এক শ্রাবণের স্নিগ্ধ রাতেই জন্ম নিয়েছিল কালজয়ী এই গানটি। ১৯৮৭ সালে নতুন একটি অ্যালবামের জন্য প্রয়োজন ছিল আর একটি মাত্র গান। টানা বর্ষণের আবহের মধ্যেই গীতিকার আশরাফ বাবুর মস্তিষ্কে ভেসে ওঠে অমর পঙ্ক্তিমালা—‘শ্রাবণের মেঘগুলো জড়ো হলো আকাশে।’ সেই রাতেই এর সুরারোপ হয়। কালক্রমে এটিই হয়ে ওঠে জনপ্রিয় ব্যান্ড ডিফ্রেন্ট টাচ-এর এক অবিচ্ছেদ্য পরিচায়ক সুর। সম্প্রতি গানটি নতুন করে শ্রোতামহলে আলোচনায় উঠে আসায়, আমরা সোমবার দুপুরে মুঠোফোনে শিল্পী মেসবা রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করি।
‘শ্রাবণের মেঘগুলো’ প্রসঙ্গে উত্থাপন করতেই মেসবা রহমান জানান, “মানুষের প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে ডিফ্রেন্ট টাচের এই গান নতুন করে ছড়িয়ে পড়ছে, এটি আমাদের জন্য এক পরম প্রাপ্তি।” তিনি বিশ্বাস করেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মানুষ বিচিত্র অনুভূতি প্রকাশ করে, যা কখনো কখনো বিতর্কের জন্ম দেয়। তবে বিউটি রানী পালের সংশ্লিষ্ট ভিডিওতে তিনি কোনো আপত্তিকর বিষয় লক্ষ করেননি। বরং, মানুষের সংহতি প্রকাশের একটি মাধ্যম হিসেবে গানটির এই নতুন জাগরণকে তিনি অত্যন্ত ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছেন।
আলাপচারিতার এক পর্যায়ে মেসবা ফিরে যান ডিফ্রেন্ট টাচ-এর সূচনালগ্নের দিনগুলিতে। তাঁর স্মৃতিপটে আজও উজ্জ্বল বাংলাদেশ টেলিভিশনের সেই ঈদের অনুষ্ঠান, যেখানে প্রথমবারের মতো পরিবেশিত হয়েছিল ‘শ্রাবণের মেঘগুলো’। অ্যালবাম যুগের সেই সময়ে, বিটিভিতে গানটি প্রচারের পরেই শ্রোতারা ডিফ্রেন্ট টাচকে চিনতে শুরু করে। পরবর্তীতে অ্যালবাম প্রকাশিত হলে, গানটির জনপ্রিয়তা দ্রুতই দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে।
‘শ্রাবণের মেঘগুলো’ ঘিরে মেসবার স্মৃতিভাণ্ডারে রয়েছে একাধিক মজার ঘটনা। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কনসার্টের কথা স্মরণ করে তিনি হেসে ওঠেন। প্রথমবার মুক্তমঞ্চে গানটি শুরু করার সঙ্গে সঙ্গেই নামে তুমুল বৃষ্টি। মূল্যবান বাদ্যযন্ত্র রক্ষার্থে সে যাত্রায় অনুষ্ঠান স্থগিত করতে হয়। পরের বছর আয়োজকরা পুনরায় তাঁদের আমন্ত্রণ জানান। কাকতালীয়ভাবে, সেবারও একই গান পরিবেশনা শুরুর পর নেমে আসে অঝোর ধারায় বৃষ্টি। এই ঘটনা আজও তাঁর কাছে এক মধুর স্মৃতি হয়ে আছে।
শুধু জাহাঙ্গীরনগর নয়, দেশ-বিদেশের যেকোনো মঞ্চেই ‘শ্রাবণের মেঘগুলো’ শুরু হলে মেসবা একই দৃশ্যের মুখোমুখি হন। অনেক সময় তাঁকে পুরো গানটি গাওয়ার প্রয়োজনও হয় না; কোনো পঙ্ক্তি ভুলে গেলেও দর্শকশ্রোতারাই সানন্দে সম্পূর্ণ গানটি গেয়ে ওঠেন। একজন শিল্পীর জন্য এর চেয়ে বড় কোনো প্রাপ্তি আর কী হতে পারে!
