Wed 29th Jul 2026, 2:39 am

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে জনপ্রিয়তার নিরিখে সাকিব আল হাসানকে অতিক্রম করলেন চিত্রনায়িকা পরীমনি

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে জনপ্রিয়তার নিরিখে সাকিব আল হাসানকে অতিক্রম করলেন চিত্রনায়িকা পরীমনি
বাংলাদেশের জনপ্রিয় তারকাদের মধ্যে ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান দীর্ঘকাল ধরে শীর্ষে অবস্থান করছিলেন, বিশেষত ফেসবুক অনুসারীর সংখ্যায় তাঁর প্রভাব ছিল অনস্বীকার্য। তবে সম্প্রতি এই অবস্থানে পরিবর্তন এসেছে; চিত্রনায়িকা পরীমনি এখন ১ কোটি ৭০ লাখেরও বেশি অনুসারী নিয়ে সাকিব আল হাসানকে (১ কোটি ৬০ লাখেরও বেশি অনুসারী) ছাড়িয়ে গেছেন। এর মধ্য দিয়ে দেশের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে তারকাদের জনপ্রিয়তার নিরিখে পরীমনি এখন অগ্রগণ্য।

তবে তাঁর অভিনয় জীবনের দিকে তাকালে ভিন্ন চিত্র পরিলক্ষিত হয়। প্রায় ১২ বছরের চলচ্চিত্র জীবনে পরীমনি অভিনীত প্রায় দুই ডজন চলচ্চিত্র মুক্তি পেলেও, সেগুলোর মধ্যে কোনোটিই বক্স অফিসে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করতে পারেনি। তাঁর আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে প্রায়শই থাকে ব্যক্তিজীবন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর সক্রিয়তা এবং বিভিন্ন বিতর্কিত প্রসঙ্গ, যা তাঁর অভিনয় দক্ষতার চেয়ে বেশি নজর কেড়েছে।

চলচ্চিত্র বিশ্লেষক ও সংশ্লিষ্টদের মতে, পরীমনির আলোচনার অন্যতম প্রধান কারণ হলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর ধারাবাহিক ও উন্মুক্ত উপস্থিতি। তিনি তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের খুঁটিনাটি, ভ্রমণ অভিজ্ঞতা, সন্তানের বেড়ে ওঠা, ফটোশুট, কাজের অগ্রগতি এবং জীবনের ক্ষুদ্রতম মুহূর্তগুলোও নিয়মিতভাবে অনুসারীদের সাথে ভাগ করে নেন। এই স্বতঃস্ফূর্ত যোগাযোগের ফলেই তাঁর এবং তাঁর অনুসারীদের মধ্যে এক নিবিড় ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে উঠেছে, যার প্রমাণ তাঁর সাম্প্রতিক পোস্টগুলোতে স্পষ্ট।

গত রোববার তিনি তাঁর কন্যাসন্তানের একটি খুনসুটির ভিডিও পোস্ট করেন, যার ক্যাপশনে ছিল ‘সাজুনি বুড়ি দেখেন’ এবং একটি ভালোবাসার ইমোজি। মাত্র ২২ ঘণ্টার মধ্যে ভিডিওটিতে ৭৮ হাজারেরও বেশি প্রতিক্রিয়া, প্রায় ২ হাজার মন্তব্য এবং প্রায় ১৫ লাখ ভিউ হয়। এর আগের দিন রোদ পোহানোর একটি সাধারণ ছবি পোস্ট করেও তিনি ৪৮ হাজারেরও বেশি প্রতিক্রিয়া পান, যা তাঁর অনুসারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের ইঙ্গিত দেয়।

সোমবার দুপুরে অনুসারীর সংখ্যায় শীর্ষে পৌঁছানোর বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে পরীমনি বলেন, ‘আমার জীবনের ছোট ছোট বিষয়গুলো আমি সবার সঙ্গে খোলা মনে ভাগ করে নিতে ভালোবাসি। আমার জীবনে কোনো লুকোচুরি নেই। বাস্তবে আমি যা, ফেসবুকেও তার প্রতিফলন সব সময় থাকে। সম্ভবত সে কারণেই মানুষ আমাকে এতটা আপন মনে করেন। তাঁদের এই ভালোবাসার মূল্য আমি সব সময় দেওয়ার চেষ্টা করব। আমি বিশ্বাস করি, মানুষের ভালোবাসার চেয়ে বড় কোনো অর্জন নেই। যাঁরা এত দিন ধরে আমার পাশে আছেন, তাঁদের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। সবার ভালোবাসায় আমি এগিয়ে যেতে চাই।’

ফেসবুক অনুসারীর সংখ্যায় সাকিব আল হাসান ও পরীমনির মধ্যে এই ধরনের ওঠানামা পূর্বেও দেখা গেছে, তবে ব্যবধান এতটা সুস্পষ্ট ছিল না। প্রায় তিন বছর আগে প্রথমবার তাঁদের অনুসারীর সংখ্যা প্রায় সমান হয়েছিল। এরপর, ২০২৩ সালের আগস্টে সাকিব আল হাসান পুনরায় এগিয়ে যান। কয়েক মাসের ব্যবধানে উভয়েই ১৬ মিলিয়ন অনুসারীর মাইলফলক অতিক্রম করেন। তবে এবার পরীমনি সেই ব্যবধান উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে শীর্ষস্থান অর্জন করেছেন।

ক্রিকেট মাঠে সাকিব আল হাসানের অর্জন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কিংবদন্তীতুল্য; তাঁর সাফল্য বাংলাদেশের ক্রীড়া ইতিহাসে এক উজ্জ্বল অধ্যায়। অন্যদিকে, পরীমনি তাঁর চলচ্চিত্র কর্মের বাইরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত উপস্থিতি, ব্যক্তিগত জীবনের উন্মুক্ত ভাগাভাগি এবং অনুসারীদের সাথে গভীর সংযোগের মাধ্যমে সব সময় আলোচনায় থাকেন। এই ভিন্নধর্মী জনপ্রিয়তার কৌশলই তাঁকে বক্স অফিসে বড় সাফল্য না পেলেও, ফেসবুক অনুসারীর সংখ্যায় সাকিব আল হাসানকে ছাড়িয়ে যেতে সাহায্য করেছে।