Mon 13th Jul 2026, 12:08 am

ব্যবসায়িক ব্যয় হ্রাসে ধানমন্ডি-মোহাম্মদপুরের উদ্যোক্তাদের জোরালো আহ্বান

ব্যবসায়িক ব্যয় হ্রাসে ধানমন্ডি-মোহাম্মদপুরের উদ্যোক্তাদের জোরালো আহ্বান
বৈশ্বিক বাণিজ্যিক অস্থিরতা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ বহুমুখী প্রতিবন্ধকতার ফলে ব্যবসা পরিচালনা ক্রমশই জটিল হয়ে পড়ছে বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন রাজধানীর ধানমন্ডি-মোহাম্মদপুর অঞ্চলের ব্যবসায়ীরা। এই প্রেক্ষাপটে, তাঁরা পরিচালন ব্যয় হ্রাস, ট্রেড লাইসেন্সসহ বিভিন্ন সরকারি সেবাপ্রাপ্তি স্বয়ংক্রিয়করণ, ব্যাংকঋণের সুদের হার যৌক্তিকীকরণ, পণ্য আমদানির জন্য এলসি খোলার পদ্ধতি সরলীকরণ এবং সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতির জন্য জোর দাবি জানিয়েছেন।

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) কর্তৃক আয়োজিত 'সার্বিক স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন' শীর্ষক এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় অনুষ্ঠানে এসব দাবি উত্থাপন করা হয়। শনিবার ধানমন্ডির নিউ ধানমন্ডি কনভেনশন হলে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে ধানমন্ডি-মোহাম্মদপুর এলাকার ১৫টি ব্যবসায়ী সংগঠনের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ এবং শতাধিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

সভায় ডিসিসিআই সভাপতি, তাসকীন আহমেদ, উল্লেখ করেন যে প্রশাসনিক জটিলতা, কর ও ভ্যাট সংক্রান্ত বিদ্যমান অস্পষ্টতা এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির কারণে ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছেন। তিনি আরও জানান যে, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট এবং সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে দোকান ও শপিং মল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তের কারণে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের বিক্রয় ও টার্নওভার হ্রাস পাচ্ছে, যা উদ্বেগের কারণ।

তাসকীন আহমেদ আরও জানান যে, বর্তমান অর্থবছরের বাজেটে উৎসে করকে অগ্রিম কর হিসেবে বিবেচনা করা, শিল্প কাঁচামাল আমদানিতে উৎসে কর হ্রাস, সিএমএসএমই খাতের জন্য পাঁচ হাজার কোটি টাকার তহবিল বরাদ্দ এবং পাঁচ বছরের জন্য স্থিতিশীল কর কাঠামো ঘোষণার মতো পদক্ষেপগুলো নিঃসন্দেহে ব্যবসায়ীদের জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা। তবে, উচ্চ রাজস্ব সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা এবং বাজেট ঘাটতি পূরণে সরকারের ব্যাংকঋণ নির্ভরতা বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহকে সীমিত করছে, যা অর্থনীতির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা জোনায়েদ কবীর সভায় অবহিত করেন যে, ট্রেড লাইসেন্সসহ বিভিন্ন সরকারি সেবা গ্রহণে ব্যবসায়িক হয়রানি নিরসনে 'জিরো টলারেন্স' নীতি কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান যে, ডিসিসিআইয়ের প্রস্তাবনার পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা চেম্বার প্রাঙ্গণে একটি ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন সপ্তাহ আয়োজনের পরিকল্পনাও সক্রিয় বিবেচনাধীন রয়েছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম), মো. তারেক জুবায়ের, নিশ্চিত করেন যে চাঁদাবাজি দমনে অভিযান অব্যাহত আছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, রাজধানীর কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ সড়কে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ইতিবাচক ফলাফল পরিলক্ষিত হচ্ছে এবং সমগ্র শহরে 'স্মার্ট পুলিশিং-স্মার্ট সিটি' প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয়টি বর্তমানে সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

মুক্ত আলোচনা পর্বে অংশগ্রহণকারী ব্যবসায়ীবৃন্দ চশমা শিল্পে ব্যবহৃত যন্ত্রাংশ আমদানির নীতিমালা শিথিলকরণ, রিয়েল এস্টেট খাতে 'সাইনিং মানি'র উপর ধার্যকৃত কর হ্রাস, নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য এলসি খোলার প্রক্রিয়া সরলীকরণ, নারী উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে প্রণোদনা প্রদান এবং ট্রেড লাইসেন্স নবায়নের মেয়াদ এক বছরের পরিবর্তে পাঁচ বছরে উন্নীত করার সুনির্দিষ্ট দাবি উত্থাপন করেন।

অনুষ্ঠান সমাপ্তির পর, মোট ৩৯টি প্রতিষ্ঠানকে ডিসিসিআইয়ের সদস্যপদ প্রদান করা হয়। ডিসিসিআই সভাপতি, তাসকীন আহমেদ, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের হাতে সদস্যপদ সনদ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেন।