Tue 4th Aug 2026, 3:04 am

পর্যটনকেন্দ্রে নিরাপত্তাহীন প্যারাসেইলিং: দায়বদ্ধতার প্রশ্ন

পর্যটনকেন্দ্রে নিরাপত্তাহীন প্যারাসেইলিং: দায়বদ্ধতার প্রশ্ন
কক্সবাজারের জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে পর্যটকদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে দীর্ঘদিনের উদ্বেগ ফের প্রকট হয়ে উঠেছে সম্প্রতি প্যারাসেইলিং দুর্ঘটনায় এক তরুণের মর্মান্তিক প্রাণহানির ঘটনায়। দেশের বৃহত্তম এই পর্যটনস্থলে সমুদ্রে নেমে পর্যটকদের জীবনহানির ঘটনা প্রায়শই সংবাদ শিরোনাম হয়। এছাড়া, সৈকতের নির্জন এলাকায় ছিনতাই ও হত্যার মতো গুরুতর অপরাধের ঘটনাও ঘটেছে। সামগ্রিকভাবে, বাংলাদেশের এই প্রধান পর্যটন গন্তব্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যটকদের জন্য উদ্বেগজনক। দেশি মিডিয়া পয়েন্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত শনিবার দুপুরে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের দরিয়ানগর সৈকতে প্যারাসেইলিং করার সময় খুলনার তরুণ শৌভিক রায় ৩০০-৪০০ ফুট উচ্চতা থেকে হঠাৎ সমুদ্রে ছিটকে পড়েন। পরবর্তীতে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন। এই মর্মান্তিক ঘটনা থেকে এটি স্পষ্ট যে, দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম চালানো সম্ভব হলে হয়তো এই অপ্রত্যাশিত প্রাণহানি এড়ানো যেত। অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনকভাবে, ঘটনাস্থলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো লাইফগার্ডের উপস্থিতি ছিল না, এবং পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানেরও কোনো কার্যকর উদ্ধার ব্যবস্থা ছিল না। অ্যাডভেঞ্চারপ্রিয় পর্যটকদের মধ্যে প্যারাসেইলিং অত্যন্ত জনপ্রিয় হলেও, কক্সবাজারে এই কার্যক্রমে প্রায়শই দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়। এর প্রধান কারণ হলো, স্থানীয় পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো কোনো সুনির্দিষ্ট নিয়মকানুন ও নিরাপত্তা প্রোটোকল অনুসরণ না করে কেবল মুনাফার উদ্দেশ্যে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। আন্তর্জাতিক মানের নিরাপত্তা সরঞ্জাম, প্রশিক্ষিত অপারেটর, জরুরি উদ্ধারকারী জলযান এবং প্রাথমিক চিকিৎসা ব্যবস্থার অনুপস্থিতি এসব প্রতিষ্ঠানের সাধারণ বৈশিষ্ট্য। মূলত, সাধারণ দড়ি, প্যারাসেইল এবং স্পিডবোটের ওপর নির্ভর করেই তারা এই ঝুঁকিপূর্ণ পরিষেবা প্রদান করে চলেছে। প্রশ্ন জাগে, পর্যটকদের জীবন সুরক্ষার মতো একটি গুরুতর বিষয় জড়িত থাকা সত্ত্বেও এসব প্রতিষ্ঠান কীভাবে নিয়মকানুন উপেক্ষা করে নির্বিঘ্নে প্যারাসেইলিং কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে? জেলা প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে প্যারাসেইলিং বন্ধ রাখার নির্দেশনা ছিল, কিন্তু প্রতিষ্ঠানগুলো সেই নির্দেশনা অমান্য করে গোপনে কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। উল্লেখ্য, এর আগেও ২০২৩ সালে প্যারাসেইলিং-এ অন্তত দুটি দুর্ঘটনার খবর পাওয়া গিয়েছিল। যদি প্রশাসন পর্যটকদের নিরাপত্তা বিষয়টিকে সত্যিকার অর্থেই গুরুত্ব দিত, তাহলে এই অনিয়মতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে অনেক আগেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতো। অতএব, কার্যক্রমের অনুমতি প্রদানের পূর্বে প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়মকানুন পরিপালন নিশ্চিত করা অপরিহার্য। কোনো পর্যটক যদি কক্সবাজারে অবকাশ যাপন করতে এসে অকালে প্রাণ হারান, তবে তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। পর্যটন শিল্পকে একটি নিরাপদ, টেকসই এবং দায়িত্বশীল খাতে পরিণত করতে হলে 'দুর্ঘটনা ঘটার পর ব্যবস্থা গ্রহণ' করার পুরনো সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে 'দুর্ঘটনা যাতে না ঘটে' সেই লক্ষ্যে পূর্বপ্রস্তুতিমূলক ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা অত্যাবশ্যক।