝামেলা করব না'—এই ধরনের সাধারণ আশ্বাসের পরিবর্তে বাড়িওয়ালাকে সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রদান অধিক কার্যকর হতে পারে। কতজন বসবাস করবেন, প্রত্যেকে কোথায় কর্মরত বা অধ্যয়নরত এবং দীর্ঘমেয়াদী অবস্থানের পরিকল্পনা আছে কিনা, তা সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করুন। প্রয়োজনে শিক্ষার্থী পরিচয়পত্র বা কর্মস্থলের পরিচয়পত্র দেখাতে প্রস্তুত থাকুন। যদি পূর্বে কোনো বাসায় ভাড়া থেকে থাকেন এবং পূর্ববর্তী বাড়িওয়ালার সাথে আপনার সুসম্পর্ক থাকে, তবে তার অনুমতি নিয়ে রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। তবে, আবাসন লাভের জন্য নিজেকে 'ফ্যামিলি' হিসেবে পরিচয় দেওয়া অথবা বাসায় কতজন থাকবেন, সেই তথ্য গোপন করা থেকে বিরত থাকুন। পরবর্তীতে এই তথ্য প্রকাশ পেলে বাসা ছাড়ার মতো জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে।
**শুধু 'বাসা ভাড়া' লিখে অনলাইনে খুঁজবেন না**
ফেসবুক বা অন্যান্য অনলাইন প্ল্যাটফর্মে কেবল 'বাসা ভাড়া' লিখে অনুসন্ধান করলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে পারিবারিক আবাসনের বিজ্ঞাপন সামনে আসে। তাই, নির্দিষ্ট এলাকার নামের সাথে 'ব্যাচেলর বাসা', 'সাবলেট', 'রুমমেট চাই', 'সিট ভাড়া' অথবা 'শেয়ারড ফ্ল্যাট' ইত্যাদি শব্দগুচ্ছ ব্যবহার করে অনুসন্ধান করলে আরও প্রাসঙ্গিক ফলাফল পাওয়া যাবে।
**পুরো ফ্ল্যাটের বদলে শেয়ারড বাসা ভাবতে পারেন**
ব্যাচেলর হিসেবে সম্পূর্ণ ফ্ল্যাট ভাড়া পাওয়া কঠিন হলে, একটি শেয়ারড ফ্ল্যাটে কক্ষ খোঁজার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারেন। বিশেষ করে যারা ঢাকায় নতুন এসেছেন, তাদের জন্য এটি আবাসন সন্ধানের চাপ অনেকাংশে হ্রাস করতে পারে। তবে, ফ্ল্যাটে ওঠার পূর্বে বাড়িওয়ালা নতুন সদস্য সম্পর্কে অবগত আছেন কিনা, তা নিশ্চিত হয়ে নিন। এছাড়াও, বর্তমান ভাড়াটিয়াদের সাথে ভাড়া, বিদ্যুৎ বিল, বাজার খরচ, রান্নার ব্যবস্থা এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার নিয়মাবলী সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করে স্বচ্ছ ধারণা নিন।
**বাসা দেখতে গেলে পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখুন**
কিছু বাড়িওয়ালা ব্যাচেলর ভাড়াটিয়ার কর্মস্থল বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সম্পর্কে নিশ্চিত হতে আগ্রহী হন। অফিস বা শিক্ষার্থী পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখলে প্রয়োজনের সময় তা প্রদর্শন করতে পারবেন। তবে, পরিচয়পত্রের অনুলিপি কোথায় এবং কার কাছে জমা দিচ্ছেন, সে বিষয়ে সতর্ক থাকুন। কেবলমাত্র বাসা পরিদর্শনের পর্যায়েই অপ্রয়োজনে ব্যক্তিগত নথিপত্রের অনুলিপি সরবরাহ করা থেকে বিরত থাকুন।
**বাড়িওয়ালার নিয়ম শুরুতেই জেনে নিন**
ব্যাচেলর বাসা খুঁজে পেয়েছেন বলেই তাড়াহুড়ো করে সেখানে উঠে পড়া উচিত নয়। বাসায় প্রবেশের নির্দিষ্ট সময়সীমা আছে কিনা, অতিথি আনার নিয়মাবলী কী, ছাদ ব্যবহারের অনুমতি আছে কিনা অথবা কতজন থাকার অনুমতি রয়েছে—এই সমস্ত বিষয়ে শুরুতেই বিস্তারিত জেনে নিন। উদাহরণস্বরূপ, যদি আপনি রাতের শিফটে কাজ করেন এবং ভবনের মূল ফটক নির্দিষ্ট সময়ের পর বন্ধ হয়ে যায়, তবে আবাসন পাওয়ার প্রাথমিক আনন্দ খুব দ্রুতই সমস্যায় পরিণত হতে পারে।
