Sun 12th Jul 2026, 12:20 am

নাজিফা তুষির হৃদয়ে অমলিন বান্দরবানের লামা: এক চিরন্তন স্মৃতি

নাজিফা তুষির হৃদয়ে অমলিন বান্দরবানের লামা: এক চিরন্তন স্মৃতি
ভ্রমণ আমার এক প্রিয় শখ, এবং দেশ-বিদেশের বহু স্থানে আমি পাড়ি জমাই। তবে বান্দরবানের লামার স্মৃতি আমার হৃদয়ে এক বিশেষ স্থান দখল করে আছে, যা আমি কিছুতেই ভুলতে পারি না। এটি আমার একান্ত প্রিয় একটি গন্তব্য। চট্টগ্রামের জন্মসূত্রে বহু পছন্দের স্থান থাকা সত্ত্বেও, লামার সাথে আমার শৈশবের এক গভীর সম্পর্ক জড়িয়ে আছে। মেডিটেশন কোর্সের অংশ হিসেবে সেখানে প্রথম যাওয়া, যা আজও আমার কাছে এক রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা হিসেবে বিবেচিত। সপ্তম বা অষ্টম শ্রেণীতে পড়ার সময় কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের মেডিটেশন কোর্সে যোগ দিয়েছিলাম, আর সেখানেই প্রথম লামা সম্পর্কে অবগত হই। লামাতে ‘মনো সাধনা’ শীর্ষক একটি চার দিনের মেডিটেশন কোর্স পরিচালিত হতো, যেখানে সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত নীরব সাধনা চলত। নির্দিষ্ট সময়ে আহার গ্রহণ করা হলেও, এই সময়ে বাক্যালাপ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ছিল, যা মননের পরিচর্যায় এক অনন্য ভূমিকা রাখত। এই কোর্সের সূত্র ধরেই আমার প্রথম লামা যাত্রা। পাহাড়ের এক নির্জন প্রান্তে অবস্থিত একটি কুটিরে প্রকৃতির নিবিড় সান্নিধ্যে আমার সময় কেটেছে। এই অভিজ্ঞতা আমার মনে এক অদ্ভুত স্পন্দন সৃষ্টি করেছিল। এছাড়াও, সন্নিকটে অবস্থিত ঝরনার জলপতনের শব্দ আমার কাছে এক আধ্যাত্মিক আবহ তৈরি করেছিল, যার কারণে স্থানটি আজও আমার অত্যন্ত প্রিয়। লামাতে আমি মোট দুইবার গিয়েছি। দ্বিতীয়বার যখন কলেজ পড়ুয়া ছিলাম, তখনও লামায় পৌঁছানোর পথ ছিল বেশ দুর্গম, এবং অনেক সময় প্রবেশাধিকার প্রাপ্তিও কঠিন ছিল। দীর্ঘকাল লামা ভ্রমণ না করা হলেও, স্থানটির প্রতি আমার ভালোবাসা আজও অম্লান। লামা ভ্রমণকারী যে কারো কাছেই আমি সেখানকার বর্তমান অবস্থা জানতে আগ্রহী হই। শোনা যায়, বর্তমানে সেখানে জনবসতি বেড়েছে এবং মিরিঞ্জা ভ্যালিতে গড়ে উঠেছে বহু রিসোর্ট, যা যেকোনো সময় ভ্রমণের উপযোগী করে তুলেছে। পাহাড়ের অপার প্রকৃতি ও ঝরনার সৌন্দর্য উপভোগ করতে আমি দ্রুতই আবার লামায় ফিরে যেতে ইচ্ছুক।