বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের তত্ত্বাবধানে ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং, ডিপ্লোমা-ইন-ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি এবং সার্টিফিকেট ইন মেরিন ট্রেড শিক্ষাক্রমের পর্ব সমাপনী পরীক্ষা-২০২৫ আগামী ৬ আগস্ট ২০২৬, বৃহস্পতিবার, থেকে শুরু হয়ে ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত চলবে। ২০২২ প্রবিধানের আওতাভুক্ত ২য় ও ৫ম পর্বের শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক পরীক্ষা ৪ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত নির্ধারিত রয়েছে। অন্যান্য পর্বের ব্যবহারিক পরীক্ষা ৮ থেকে ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। এই পরীক্ষাগুলো সুচারু ও নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোর জন্য সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। বোর্ডের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে যে, একটি সুষ্ঠু ও নিরাপদ পরিবেশে পরীক্ষা আয়োজনের জন্য উল্লিখিত নির্দেশনাবলী অবশ্যপালনীয়।
**পরীক্ষা কেন্দ্র পরিচালনার সাধারণ নির্দেশনা:**
১. পরীক্ষা শুরুর পূর্বে একটি সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য স্থানীয় প্রশাসন এবং কেন্দ্রের আওতাধীন সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের সমন্বয়ে একটি সভার আয়োজন করা অপরিহার্য।
২. গত ২ জুলাই জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২০২২ প্রবিধানের আওতাধীন সকল টেকনোলজির Mathematic-1,2 & 3, Physics 1 & 2 এবং Chemistry বিষয়সমূহের পরীক্ষা পরিমার্জিত ও পুনর্বিন্যাসকৃত সিলেবাস অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হবে।
৩. একই টেকনোলজি বা বিভাগের শিক্ষকদের সেই টেকনোলজির শিক্ষার্থীদের কক্ষ পরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা যাবে না।
৪. কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ব্যতিরেকে অন্য কোনো শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী বা পরীক্ষার্থী পরীক্ষা কেন্দ্রে মোবাইল ফোন বহন করতে পারবেন না।
৫. তত্ত্বীয় পরীক্ষা গ্রহণের ক্ষেত্রে পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট পূর্বে বোর্ড থেকে অনলাইনে প্রশ্নপত্র সংগ্রহ করতে হবে।
৬. শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুসারে, পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা শুরুর ন্যূনতম ৩০ মিনিট পূর্বে অবশ্যই কেন্দ্রে প্রবেশ করতে হবে। অনিবার্য পরিস্থিতিতে কোনো পরীক্ষার্থীকে বিলম্বে প্রবেশ করতে অনুমতি দেওয়া হলে, তার নাম, রোল নম্বর, রেজিস্ট্রেশন নম্বর, পর্ব, টেকনোলজি, শিফট, প্রবেশের সময় এবং বিলম্বের কারণ একটি রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ করে সেই দিনই বোর্ডের কন্ট্রোল রুমে প্রতিবেদন পাঠাতে হবে। একই পরীক্ষার্থী বারবার বিলম্বে উপস্থিত হলে সে বিষয়ে তদন্ত করা হবে।
৭. পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশের পূর্বে যথাযথভাবে দেহ তল্লাশি নিশ্চিত করতে হবে।
৮. পরীক্ষা সংক্রান্ত সকল কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দিতে হবে এবং তাদের নিজ নিজ দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে সুস্পষ্টভাবে অবহিত করতে হবে।