**একবার 'না' শুনলে সেখানে সময় নষ্ট করবেন না**
যদি কোনো বাড়িওয়ালা ব্যাচেলরদের ভাড়া দিতে স্পষ্টতই আপত্তি জানান, তবে দীর্ঘ সময় ধরে তাকে বোঝানোর চেষ্টা না করাই বুদ্ধিমানের কাজ। সেই সময়টুকু অন্য আবাসন অনুসন্ধানে ব্যয় করুন।
ঢাকা শহরে ব্যাচেলরদের আবাসন সন্ধানের প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো, উপলব্ধ সব খালি ফ্ল্যাট তাদের জন্য উপযুক্ত না হওয়া। তাই, এলোমেলোভাবে একটার পর একটা বাসা পরিদর্শনের পরিবর্তে, যেসব ভবনে ইতোমধ্যে ব্যাচেলররা বসবাস করছেন, সেসবের খোঁজ করা; দারোয়ানদের সাথে যোগাযোগ করা; পরিচিতদের অবহিত করা; এবং 'সাবলেট' বা 'রুমমেট চাই' জাতীয় বিজ্ঞাপনে মনোযোগ দেওয়া অধিক কার্যকর প্রমাণিত হতে পারে। অনুসন্ধান প্রক্রিয়া কিছুটা আগে শুরু করলে এবং শুরুতেই নিজের পরিচয় ও উদ্দেশ্য স্পষ্ট রাখলে, 'ব্যাচেলর দেওয়া হয় না' শুনতে শুনতে শহরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ঘুরে বেড়ানোর ভোগান্তি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
**ব্যাচেলর ভাড়াটিয়া আছে এমন বাসা খুঁজুন**
প্রতিটি 'টু-লেট' নম্বরে ফোন করে 'ব্যাচেলর ভাড়া দেওয়া হয় না' শুনতে বারবার সময় নষ্ট না করে, প্রাথমিকভাবে সেইসব ভবন বা গলির খোঁজ নিন যেখানে ইতোমধ্যে ব্যাচেলর ভাড়াটিয়ারা অবস্থান করছেন। সহকর্মী, বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধু, সিনিয়র বা পরিচিতদের মাধ্যমে এ ধরনের তথ্য সংগ্রহ করা যেতে পারে। যে ভবনগুলোতে পূর্বে থেকেই ব্যাচেলর ভাড়াটিয়া রয়েছে, সেখানে নতুন ব্যাচেলরদের স্থান পাওয়ার সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে। তাই শুধু শূন্য বাসা নয়, ব্যাচেলররা কোথায় বসবাস করছেন, সেই সুনির্দিষ্ট তথ্য সংগ্রহে মনোযোগ দিন।
**দারোয়ান বা নিরাপত্তাকর্মীদের জিজ্ঞেস করুন**
ঢাকা শহরে আবাসন সন্ধানের ক্ষেত্রে ভবনের দারোয়ান বা নিরাপত্তাকর্মীরা অত্যন্ত সহায়ক হতে পারেন। অনেক সময় 'টু-লেট' বোর্ড না থাকলেও কোন ফ্ল্যাট খালি হবে অথবা কোন বাড়িওয়ালা ব্যাচেলরদের ভাড়া দেন, সে সম্পর্কে তাদের কাছে মূল্যবান তথ্য থাকে। আপনার পছন্দের এলাকার কয়েকটি গলি ঘুরে ভবনের নিরাপত্তাকর্মীদের সাথে সরাসরি কথা বলতে পারেন। একটি ভবনে স্থান না মিললেও তারা পার্শ্ববর্তী ভবনের তথ্য দিতে সক্ষম হতে পারেন।
**'টু-লেট' দেখলেই নম্বরের ছবি তুলে রাখুন**
একই অঞ্চলে আবাসন অনুসন্ধানের সময় একাধিক 'টু-লেট' বিজ্ঞপ্তি চোখে পড়তে পারে। প্রতিটি ভবনের সামনে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে কথা না বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত ফোন নম্বরগুলোর ছবি তুলে নিন। পরবর্তীতে সুবিধাজনক সময়ে বসে একে একে ফোন করে প্রথমেই নিশ্চিত হয়ে নিন যে ব্যাচেলর ভাড়া দেওয়া হবে কিনা। ইতিবাচক উত্তর পেলে ভাড়া, অগ্রিম এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক তথ্য জেনে তারপর বাসা পরিদর্শনে যান। এই পদ্ধতিতে 'ব্যাচেলর ভাড়া দেওয়া হয় না' শুনে অযথা এক ভবন থেকে অন্য ভবনে ঘোরাঘুরির প্রয়োজন হবে না।