মেসবার বিশ্লেষণে, গানটির অবিস্মরণীয় সাফল্যের পেছনে শুধু এর হৃদয়গ্রাহী কথা বা সুরই নয়, এর কম্পোজিশনেরও এক বিশাল ভূমিকা রয়েছে। তাঁর মতে, গানের সূচনায় গিটারের সেই সুপরিচিত ধ্বনিই শ্রোতার মনে এক গভীর আবেগের সঞ্চার করে। একটি ভালো কম্পোজিশন ছাড়া, বহু উচ্চমানের গানও শ্রোতার হৃদয়ে ঠিকমতো পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়।
মেসবা রহমান জানান, বর্তমানে তিনি অত্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করছেন। দেশে-বিদেশে নিয়মিতভাবে কনসার্টে অংশ নিচ্ছেন। সম্প্রতি তিনি গাজীপুর, কুমিল্লা, খুলনা ও বগুড়ায় সফল স্টেজ শো করেছেন। এছাড়াও, সংসদ ভবনে আয়োজিত ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ কনসার্টে এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি সুফিয়া কামাল হলের অনুষ্ঠানেও তিনি গান পরিবেশন করেছেন। এর পাশাপাশি, তাঁর নতুন গান তৈরির কাজও পুরোদমে চলছে।
মেসবা আরও জানান, ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি নতুন গান মঞ্চে পরিবেশিত হচ্ছে এবং শ্রোতাদের কাছ থেকে এর আশাব্যঞ্জক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যাচ্ছে। তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস, ‘শ্রাবণের মেঘগুলো’, ‘দৃষ্টি প্রদীপ’ অথবা ‘মন কী যে চায়’-এর মতো তাঁর নতুন গানগুলোও দীর্ঘকাল মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নেবে। বর্তমানে স্টুডিওতে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। এবার শুধু অডিও ফরম্যাটে নয়, তাঁরা নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেল থেকে ভিডিওসহ গানগুলো প্রকাশ করবেন। প্রাথমিকভাবে একক গান প্রকাশের পরিকল্পনা থাকলেও, পরবর্তীতে কয়েকটি গান একত্রিত করে একটি বিশেষ আয়োজন করারও ইচ্ছা তাঁদের রয়েছে।
‘শ্রাবণের মেঘগুলো’ ঘিরে সাম্প্রতিক এই আলোচনাকে মেসবা একটি নতুন দায়িত্ব হিসেবেই গণ্য করছেন। নতুন প্রজন্মের শ্রোতারা ডিফ্রেন্ট টাচকে পুনরায় আবিষ্কার করছে, যা তাঁকে যেমন অপার আনন্দ দিচ্ছে, তেমনই নতুন সংগীত সৃষ্টির এক প্রবল তাগিদও যোগাচ্ছে। এই প্রেরণায় উজ্জীবিত হয়ে, দ্রুতই নতুন কাজ সম্পন্ন করে শ্রোতাদের সামনে হাজির হওয়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন মেসবা।
‘শ্রাবণের মেঘগুলো’ প্রসঙ্গে উত্থাপন করতেই মেসবা রহমান জানান, “মানুষের প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে ডিফ্রেন্ট টাচের এই গান নতুন করে ছড়িয়ে পড়ছে, এটি আমাদের জন্য এক পরম প্রাপ্তি।” তিনি বিশ্বাস করেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মানুষ বিচিত্র অনুভূতি প্রকাশ করে, যা কখনো কখনো বিতর্কের জন্ম দেয়। তবে বিউটি রানী পালের সংশ্লিষ্ট ভিডিওতে তিনি কোনো আপত্তিকর বিষয় লক্ষ করেননি। বরং, মানুষের সংহতি প্রকাশের একটি মাধ্যম হিসেবে গানটির এই নতুন জাগরণকে তিনি অত্যন্ত ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছেন।
আলাপচারিতার এক পর্যায়ে মেসবা ফিরে যান ডিফ্রেন্ট টাচ-এর সূচনালগ্নের দিনগুলিতে। তাঁর স্মৃতিপটে আজও উজ্জ্বল বাংলাদেশ টেলিভিশনের সেই ঈদের অনুষ্ঠান, যেখানে প্রথমবারের মতো পরিবেশিত হয়েছিল ‘শ্রাবণের মেঘগুলো’। অ্যালবাম যুগের সেই সময়ে, বিটিভিতে গানটি প্রচারের পরেই শ্রোতারা ডিফ্রেন্ট টাচকে চিনতে শুরু করে। পরবর্তীতে অ্যালবাম প্রকাশিত হলে, গানটির জনপ্রিয়তা দ্রুতই দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে।
