Mon 12th Oct 2026, 12:52 am

২০০৯ থেকে এক অনন্য বন্ধন, মধ্যরাতের বার্তা অপুকে করেছে আপ্লুত

২০০৯ থেকে এক অনন্য বন্ধন, মধ্যরাতের বার্তা অপুকে করেছে আপ্লুত
দেসি মিডিয়া পয়েন্ট: মানবজীবনে এমন কিছু অধ্যায় আসে যা ব্যক্তিকে পরিবর্তিত করে তোলে, আবার কিছু স্বপ্ন অধরাই থেকে যায়। ৩৭ বছর পূর্তির এই সন্ধিক্ষণে, বিগত জীবনের কোনো অধ্যায় নতুন করে বিনির্মাণের আকাঙ্ক্ষা কি আপনার মনে জাগে? নাকি অতীতের হিসাব-নিকাশ ভুলে, স্বকীয় সত্তায় ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে যেতে প্রস্তুত আপনি?

অপু বিশ্বাস: প্রকৃতপক্ষে, জীবন কখনোই পূর্বনির্ধারিত হিসাব-নিকাশের অনুগামী হয় না। যখন আমি পেছনে ফিরে তাকাই, তখন মনে হয়, আমার জীবনে ঘটে যাওয়া প্রতিটি অধ্যায়ই ছিল সুন্দর ও তাৎপর্যপূর্ণ। জীবন যে ধারায় অগ্রসর হয়েছে, তা হয়তো পূর্বনির্ধারিত ছিল। জীবনকে গাণিতিক হিসাব মেনে পরিচালনা করা যায় না; এটি নিজস্ব স্বকীয় গতিতে প্রবহমান। তাই অতীতে যা ঘটেছে, বর্তমানে যা ঘটছে, অথবা ভবিষ্যতে যা ঘটবে—সবকিছুই হয়তো আমার জন্যই প্রস্তুত ছিল। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে জীবনে প্রতিটি অভিজ্ঞতা থেকেই কিছু না কিছু শেখার আছে। সে কারণেই অতীতের কোনো ঘটনাকে আঁকড়ে না ধরে, জীবন যেদিকে আমাকে চালিত করছে, আমি সে পথেই এগিয়ে যেতে চাই।

রাত বারোটায় কেক কাটার সময় অপু বিশ্বাস ও ছেলে আব্রাহাম খান জয়

দেসি মিডিয়া পয়েন্ট: জীবনে এমন এক পর্যায় আসে, যখন অন্যের কাছে নিজেকে প্রমাণ করার চেয়ে নিজের আত্মসন্তুষ্টি এবং ভালো থাকাটাই অধিক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। অপু বিশ্বাসের জীবনে কি সেই সন্ধিক্ষণটি এসেছে? বর্তমানে নিজের মানসিক প্রশান্তির জন্য কোন বিষয়গুলিকে তিনি সর্বাধিক অগ্রাধিকার দেন?

অপু বিশ্বাস: জীবনের প্রতিটি ধাপে আমি আত্মসম্মানের প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করে এসেছি। আমার বিশ্বাস, যখন আমি নিজেকে সম্মান জানাব, তখন পারিপার্শ্বিকরাও আমাকে সম্মান প্রদর্শন করবে। এই কারণেই নিজের আত্মমর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখা আমার কাছে শতভাগ অগ্রাধিকারের বিষয়। জীবনে এক বিরাট চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছিলাম সন্তান জন্মের পর। ঠিক সেই সময় থেকেই আমার উপলব্ধি হয়েছে যে, বর্তমানের অপু বিশ্বাস হয়ে ওঠার পেছনে সেই জীবন আমাকে অসামান্য সমর্থন যুগিয়েছে। কারণ, ব্যক্তিগত জীবনে চড়াই-উতরাই ও টানাপোড়েন ছাড়া কোনো মানুষই নিজেকে সম্পূর্ণরূপে বিকশিত করতে পারে না। সেই বিশেষ সময়টিই আমাকে আরও দৃঢ় ও পরিপূর্ণ হতে বিশেষভাবে সহায়তা করেছে।

অপু বিশ্বাস ও ছেলে আব্রাহাম খান জয়

দেসি মিডিয়া পয়েন্ট: সেই প্রতিকূল সময়ে আপনি কীভাবে নিজেকে সামলাতে বা নিয়ন্ত্রণ করতে শিখেছিলেন?