**মাসের শেষের দিকে খোঁজ বাড়ান**
অনেক ভাড়াটিয়া সাধারণত মাস শেষে তাদের বর্তমান বাসা ছেড়ে দেন। ফলে মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে পরবর্তী মাসে খালি হতে যাওয়া বাসার খবর পাওয়া যেতে পারে। বাসা ছাড়ার মাত্র কয়েক দিন আগে অনুসন্ধান শুরু করলে পছন্দের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ে, বিশেষ করে ব্যাচেলরদের জন্য বিকল্প আবাসন তুলনামূলকভাবে কম থাকে। তাই, সম্ভব হলে কয়েক সপ্তাহ আগে থেকেই অনুসন্ধান প্রক্রিয়া শুরু করা উচিত। পছন্দের এলাকায় নিয়মিত খোঁজখবর রাখলে নতুন রুম বা ফ্ল্যাট খালি হওয়ার খবর দ্রুত জানা সম্ভব।
**পরিচিত কারও মাধ্যমে কথা বলুন**
অনেক বাড়িওয়ালার আপত্তির মূল কারণ হলো ব্যাচেলর ভাড়াটিয়াদের ব্যক্তিগতভাবে না চেনা। বাসায় অতিরিক্ত ব্যক্তির আনাগোনা, উচ্চ শব্দ, নিয়মিত ভাড়া পরিশোধে অনিয়ম অথবা বাসার রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে তাদের মধ্যে বিভিন্ন আশঙ্কা কাজ করতে পারে। যদি ওই ভবনের বর্তমান কোনো ভাড়াটিয়া বা পরিচিত কারও মাধ্যমে বাড়িওয়ালার সাথে কথা বলার সুযোগ হয়, তবে তা কাজে লাগানো উচিত। আপনি কোথায় পড়াশোনা বা চাকরি করেন, কতজন বসবাস করবেন এবং কতদিনের জন্য বাসা প্রয়োজন, সে সম্পর্কে পরিষ্কারভাবে তথ্য দিন। পরিচিত কারও সুপারিশ বাড়িওয়ালার আস্থা অর্জনে অত্যন্ত সহায়ক হতে পারে।
**'আমরা ভালো ব্যাচেলর' না বলে নির্দিষ্ট তথ্য দিন**
'আমরা কোনো ঝামেলা করব না'—এই ধরনের সাধারণ আশ্বাসের পরিবর্তে বাড়িওয়ালাকে সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রদান অধিক কার্যকর হতে পারে। কতজন বসবাস করবেন, প্রত্যেকে কোথায় কর্মরত বা অধ্যয়নরত এবং দীর্ঘমেয়াদী অবস্থানের পরিকল্পনা আছে কিনা, তা সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করুন। প্রয়োজনে শিক্ষার্থী পরিচয়পত্র বা কর্মস্থলের পরিচয়পত্র দেখাতে প্রস্তুত থাকুন। যদি পূর্বে কোনো বাসায় ভাড়া থেকে থাকেন এবং পূর্ববর্তী বাড়িওয়ালার সাথে আপনার সুসম্পর্ক থাকে, তবে তার অনুমতি নিয়ে রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। তবে, আবাসন লাভের জন্য নিজেকে 'ফ্যামিলি' হিসেবে পরিচয় দেওয়া অথবা বাসায় কতজন থাকবেন, সেই তথ্য গোপন করা থেকে বিরত থাকুন। পরবর্তীতে এই তথ্য প্রকাশ পেলে বাসা ছাড়ার মতো জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে।
**শুধু 'বাসা ভাড়া' লিখে অনলাইনে খুঁজবেন না**
ফেসবুক বা অন্যান্য অনলাইন প্ল্যাটফর্মে কেবল 'বাসা ভাড়া' লিখে অনুসন্ধান করলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে পারিবারিক আবাসনের বিজ্ঞাপন সামনে আসে। তাই, নির্দিষ্ট এলাকার নামের সাথে 'ব্যাচেলর বাসা', 'সাবলেট', 'রুমমেট চাই', 'সিট ভাড়া' অথবা 'শেয়ারড ফ্ল্যাট' ইত্যাদি শব্দগুচ্ছ ব্যবহার করে অনুসন্ধান করলে আরও প্রাসঙ্গিক ফলাফল পাওয়া যাবে।