৯. জেলা প্রশাসক বা উপজেলা নির্বাহী অফিসার, প্রয়োজনে বোর্ডকে অবহিত করে, সংশ্লিষ্ট জেলা বা উপজেলার যেকোনো সুবিধাজনক স্থানে পরীক্ষা আয়োজনের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবেন।
১০. প্রতিদিন প্রতিটি পরীক্ষার পর তথ্য www.bteb.gov.bd ওয়েবসাইটের “অনলাইন তথ্য প্রেরণ/গ্রহণ” এর “Center Examinee & Absent/Expelled তথ্য প্রেরণ” অপশনে প্রবেশ করে, ‘15-Diploma-In-Engg’ নির্বাচনপূর্বক সেন্টার কোড ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে লগইন করে পাঠাতে হবে। [অনলাইন এন্ট্রিসংক্রান্ত সহায়তার জন্য হেল্পলাইন: ০১৫৫০৬২০৬০৪]
১১. প্রতিটি বিষয়ের পরীক্ষা শেষে অনুপস্থিত পরীক্ষার্থীদের রোল নম্বর এবং কোনো বহিষ্কারের ঘটনা ঘটলে তার রোল নম্বর অনলাইনে এন্ট্রি করতে হবে।
১২. প্রতিদিন পরীক্ষা সমাপ্তির পর উত্তরপত্রসমূহ লাল কাপড়ের মোড়কে সিলগালা করে "পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বরাবর (দৃষ্টি আকর্ষণ: উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ডিপ্লোমা)), ভবন-০১, ৯ম তলা, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড উপ ডাকঘর, আগারগাঁও, ঢাকা-১২১০" ঠিকানায় প্রেরণ করতে হবে। প্রেরকের খামে অবশ্যই কেন্দ্রের নাম, কেন্দ্র কোড, পরীক্ষার তারিখ এবং প্রেরণের তারিখ উল্লেখ করতে হবে। উল্লেখ্য, শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক পূর্বে ও বর্তমানে সরবরাহকৃত উভয় প্রকার উত্তরপত্রই এই পরীক্ষায় ব্যবহারযোগ্য। তবে, প্রথমে পুরাতন উত্তরপত্র ব্যবহার করতে হবে এবং তা নিঃশেষ হলে নতুন উত্তরপত্র ব্যবহার শুরু করতে হবে।
**আসন বিন্যাস সংক্রান্ত নির্দেশনা:**
১. পরীক্ষা কক্ষে পরীক্ষার্থীদের আসনবিন্যাস এমনভাবে করতে হবে যেন তারা একদিকে মুখ করে বসে, এবং কোনো অবস্থাতেই মুখোমুখি বসার ব্যবস্থা করা যাবে না।
২. এক পরীক্ষার্থী থেকে অন্য পরীক্ষার্থীর ডানে-বাঁয়ে, সামনে ও পেছনে ন্যূনতম ১ (এক) মিটার দূরত্ব বজায় রাখতে হবে, যাতে পর্যাপ্ত আসন ব্যবধান নিশ্চিত হয় (৬ ফুট বেঞ্চে ২ জন এবং তার কম হলে ১ জন)।
৩. কেন্দ্রের নিজস্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষার্থীদের পরস্পর সন্নিকটে আসন ব্যবস্থা করা যাবে না। তবে, যদি একই কেন্দ্রে শুধুমাত্র একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে, তবে এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম হিসেবে Z অথবা I আকারে আসন বিন্যাস করা যেতে পারে।
৪. আসন ব্যবস্থার এক বা একাধিক কপি পরীক্ষা কেন্দ্রের বা ভেন্যুর প্রকাশ্য স্থানে সকলের অবগতির জন্য টাঙ্গিয়ে দিতে হবে।
৫. কোনো পরীক্ষার্থী অসুস্থতার কারণে নির্দিষ্ট আসনে বসে পরীক্ষা দিতে অপারগ হলে, কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তার জন্য কেন্দ্রের অভ্যন্তরে বিশেষ স্থানের ব্যবস্থা করতে পারবেন।
৬. বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন (যেমন: অন্ধ, সেরিব্রাল পালসি জনিত এবং হস্তবিহীন) পরীক্ষার্থীরা স্ক্রাইব (শ্রুতলেখক) নিয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে। তবে, সেক্ষেত্রে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন পরীক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত নীতিমালা অনুসরণপূর্বক বোর্ডের অনুমতিপত্র থাকা আবশ্যক।