অপু বিশ্বাস: আমার এই কথাগুলি বা লেখাগুলি পড়ে হয়তো অনেকে হাসতে পারেন, বা আমাকে নির্বোধও মনে করতে পারেন। যেমন, আবেগ—নিজের আবেগ কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হয় অথবা কেবল আবেগ দ্বারা যে জীবন পরিচালনা করা যায় না, এই শিক্ষা আমার সেই সময়ের বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে অর্জিত হয়েছে। এরপর আমি শিখেছি কীভাবে একা পথ চলতে হয় এবং মানুষের জীবনে সাফল্যের প্রকৃত গুরুত্ব আসলে কতটুকু। অনেকেই হয়তো মনে করেন যে, যদি কোনো বড় চাওয়া অপূর্ণ থেকে যায়, তবে জীবন সেখানেই শেষ। কিন্তু আমি শিখেছি যে কীভাবে জীবনকে নতুন করে সাজিয়ে সামনে এগিয়ে সাফল্য অর্জন করতে হয়। তাই আমার কাছে মনে হয়, যদি কোনো মানুষের জীবনে বাধা আসে বা তার চাওয়া পূর্ণতা না পায়, তবে সেই ব্যক্তি আসলে অত্যন্ত ভাগ্যবান। কারণ, সে শিখতে পারে। একজন অপু বিশ্বাস হিসেবে আমি নিজেকে খুবই সৌভাগ্যবতী মনে করি যে আমি আমার ব্যক্তিগত জীবন থেকেই এই মূল্যবান শিক্ষাগুলি অর্জন করেছি। আজ আমার মনে হয় যে আমি একজন পরিপূর্ণ অপু বিশ্বাস।

অপু বিশ্বাস

দেসি মিডিয়া পয়েন্ট: সাধারণত মানুষ আপনার অর্জন এবং জনপ্রিয়তাকে স্মরণ করে। কিন্তু দিন শেষে আপনার কাছে সাফল্যের নিজস্ব সংজ্ঞা কী? জীবনের এই পর্যায়ে এসে কোন বিষয়টি অর্জন করতে পারলে আপনার মনে হবে, ‘এবার সত্যিই নিজের জন্য বাঁচতে পারছি’?

অপু বিশ্বাস: একজন মানুষ হিসেবে আমি তো চিরকাল বেঁচে থাকতে আসিনি। আমার কাছে দিন শেষে সাফল্যের সংজ্ঞা হলো—আমার কর্ম, আমার যোগ্যতা এবং আমি কী অবদান রেখে যাচ্ছি, যা মানুষ আমার অনুপস্থিতিতেও আলোচনা করবে। আর যেহেতু আমি একজন মা, স্বাভাবিকভাবেই আমি সবসময় চেষ্টা করি আমার সন্তানের মধ্যে আমার আদর্শ ও মূল্যবোধের দ্যুতিকে অক্ষুণ্ণ রাখতে। আসলে মানুষ যা-ই বলুক না কেন, এই মুহূর্তে এসে আমি নিজেই সঠিকভাবে চিহ্নিত করতে পারিনি যে, আমি আসলেই নিজের জন্য বাঁচতে পারছি... কারণ আমার আকাঙ্ক্ষা এখনো অনেক। তবে হ্যাঁ, এতটুকু মনে হয় যে, যেহেতু আমি একজন চিত্রনায়িকা, আমি আমার কাজ করে গেছি। যখন সাধারণ মানুষ আমাকে দেখে এবং বিস্ময়ের সঙ্গে বলে যে, ‘আপনিই কি বাংলা চলচ্চিত্রের সেই শেষ নায়িকা যাকে গ্রাম থেকে শহর পর্যন্ত সবাই মনে রেখেছে?’ তখন মনে হয়, হ্যাঁ, হয়তো আমি আমার কাজটি সততার সঙ্গে করেছি, অন্যথায় এমন মন্তব্য আসার কথা নয়।

অপু বিশ্বাস

দেসি মিডিয়া পয়েন্ট: এবারের জন্মদিনের মধ্যরাতে সবচেয়ে অপ্রত্যাশিত এবং অপ্রকাশিত ঘটনাটি কী ছিল?

অপু বিশ্বাস: আমার জীবনে একজন বিশেষ মানুষ আছেন, যাঁর সঙ্গে আমার প্রথম পরিচয় ২০০৯ সালে। এবারের জন্মদিনে ঠিক মধ্যরাতে তাঁর পাঠানো একটি সংক্ষিপ্ত ক্ষুদে বার্তা আমার কাছে অত্যন্ত বিশেষ এবং হৃদয়স্পর্শী ছিল। আমি তাতে ভীষণভাবে আপ্লুত হয়েছি। এই একটিমাত্র বার্তা আমার এবারের জন্মদিনকে যেন আরও বর্ণিল করে তুলেছে। আর, আমার সন্তান জয় আসার পর থেকে জন্মদিনের আনন্দই এক ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে। পূর্বে সে আমার কোলে থাকত, এখন পাশে বসে থাকে। এবারও মধ্যরাতের পর জয়কে পাশে নিয়েই আমি কেক কেটেছি। এটি আমার কাছে সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্ত। এছাড়াও, আমার কিছু নিকটাত্মীয় যখন ঠিক বারোটা বাজার সাথে সাথেই আমাকে ফোন করেন—যা আমি সচরাচর প্রত্যাশা করি—এই বিষয়গুলিও আমাকে সবসময় এক নতুন আনন্দ দেয় এবং মনে করিয়ে দেয় যে এটি আমার বিশেষ দিন।