‘শ্রাবণের মেঘগুলো’ ঘিরে মেসবার স্মৃতিভাণ্ডারে রয়েছে একাধিক মজার ঘটনা। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কনসার্টের কথা স্মরণ করে তিনি হেসে ওঠেন। প্রথমবার মুক্তমঞ্চে গানটি শুরু করার সঙ্গে সঙ্গেই নামে তুমুল বৃষ্টি। মূল্যবান বাদ্যযন্ত্র রক্ষার্থে সে যাত্রায় অনুষ্ঠান স্থগিত করতে হয়। পরের বছর আয়োজকরা পুনরায় তাঁদের আমন্ত্রণ জানান। কাকতালীয়ভাবে, সেবারও একই গান পরিবেশনা শুরুর পর নেমে আসে অঝোর ধারায় বৃষ্টি। এই ঘটনা আজও তাঁর কাছে এক মধুর স্মৃতি হয়ে আছে।
শুধু জাহাঙ্গীরনগর নয়, দেশ-বিদেশের যেকোনো মঞ্চেই ‘শ্রাবণের মেঘগুলো’ শুরু হলে মেসবা একই দৃশ্যের মুখোমুখি হন। অনেক সময় তাঁকে পুরো গানটি গাওয়ার প্রয়োজনও হয় না; কোনো পঙ্ক্তি ভুলে গেলেও দর্শকশ্রোতারাই সানন্দে সম্পূর্ণ গানটি গেয়ে ওঠেন। একজন শিল্পীর জন্য এর চেয়ে বড় কোনো প্রাপ্তি আর কী হতে পারে!
মেসবার বিশ্লেষণে, গানটির অবিস্মরণীয় সাফল্যের পেছনে শুধু এর হৃদয়গ্রাহী কথা বা সুরই নয়, এর কম্পোজিশনেরও এক বিশাল ভূমিকা রয়েছে। তাঁর মতে, গানের সূচনায় গিটারের সেই সুপরিচিত ধ্বনিই শ্রোতার মনে এক গভীর আবেগের সঞ্চার করে। একটি ভালো কম্পোজিশন ছাড়া, বহু উচ্চমানের গানও শ্রোতার হৃদয়ে ঠিকমতো পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়।
মেসবা রহমান জানান, বর্তমানে তিনি অত্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করছেন। দেশে-বিদেশে নিয়মিতভাবে কনসার্টে অংশ নিচ্ছেন। সম্প্রতি তিনি গাজীপুর, কুমিল্লা, খুলনা ও বগুড়ায় সফল স্টেজ শো করেছেন। এছাড়াও, সংসদ ভবনে আয়োজিত ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ কনসার্টে এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি সুফিয়া কামাল হলের অনুষ্ঠানেও তিনি গান পরিবেশন করেছেন। এর পাশাপাশি, তাঁর নতুন গান তৈরির কাজও পুরোদমে চলছে।
মেসবা আরও জানান, ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি নতুন গান মঞ্চে পরিবেশিত হচ্ছে এবং শ্রোতাদের কাছ থেকে এর আশাব্যঞ্জক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যাচ্ছে। তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস, ‘শ্রাবণের মেঘগুলো’, ‘দৃষ্টি প্রদীপ’ অথবা ‘মন কী যে চায়’-এর মতো তাঁর নতুন গানগুলোও দীর্ঘকাল মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নেবে। বর্তমানে স্টুডিওতে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। এবার শুধু অডিও ফরম্যাটে নয়, তাঁরা নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেল থেকে ভিডিওসহ গানগুলো প্রকাশ করবেন। প্রাথমিকভাবে একক গান প্রকাশের পরিকল্পনা থাকলেও, পরবর্তীতে কয়েকটি গান একত্রিত করে একটি বিশেষ আয়োজন করারও ইচ্ছা তাঁদের রয়েছে।
‘শ্রাবণের মেঘগুলো’ ঘিরে সাম্প্রতিক এই আলোচনাকে মেসবা একটি নতুন দায়িত্ব হিসেবেই গণ্য করছেন। নতুন প্রজন্মের শ্রোতারা ডিফ্রেন্ট টাচকে পুনরায় আবিষ্কার করছে, যা তাঁকে যেমন অপার আনন্দ দিচ্ছে, তেমনই নতুন সংগীত সৃষ্টির এক প্রবল তাগিদও যোগাচ্ছে। এই প্রেরণায় উজ্জীবিত হয়ে, দ্রুতই নতুন কাজ সম্পন্ন করে শ্রোতাদের সামনে হাজির হওয়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন মেসবা।