৭. কোনো পরীক্ষার্থী যদি কারাগারে আটক থাকে এবং ওই কারাগার থেকেই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে ইচ্ছুক হয়, তবে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে বোর্ডকে অবহিত করে শুধুমাত্র তত্ত্বীয় বিষয়ে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে। তবে ব্যবহারিক পরীক্ষার জন্য ল্যাব বা ওয়ার্কশপে সশরীরে উপস্থিত থাকা বাধ্যতামূলক। উল্লেখ্য, কারাগারে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সমুদয় ব্যয়ভার সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার্থীকে বহন করতে হবে।
**প্রশ্নপত্র ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত নির্দেশনা:**
১. প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা বজায় রেখে ডাউনলোড, প্রিন্ট ও ফটোকপির জন্য দায়িত্বশীল শিক্ষক/কর্মকর্তা নিয়োগ দিতে হবে এবং দিন ও শিফট অনুযায়ী দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক/কর্মকর্তাদের একটি রেজিস্টারে রেকর্ড সংরক্ষণ করতে হবে।
২. পরীক্ষা শুরুর ৩০ (ত্রিশ) মিনিট পূর্বে বোর্ডের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সার্ভারে প্রবেশ করে প্রশ্নপত্র ডাউনলোড করতে হবে। যদি উক্ত সময়ে কেন্দ্রের জন্য নির্ধারিত প্রশ্নপত্র না পাওয়া যায়, তবে কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে বোর্ডের সংশ্লিষ্ট (গোপনীয়) শাখায় যোগাযোগ করতে হবে। প্রশ্নপত্র ডাউনলোড প্রক্রিয়া: bteb.gov.bd > প্রশ্নপত্র ডাউনলোড (সেন্টার কোড, মোবাইল নম্বর ও ওটিপি ব্যবহার করে প্রশ্নপত্র ডাউনলোড করতে হবে)।
৩. প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা সুরক্ষা নিশ্চিত করে ৩০ মিনিটের মধ্যে কেন্দ্রের প্রয়োজনীয় সংখ্যক প্রশ্নপত্র প্রিন্ট করে পরীক্ষা কক্ষে বিতরণ করতে হবে।
৪. পাসওয়ার্ডের গোপনীয়তা কঠোরভাবে বজায় রেখে প্রশ্নপত্র প্রেরণের জন্য ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার ই-মেইল এবং বিকল্প ই-মেইল ঠিকানা সর্বদা সচল রাখতে হবে। একইসাথে, বোর্ডে প্রদত্ত মোবাইল নম্বরটি পরীক্ষা চলাকালীন সার্বক্ষণিক চালু রাখা আবশ্যক। অনলাইনে কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোবাইল নম্বর, বিকল্প মোবাইল নম্বর, ই-মেইল ঠিকানা এবং বিকল্প ই-মেইল ঠিকানা প্রেরণ করতে হবে।
৫. ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে ক্যামেরাবিহীন সাধারণ ফিচার ফোন ব্যবহার করতে হবে।
৬. পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ও পরীক্ষার সময় (সকাল/বিকেল) বিবেচনায় পূর্ব থেকেই পর্যাপ্ত সংখ্যক শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সার্বক্ষণিক উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে।
৭. কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কর্তৃক প্রশ্নপত্র প্রিন্ট ও সংশ্লিষ্ট পরীক্ষা কক্ষে বিতরণের জন্য একটি নির্ধারিত 'টাইম ফ্রেম' সহ পরীক্ষা শুরু হওয়ার ৩০ মিনিট পূর্বে অনলাইনে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের কার্যক্রম গ্রহণের একটি চেক-লিস্ট তৈরি করে সে অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
৮. বিদ্যুৎ সরবরাহ বা বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, কম্পিউটার, ইন্টারনেট সংযোগ বা বিকল্প ইন্টারনেট সংযোগ, এবং পরীক্ষার্থীর সংখ্যা অনুযায়ী ফটোকপি মেশিন, ডুপ্লো-মেশিন ও প্রিন্টারের ব্যবস্থা করতে হবে এবং সেগুলো সচল রাখতে হবে। এছাড়াও, প্রিন্টার, ফটোকপি মেশিন ও ডুপ্লো-মেশিনের জন্য প্রয়োজনীয় টোনার, প্রশ্নপত্র ছাপানোর কাগজ এবং অন্যান্য সরঞ্জামাদি কেন্দ্রে পূর্ব থেকেই মজুত রাখা আবশ্যক।
