Fri 17th Jul 2026, 1:40 am

আরিফিন শুভ ও কেয়া পায়েলের পোস্ট ঘিরে জল্পনা: ‘সুখের সংসার’ নাকি কেবলই প্রচারণা?

আরিফিন শুভ ও কেয়া পায়েলের পোস্ট ঘিরে জল্পনা: ‘সুখের সংসার’ নাকি কেবলই প্রচারণা?
সম্প্রতি ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেতা আরিফিন শুভ এবং অভিনেত্রী কেয়া পায়েলের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ঘিরে তৈরি হয়েছিল ব্যাপক কৌতূহল ও জল্পনা। উভয়েই তাঁদের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি অন্তরঙ্গ ছবি পোস্ট করেন, যেখানে শুভকে কেয়া পায়েলকে আলিঙ্গনরত অবস্থায় দেখা যায়। ছবিটির ক্যাপশনে লেখা ছিল, ‘হ্যাপিলি ম্যারিড উইথ কেয়া পায়েল’, এবং কেয়া পায়েলের অ্যাকাউন্ট থেকেও একই ধরনের ঘোষণা আসে, যেখানে উল্লেখ ছিল ‘হ্যাপিলি ম্যারিড উইথ আরিফিন শুভ’।

এই পোস্ট দ্রুতই সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং মুহূর্তেই শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা। অনেকেই অনুমান করতে থাকেন যে, আরিফিন শুভ হয়তো তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের নানা বাঁকের পর নতুন করে সংসার শুরু করেছেন। ফলস্বরূপ, এই তারকা জুটিকে অভিনন্দন জানানোর হিড়িক পড়ে যায়।

তবে অনুসন্ধানে জানা যায়, আরিফিন শুভ এবং কেয়া পায়েল বাস্তবে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হননি। বরং, তাঁদের এই আলোচিত পোস্টটি ছিল আসন্ন চরকি অরিজিনাল ফিল্ম ‘হ্যাপিলি ম্যারিড’-এর অভিনব প্রচারণার একটি অংশ।

এই ফিল্মের মাধ্যমেই আরিফিন শুভ ও কেয়া পায়েল প্রথমবারের মতো জুটি বেঁধেছেন। জাহিদ প্রীতম পরিচালিত চরকি অরিজিনাল এই ফিল্মে তাঁরা মূল চরিত্রে অভিনয় করছেন। আরিফিন শুভ দীর্ঘদিন পর চরকির কোনো প্রযোজনায় ফিরছেন, অন্যদিকে কেয়া পায়েলের জন্য এটি চরকিতে প্রথম কাজ। ‘মিনিস্ট্রি অব লাভ (এমওএল)’ প্রকল্পের সপ্তম ফিল্ম এটি, যার সহপ্রযোজনা করেছে ছবিয়াল।

‘হ্যাপিলি ম্যারিড’ ফিল্মের গল্প আবর্তিত হয়েছে আধুনিক জীবনের জটিলতা, পারিবারিক সম্পর্কের চিরন্তন প্রেক্ষাপট এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গভীর প্রভাবকে কেন্দ্র করে। নির্মাতা জাহিদ প্রীতম এই প্রসঙ্গে বলেন, ‘এটি সমসাময়িক দুটি ভিন্ন প্রজন্মের মানুষের গল্প, যারা ব্যক্তিসত্তা, পরিবার, সমাজ এবং নিজেদের সম্পর্ক নিয়ে কী ভাবেন, তার একটি প্রতিচ্ছবি ফিল্মটিতে উঠে আসবে। আমি বিশ্বাস করি, এটি দর্শকদের মনে এক নতুন উপলব্ধির জন্ম দেবে।’

এই ফিল্মে আরিফিন শুভ ‘আনিস’ চরিত্রে অভিনয় করেছেন। সাধারণত অ্যাকশনধর্মী বা দৃঢ় পুরুষ চরিত্রে অভ্যস্ত শুভকে এখানে সম্পূর্ণ ভিন্ন আঙ্গিকে দেখা যাবে। শুভ তাঁর চরিত্র প্রসঙ্গে বলেন, ‘“উনিশ২০”–এর পর চরকির সঙ্গে এটি আমার নতুন কাজ। এটি একটি রম-কম ঘরানার ছবি। আমি শুধু বলার জন্য বলছি না, সত্যি বলতে এমন চরিত্রে আমি আগে কাজ করিনি। দর্শকরা আমাকে যেভাবে দেখে অভ্যস্ত, এখানে আমাকে সেই চিরাচরিত শক্তিশালী পুরুষ চরিত্র থেকে বেরিয়ে এসে এক ভিন্ন রূপে দেখতে পাবেন।’