**পুরো ফ্ল্যাটের বদলে শেয়ারড বাসা ভাবতে পারেন**
ব্যাচেলর হিসেবে সম্পূর্ণ ফ্ল্যাট ভাড়া পাওয়া কঠিন হলে, একটি শেয়ারড ফ্ল্যাটে কক্ষ খোঁজার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারেন। বিশেষ করে যারা ঢাকায় নতুন এসেছেন, তাদের জন্য এটি আবাসন সন্ধানের চাপ অনেকাংশে হ্রাস করতে পারে। তবে, ফ্ল্যাটে ওঠার পূর্বে বাড়িওয়ালা নতুন সদস্য সম্পর্কে অবগত আছেন কিনা, তা নিশ্চিত হয়ে নিন। এছাড়াও, বর্তমান ভাড়াটিয়াদের সাথে ভাড়া, বিদ্যুৎ বিল, বাজার খরচ, রান্নার ব্যবস্থা এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার নিয়মাবলী সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করে স্বচ্ছ ধারণা নিন।
**বাসা দেখতে গেলে পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখুন**
কিছু বাড়িওয়ালা ব্যাচেলর ভাড়াটিয়ার কর্মস্থল বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সম্পর্কে নিশ্চিত হতে আগ্রহী হন। অফিস বা শিক্ষার্থী পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখলে প্রয়োজনের সময় তা প্রদর্শন করতে পারবেন। তবে, পরিচয়পত্রের অনুলিপি কোথায় এবং কার কাছে জমা দিচ্ছেন, সে বিষয়ে সতর্ক থাকুন। কেবলমাত্র বাসা পরিদর্শনের পর্যায়েই অপ্রয়োজনে ব্যক্তিগত নথিপত্রের অনুলিপি সরবরাহ করা থেকে বিরত থাকুন।
**বাড়িওয়ালার নিয়ম শুরুতেই জেনে নিন**
ব্যাচেলর বাসা খুঁজে পেয়েছেন বলেই তাড়াহুড়ো করে সেখানে উঠে পড়া উচিত নয়। বাসায় প্রবেশের নির্দিষ্ট সময়সীমা আছে কিনা, অতিথি আনার নিয়মাবলী কী, ছাদ ব্যবহারের অনুমতি আছে কিনা অথবা কতজন থাকার অনুমতি রয়েছে—এই সমস্ত বিষয়ে শুরুতেই বিস্তারিত জেনে নিন। উদাহরণস্বরূপ, যদি আপনি রাতের শিফটে কাজ করেন এবং ভবনের মূল ফটক নির্দিষ্ট সময়ের পর বন্ধ হয়ে যায়, তবে আবাসন পাওয়ার প্রাথমিক আনন্দ খুব দ্রুতই সমস্যায় পরিণত হতে পারে।
**একবার 'না' শুনলে সেখানে সময় নষ্ট করবেন না**
যদি কোনো বাড়িওয়ালা ব্যাচেলরদের ভাড়া দিতে স্পষ্টতই আপত্তি জানান, তবে দীর্ঘ সময় ধরে তাকে বোঝানোর চেষ্টা না করাই বুদ্ধিমানের কাজ। সেই সময়টুকু অন্য আবাসন অনুসন্ধানে ব্যয় করুন।
ঢাকা শহরে ব্যাচেলরদের আবাসন সন্ধানের প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো, উপলব্ধ সব খালি ফ্ল্যাট তাদের জন্য উপযুক্ত না হওয়া। তাই, এলোমেলোভাবে একটার পর একটা বাসা পরিদর্শনের পরিবর্তে, যেসব ভবনে ইতোমধ্যে ব্যাচেলররা বসবাস করছেন, সেসবের খোঁজ করা; দারোয়ানদের সাথে যোগাযোগ করা; পরিচিতদের অবহিত করা; এবং 'সাবলেট' বা 'রুমমেট চাই' জাতীয় বিজ্ঞাপনে মনোযোগ দেওয়া অধিক কার্যকর প্রমাণিত হতে পারে। অনুসন্ধান প্রক্রিয়া কিছুটা আগে শুরু করলে এবং শুরুতেই নিজের পরিচয় ও উদ্দেশ্য স্পষ্ট রাখলে, 'ব্যাচেলর দেওয়া হয় না' শুনতে শুনতে শহরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ঘুরে বেড়ানোর ভোগান্তি অনেকটাই কমানো সম্ভব।