**ব্যবহারিক পরীক্ষা সংক্রান্ত নির্দেশনা:**
১. ব্যবহারিক পরীক্ষা দুটি ধাপে অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম ধাপে, ২০২২ প্রবিধানভুক্ত ২য় ও ৫ম পর্বের পরীক্ষার্থীদের ব্যবহারিক পরীক্ষা ০১-০৪ আগস্ট ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত (তারিখ পরিবর্তন সাপেক্ষে) তত্ত্বীয় পরীক্ষা কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে সকল টেকনোলজিতে পরিচালিত হবে। দ্বিতীয় ধাপে, অন্যান্য পর্বের সকল পরীক্ষার্থীর ব্যবহারিক পরীক্ষা ০৮-১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত (তারিখ পরিবর্তন সাপেক্ষে) একইভাবে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে।
২. পরিমার্জিত ও পুনর্বিন্যাসকৃত সিলেবাস অনুযায়ী Mathematic-1, 2 ও 3 বিষয়সমূহের ব্যবহারিক অংশের সকল নম্বর ব্যবহারিক ধারাবাহিক (PC) হিসেবে প্রদান করতে হবে; এই কারণে ব্যবহারিক সমাপনী (PF) পরীক্ষা গ্রহণ করার প্রয়োজন হবে না।
৩. একই কেন্দ্রের অধীনে সময়সূচিতে উল্লিখিত তারিখ ও সময়ে ব্যবহারিক পরীক্ষা গ্রহণ করা আবশ্যক। যদি কোনো কেন্দ্রে কোনো নির্দিষ্ট টেকনোলজির ব্যবহারিক পরীক্ষা গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় ল্যাব বা যন্ত্রপাতি না থাকে, তবে সেই কেন্দ্রের অধীন অন্য যে প্রতিষ্ঠানে উক্ত বিষয়ের ব্যবহারিক পরীক্ষা গ্রহণের উপযোগী ল্যাব বা যন্ত্রপাতি বিদ্যমান, তার ল্যাব বা যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে পরীক্ষা সম্পন্ন করতে হবে।
৪. সকল ব্যবহারিক বিষয়ের পরীক্ষা গ্রহণের জন্য অভ্যন্তরীণ (Internal) ও অনাভ্যন্তরীণ (External) পরীক্ষক নিয়োগ দিতে হবে। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পাঠদানকারী শিক্ষককে অভ্যন্তরীণ পরীক্ষক হিসেবে নিয়োগ করা হবে।
৫. যদি বোর্ড থেকে কোনো টেকনোলজির জন্য অনাভ্যন্তরীণ পরীক্ষক (External) নিয়োগ করা না হয় অথবা অতিরিক্ত পরীক্ষকের প্রয়োজন হয়, তবে স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন শিল্পকারখানা, প্রকৌশল বিভাগ বা সরকারি পলিটেকনিকের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের মধ্য থেকে সংশ্লিষ্ট টেকনোলজির অনাভ্যন্তরীণ পরীক্ষক নিয়োগ দিয়ে ব্যবহারিক পরীক্ষা সম্পন্ন করতে হবে। এক্ষেত্রে টেকনোলজিভিত্তিক অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের তালিকা ও মোবাইল নম্বর পূর্বেই কেন্দ্রে সংরক্ষিত রাখতে হবে। উল্লেখ্য, একই প্রতিষ্ঠানের অন্য কোনো শিক্ষক বা কর্মকর্তা অনাভ্যন্তরীণ পরীক্ষক (External) হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না।
৬. সাধারণত প্রতিদিন ৪ (চার) শিফটে (প্রতি শিফটে ২৫-৩০ জনের গ্রুপ) ব্যবহারিক পরীক্ষা গ্রহণ করতে হবে, যার সময়সূচি নিম্নরূপ: সকালের শিফট ০৮:০০-১০:৩০ ঘটিকা ও ১০:৩০-০১:০০ ঘটিকা; দুপুরের শিফট ০৩:৩০-০৪:০০ ঘটিকা এবং বিকেলের শিফট ০৪:০০-০৬:৩০ ঘটিকা।
৭. ব্যবহারিক পরীক্ষার তিনটি অংশ, যথা: (i) জব, (ii) জব রিপোর্ট ও (iii) মৌখিক – এর মান বণ্টন উল্লেখসহ প্রতিটি বিষয়ের প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করে পরীক্ষা গ্রহণ করতে হবে এবং পরীক্ষার প্রমাণকসমূহ যথাযথভাবে সংরক্ষণ করতে হবে।