শুভ আরও জানান, আনিস চরিত্রটি মফস্বলের এক অত্যন্ত দায়িত্বশীল যুবককে উপস্থাপন করে, যার জীবন তার পরিবার, ছোট ভাইবোন এবং প্রিয়জনদের ঘিরেই আবর্তিত হয়।

গল্পের অপর প্রান্তে রয়েছে উচ্চবিত্ত এবং আধুনিক শহুরে পরিবেশে বেড়ে ওঠা তরুণী ‘অনামিকা’, যার চরিত্রে অভিনয় করেছেন কেয়া পায়েল। অনামিকার চরিত্রটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আকর্ষণ, সেলিব্রিটি ফ্যান্টাসি এবং ভার্চ্যুয়াল জগতের মনোহর স্বপ্নকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে।

কেয়া পায়েল এই কাজটি নিয়ে তাঁর উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, ‘কয়েকটি কারণে এই কাজটি আমার কাছে বিশেষভাবে ভালো লাগছে। প্রথমত, আমার সহশিল্পী আরিফিন শুভ ভাই; দ্বিতীয়ত, চরকির সঙ্গে এটি আমার প্রথম কাজ; এবং তৃতীয়ত, এর নির্মাতা জাহিদ প্রীতম।’

নিজের চরিত্র সম্পর্কে কেয়া যোগ করেন, ‘আমার চরিত্রটি এমন, যা সহজে দর্শকের মন জয় করবে। এতে আমার অভিনয়ের বিভিন্ন স্তর বা শেড বিদ্যমান। দর্শক আমাকে অনেক ধরনের চরিত্রে দেখেছেন, তবে এখানে তাঁরা আমাকে আরও একটি ভিন্ন আঙ্গিকে আবিষ্কার করবেন।’

নির্মাতা জাহিদ প্রীতমের মতে, ‘আমরা যে সামাজিক দূরত্বের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি, প্রযুক্তির অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে মানুষের মনস্তাত্ত্বিক যে পরিবর্তন ঘটছে, এবং চিরায়ত পারিবারিক মূল্যবোধের সঙ্গে এর যে সংঘাত, তার এক বাস্তবসম্মত প্রতিচ্ছবি এই ফিল্মে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।’

তিনি আরও দাবি করেন যে, এই ফিল্মে হাস্যরস, রোমান্স এবং আবেগঘন পারিবারিক মুহূর্তের সমন্বয় ঘটেছে, যা নিঃসন্দেহে দর্শকদের হৃদয় ছুঁয়ে যাবে।

চরকির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেদওয়ান রনি বলেন, ‘মিনিস্ট্রি অব লাভ প্রকল্পের প্রতিটি গল্পেই সম্পর্কের বিভিন্ন মাত্রা তুলে ধরা হয়েছে। এই ফিল্মের গল্পেও তেমনই এক সম্পর্কের গভীরতা দর্শক অনুভব করতে পারবেন।’

গল্পের অসাধারণত্বের কারণেই নুসরাত ইমরোজ তিশা এই ফিল্মের সহপ্রযোজনায় যুক্ত হয়েছেন। তিনি মন্তব্য করেন, ‘ভাবনার ভিন্নতা থেকে সৃষ্ট দুজন মানুষের দ্বন্দ্ব, তাদের খুনসুটি, এবং নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি মেলানোর যে প্রচেষ্টা – গল্পের এই দিকটি আমাকে ভীষণভাবে আকর্ষণ করেছে। এ কারণেই আমি এই কাজের সাথে যুক্ত হয়েছি। আর গল্পের মতোই, আমরা প্রধান দুই শিল্পীকেও কিছুটা ভিন্নরূপে দেখতে পাব, যা দর্শকদের ভালো লাগবে বলে আমি আশা করি।’

এর আগে আরিফিন শুভকে চরকিতে সর্বশেষ ২০২৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘উনিশ২০’ ফিল্মে দেখা গিয়েছিল। অপরদিকে, ‘ঘুমপরী’র পর এটি জাহিদ প্রীতমের পরিচালিত দ্বিতীয় চরকি অরিজিনাল ফিল্ম। ‘মিনিস্ট্রি অব লাভ’ প্রকল্পের অধীনে পূর্বে মুক্তিপ্রাপ্ত অন্যান্য জনপ্রিয় ফিল্মগুলো হলো ‘সামথিং লাইক অ্যান অটোবায়োগ্রাফি’, ‘লাস্ট ডিফেন্ডারস অব মনোগ্যামি’, ‘কাছের মানুষ দূরে থুইয়া’, ‘ফরগেট মি নট’, ‘৩৬–২৪–৩৬’ এবং ‘ডিমলাইট’।