৮. সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রে টেকনোলজিভিত্তিক পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বিবেচনায় ব্যবহারিক পরীক্ষা গ্রহণের উপযোগী ল্যাবের যন্ত্রপাতি প্রস্তুতকরণ, কাঁচামালের প্রাপ্যতা নিশ্চিতকরণ, অনাভ্যন্তরীণ পরীক্ষক নিয়োগ, এবং কেন্দ্রের কোনো টেকনোলজি বা বিষয়ের ল্যাব না থাকলে বিকল্প প্রতিষ্ঠানে ল্যাব নির্বাচনের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করে একটি বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা ও ব্যবহারিক পরীক্ষার সময়সূচি প্রস্তুত করে নির্ধারিত সময়ে বোর্ডে প্রেরণ করতে হবে এবং সেই অনুযায়ী পরীক্ষা গ্রহণ করতে হবে।
**পরীক্ষা কেন্দ্র পরিচালনার সাধারণ নির্দেশনা:**
১. পরীক্ষা শুরুর পূর্বে একটি সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য স্থানীয় প্রশাসন এবং কেন্দ্রের আওতাধীন সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের সমন্বয়ে একটি সভার আয়োজন করা অপরিহার্য।
২. গত ২ জুলাই জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২০২২ প্রবিধানের আওতাধীন সকল টেকনোলজির Mathematic-1,2 & 3, Physics 1 & 2 এবং Chemistry বিষয়সমূহের পরীক্ষা পরিমার্জিত ও পুনর্বিন্যাসকৃত সিলেবাস অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হবে।
৩. একই টেকনোলজি বা বিভাগের শিক্ষকদের সেই টেকনোলজির শিক্ষার্থীদের কক্ষ পরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা যাবে না।
৪. কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ব্যতিরেকে অন্য কোনো শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী বা পরীক্ষার্থী পরীক্ষা কেন্দ্রে মোবাইল ফোন বহন করতে পারবেন না।
৫. তত্ত্বীয় পরীক্ষা গ্রহণের ক্ষেত্রে পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট পূর্বে বোর্ড থেকে অনলাইনে প্রশ্নপত্র সংগ্রহ করতে হবে।
৬. শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুসারে, পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা শুরুর ন্যূনতম ৩০ মিনিট পূর্বে অবশ্যই কেন্দ্রে প্রবেশ করতে হবে। অনিবার্য পরিস্থিতিতে কোনো পরীক্ষার্থীকে বিলম্বে প্রবেশ করতে অনুমতি দেওয়া হলে, তার নাম, রোল নম্বর, রেজিস্ট্রেশন নম্বর, পর্ব, টেকনোলজি, শিফট, প্রবেশের সময় এবং বিলম্বের কারণ একটি রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ করে সেই দিনই বোর্ডের কন্ট্রোল রুমে প্রতিবেদন পাঠাতে হবে। একই পরীক্ষার্থী বারবার বিলম্বে উপস্থিত হলে সে বিষয়ে তদন্ত করা হবে।
৭. পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশের পূর্বে যথাযথভাবে দেহ তল্লাশি নিশ্চিত করতে হবে।
৮. পরীক্ষা সংক্রান্ত সকল কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দিতে হবে এবং তাদের নিজ নিজ দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে সুস্পষ্টভাবে অবহিত করতে হবে।
৯. জেলা প্রশাসক বা উপজেলা নির্বাহী অফিসার, প্রয়োজনে বোর্ডকে অবহিত করে, সংশ্লিষ্ট জেলা বা উপজেলার যেকোনো সুবিধাজনক স্থানে পরীক্ষা আয়োজনের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবেন।
১০. প্রতিদিন প্রতিটি পরীক্ষার পর তথ্য www.bteb.gov.bd ওয়েবসাইটের “অনলাইন তথ্য প্রেরণ/গ্রহণ” এর “Center Examinee & Absent/Expelled তথ্য প্রেরণ” অপশনে প্রবেশ করে, ‘15-Diploma-In-Engg’ নির্বাচনপূর্বক সেন্টার কোড ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে লগইন করে পাঠাতে হবে। [অনলাইন এন্ট্রিসংক্রান্ত সহায়তার জন্য হেল্পলাইন: ০১৫৫০৬২০৬০৪]
১১. প্রতিটি বিষয়ের পরীক্ষা শেষে অনুপস্থিত পরীক্ষার্থীদের রোল নম্বর এবং কোনো বহিষ্কারের ঘটনা ঘটলে তার রোল নম্বর অনলাইনে এন্ট্রি করতে হবে।
১২. প্রতিদিন পরীক্ষা সমাপ্তির পর উত্তরপত্রসমূহ লাল কাপড়ের মোড়কে সিলগালা করে "পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বরাবর (দৃষ্টি আকর্ষণ: উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ডিপ্লোমা)), ভবন-০১, ৯ম তলা, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড উপ ডাকঘর, আগারগাঁও, ঢাকা-১২১০" ঠিকানায় প্রেরণ করতে হবে। প্রেরকের খামে অবশ্যই কেন্দ্রের নাম, কেন্দ্র কোড, পরীক্ষার তারিখ এবং প্রেরণের তারিখ উল্লেখ করতে হবে। উল্লেখ্য, শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক পূর্বে ও বর্তমানে সরবরাহকৃত উভয় প্রকার উত্তরপত্রই এই পরীক্ষায় ব্যবহারযোগ্য। তবে, প্রথমে পুরাতন উত্তরপত্র ব্যবহার করতে হবে এবং তা নিঃশেষ হলে নতুন উত্তরপত্র ব্যবহার শুরু করতে হবে।
**আসন বিন্যাস সংক্রান্ত নির্দেশনা:**
১. পরীক্ষা কক্ষে পরীক্ষার্থীদের আসনবিন্যাস এমনভাবে করতে হবে যেন তারা একদিকে মুখ করে বসে, এবং কোনো অবস্থাতেই মুখোমুখি বসার ব্যবস্থা করা যাবে না।
২. এক পরীক্ষার্থী থেকে অন্য পরীক্ষার্থীর ডানে-বাঁয়ে, সামনে ও পেছনে ন্যূনতম ১ (এক) মিটার দূরত্ব বজায় রাখতে হবে, যাতে পর্যাপ্ত আসন ব্যবধান নিশ্চিত হয় (৬ ফুট বেঞ্চে ২ জন এবং তার কম হলে ১ জন)।
৩. কেন্দ্রের নিজস্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষার্থীদের পরস্পর সন্নিকটে আসন ব্যবস্থা করা যাবে না। তবে, যদি একই কেন্দ্রে শুধুমাত্র একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে, তবে এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম হিসেবে Z অথবা I আকারে আসন বিন্যাস করা যেতে পারে।
৪. আসন ব্যবস্থার এক বা একাধিক কপি পরীক্ষা কেন্দ্রের বা ভেন্যুর প্রকাশ্য স্থানে সকলের অবগতির জন্য টাঙ্গিয়ে দিতে হবে।
৫. কোনো পরীক্ষার্থী অসুস্থতার কারণে নির্দিষ্ট আসনে বসে পরীক্ষা দিতে অপারগ হলে, কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তার জন্য কেন্দ্রের অভ্যন্তরে বিশেষ স্থানের ব্যবস্থা করতে পারবেন।
৬. বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন (যেমন: অন্ধ, সেরিব্রাল পালসি জনিত এবং হস্তবিহীন) পরীক্ষার্থীরা স্ক্রাইব (শ্রুতলেখক) নিয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে। তবে, সেক্ষেত্রে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন পরীক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত নীতিমালা অনুসরণপূর্বক বোর্ডের অনুমতিপত্র থাকা আবশ্যক।
৭. কোনো পরীক্ষার্থী যদি কারাগারে আটক থাকে এবং ওই কারাগার থেকেই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে ইচ্ছুক হয়, তবে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে বোর্ডকে অবহিত করে শুধুমাত্র তত্ত্বীয় বিষয়ে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে। তবে ব্যবহারিক পরীক্ষার জন্য ল্যাব বা ওয়ার্কশপে সশরীরে উপস্থিত থাকা বাধ্যতামূলক। উল্লেখ্য, কারাগারে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সমুদয় ব্যয়ভার সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার্থীকে বহন করতে হবে।
**প্রশ্নপত্র ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত নির্দেশনা:**
১. প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা বজায় রেখে ডাউনলোড, প্রিন্ট ও ফটোকপির জন্য দায়িত্বশীল শিক্ষক/কর্মকর্তা নিয়োগ দিতে হবে এবং দিন ও শিফট অনুযায়ী দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক/কর্মকর্তাদের একটি রেজিস্টারে রেকর্ড সংরক্ষণ করতে হবে।
২. পরীক্ষা শুরুর ৩০ (ত্রিশ) মিনিট পূর্বে বোর্ডের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সার্ভারে প্রবেশ করে প্রশ্নপত্র ডাউনলোড করতে হবে। যদি উক্ত সময়ে কেন্দ্রের জন্য নির্ধারিত প্রশ্নপত্র না পাওয়া যায়, তবে কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে বোর্ডের সংশ্লিষ্ট (গোপনীয়) শাখায় যোগাযোগ করতে হবে। প্রশ্নপত্র ডাউনলোড প্রক্রিয়া: bteb.gov.bd > প্রশ্নপত্র ডাউনলোড (সেন্টার কোড, মোবাইল নম্বর ও ওটিপি ব্যবহার করে প্রশ্নপত্র ডাউনলোড করতে হবে)।
৩. প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা সুরক্ষা নিশ্চিত করে ৩০ মিনিটের মধ্যে কেন্দ্রের প্রয়োজনীয় সংখ্যক প্রশ্নপত্র প্রিন্ট করে পরীক্ষা কক্ষে বিতরণ করতে হবে।
৪. পাসওয়ার্ডের গোপনীয়তা কঠোরভাবে বজায় রেখে প্রশ্নপত্র প্রেরণের জন্য ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার ই-মেইল এবং বিকল্প ই-মেইল ঠিকানা সর্বদা সচল রাখতে হবে। একইসাথে, বোর্ডে প্রদত্ত মোবাইল নম্বরটি পরীক্ষা চলাকালীন সার্বক্ষণিক চালু রাখা আবশ্যক। অনলাইনে কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোবাইল নম্বর, বিকল্প মোবাইল নম্বর, ই-মেইল ঠিকানা এবং বিকল্প ই-মেইল ঠিকানা প্রেরণ করতে হবে।
৫. ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে ক্যামেরাবিহীন সাধারণ ফিচার ফোন ব্যবহার করতে হবে।
৬. পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ও পরীক্ষার সময় (সকাল/বিকেল) বিবেচনায় পূর্ব থেকেই পর্যাপ্ত সংখ্যক শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সার্বক্ষণিক উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে।
৭. কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কর্তৃক প্রশ্নপত্র প্রিন্ট ও সংশ্লিষ্ট পরীক্ষা কক্ষে বিতরণের জন্য একটি নির্ধারিত 'টাইম ফ্রেম' সহ পরীক্ষা শুরু হওয়ার ৩০ মিনিট পূর্বে অনলাইনে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের কার্যক্রম গ্রহণের একটি চেক-লিস্ট তৈরি করে সে অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
৮. বিদ্যুৎ সরবরাহ বা বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, কম্পিউটার, ইন্টারনেট সংযোগ বা বিকল্প ইন্টারনেট সংযোগ, এবং পরীক্ষার্থীর সংখ্যা অনুযায়ী ফটোকপি মেশিন, ডুপ্লো-মেশিন ও প্রিন্টারের ব্যবস্থা করতে হবে এবং সেগুলো সচল রাখতে হবে। এছাড়াও, প্রিন্টার, ফটোকপি মেশিন ও ডুপ্লো-মেশিনের জন্য প্রয়োজনীয় টোনার, প্রশ্নপত্র ছাপানোর কাগজ এবং অন্যান্য সরঞ্জামাদি কেন্দ্রে পূর্ব থেকেই মজুত রাখা আবশ্যক।
**ব্যবহারিক পরীক্ষা সংক্রান্ত নির্দেশনা:**
১. ব্যবহারিক পরীক্ষা দুটি ধাপে অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম ধাপে, ২০২২ প্রবিধানভুক্ত ২য় ও ৫ম পর্বের পরীক্ষার্থীদের ব্যবহারিক পরীক্ষা ০১-০৪ আগস্ট ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত (তারিখ পরিবর্তন সাপেক্ষে) তত্ত্বীয় পরীক্ষা কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে সকল টেকনোলজিতে পরিচালিত হবে। দ্বিতীয় ধাপে, অন্যান্য পর্বের সকল পরীক্ষার্থীর ব্যবহারিক পরীক্ষা ০৮-১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত (তারিখ পরিবর্তন সাপেক্ষে) একইভাবে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে।
২. পরিমার্জিত ও পুনর্বিন্যাসকৃত সিলেবাস অনুযায়ী Mathematic-1, 2 ও 3 বিষয়সমূহের ব্যবহারিক অংশের সকল নম্বর ব্যবহারিক ধারাবাহিক (PC) হিসেবে প্রদান করতে হবে; এই কারণে ব্যবহারিক সমাপনী (PF) পরীক্ষা গ্রহণ করার প্রয়োজন হবে না।
৩. একই কেন্দ্রের অধীনে সময়সূচিতে উল্লিখিত তারিখ ও সময়ে ব্যবহারিক পরীক্ষা গ্রহণ করা আবশ্যক। যদি কোনো কেন্দ্রে কোনো নির্দিষ্ট টেকনোলজির ব্যবহারিক পরীক্ষা গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় ল্যাব বা যন্ত্রপাতি না থাকে, তবে সেই কেন্দ্রের অধীন অন্য যে প্রতিষ্ঠানে উক্ত বিষয়ের ব্যবহারিক পরীক্ষা গ্রহণের উপযোগী ল্যাব বা যন্ত্রপাতি বিদ্যমান, তার ল্যাব বা যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে পরীক্ষা সম্পন্ন করতে হবে।
৪. সকল ব্যবহারিক বিষয়ের পরীক্ষা গ্রহণের জন্য অভ্যন্তরীণ (Internal) ও অনাভ্যন্তরীণ (External) পরীক্ষক নিয়োগ দিতে হবে। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পাঠদানকারী শিক্ষককে অভ্যন্তরীণ পরীক্ষক হিসেবে নিয়োগ করা হবে।
৫. যদি বোর্ড থেকে কোনো টেকনোলজির জন্য অনাভ্যন্তরীণ পরীক্ষক (External) নিয়োগ করা না হয় অথবা অতিরিক্ত পরীক্ষকের প্রয়োজন হয়, তবে স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন শিল্পকারখানা, প্রকৌশল বিভাগ বা সরকারি পলিটেকনিকের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের মধ্য থেকে সংশ্লিষ্ট টেকনোলজির অনাভ্যন্তরীণ পরীক্ষক নিয়োগ দিয়ে ব্যবহারিক পরীক্ষা সম্পন্ন করতে হবে। এক্ষেত্রে টেকনোলজিভিত্তিক অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের তালিকা ও মোবাইল নম্বর পূর্বেই কেন্দ্রে সংরক্ষিত রাখতে হবে। উল্লেখ্য, একই প্রতিষ্ঠানের অন্য কোনো শিক্ষক বা কর্মকর্তা অনাভ্যন্তরীণ পরীক্ষক (External) হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না।
৬. সাধারণত প্রতিদিন ৪ (চার) শিফটে (প্রতি শিফটে ২৫-৩০ জনের গ্রুপ) ব্যবহারিক পরীক্ষা গ্রহণ করতে হবে, যার সময়সূচি নিম্নরূপ: সকালের শিফট ০৮:০০-১০:৩০ ঘটিকা ও ১০:৩০-০১:০০ ঘটিকা; দুপুরের শিফট ০৩:৩০-০৪:০০ ঘটিকা এবং বিকেলের শিফট ০৪:০০-০৬:৩০ ঘটিকা।
৭. ব্যবহারিক পরীক্ষার তিনটি অংশ, যথা: (i) জব, (ii) জব রিপোর্ট ও (iii) মৌখিক – এর মান বণ্টন উল্লেখসহ প্রতিটি বিষয়ের প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করে পরীক্ষা গ্রহণ করতে হবে এবং পরীক্ষার প্রমাণকসমূহ যথাযথভাবে সংরক্ষণ করতে হবে।
৮. সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রে টেকনোলজিভিত্তিক পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বিবেচনায় ব্যবহারিক পরীক্ষা গ্রহণের উপযোগী ল্যাবের যন্ত্রপাতি প্রস্তুতকরণ, কাঁচামালের প্রাপ্যতা নিশ্চিতকরণ, অনাভ্যন্তরীণ পরীক্ষক নিয়োগ, এবং কেন্দ্রের কোনো টেকনোলজি বা বিষয়ের ল্যাব না থাকলে বিকল্প প্রতিষ্ঠানে ল্যাব নির্বাচনের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করে একটি বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা ও ব্যবহারিক পরীক্ষার সময়সূচি প্রস্তুত করে নির্ধারিত সময়ে বোর্ডে প্রেরণ করতে হবে এবং সেই অনুযায়ী পরীক্ষা গ্রহণ করতে হবে।
