রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী, মেয়ে আগামী ও ছোট ছেলে প্রিয়ম—এই চারজনকেই নৃশংসভাবে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেয় তাদেরই পরিচিত দুই মাদকাসক্ত যুবক। অভিযুক্তরা হলো সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাস। তারা একই এলাকার বাসিন্দা এবং নিহত পরিবারের পরিচিত। এমনকি তারা গণপতি চক্রবর্তীকে ‘কাকা’ সম্বোধন করত।
ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার রাতে। গণপতি চক্রবর্তীর বাসভবনের সংলগ্ন অন্য একটি ভবনের ছাদ থেকে অভিযুক্তরা স্যারের বাড়ির ছাদে প্রবেশ করে। সেখানে তারা মাদক সেবনে লিপ্ত ছিল। হঠাৎ গণপতি চক্রবর্তী ছাদে উঠে তাদের মাদক সেবনরত অবস্থায় দেখে ফেলেন এবং তাদের ভর্ৎসনা করেন। এতে অভিযুক্তরা ভীত হয়ে পড়ে। তাদের মনে হয়, একজন সম্মানিত শিক্ষক হিসেবে গণপতি চক্রবর্তী হয়তো ঘটনাটি জনসম্মুখে প্রকাশ করবেন, এমনকি থানায়ও জানাতে পারেন। আর তখনই মাদকাসক্ত ও নেশাগ্রস্ত অবস্থায় তারা এক ভয়ংকর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
স্যারের সঙ্গে থাকা একটি গামছা দিয়ে তাঁর গলায় ফাঁস দেওয়া হয়। কয়েক মিনিটের ধস্তাধস্তির পর তিনি মৃত্যুবরণ করেন। এই সময় শব্দ শুনে স্যারের স্ত্রী ছাদের দিকে এগিয়ে আসেন। তিনি হত্যাকাণ্ড প্রত্যক্ষ করায় তাকেও সিঁড়ির কাছে একইভাবে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। এরপর ধস্তাধস্তির শব্দ শুনে তাদের মেয়ে এগিয়ে এলে তাকেও নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।
ঘরে তখন ছোট ছেলে প্রিয়ম একা ছিল। প্রাথমিকভাবে তাকে অক্ষত রাখা হলেও, কিছুক্ষণ পর অভিযুক্তদের মনে হয় যে প্রিয়ম তাদের সুপরিচিত। আজ না হোক কাল, সে হয়তো এই নৃশংসতার কথা প্রকাশ করে দিতে পারে। এই আশঙ্কায় শেষ পর্যন্ত তাকেও বালিশ চাপা ও গামছা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়।
চারজনকে হত্যার পর অভিযুক্তরা ওই বাড়ির ওয়াশরুমে গোসল করে। এরপর ঘরে বসেই তারা পুনরায় মাদক সেবন করে। ততক্ষণে শুক্রবার সকাল হয়ে যায়। এরপর তারা ঘরের আসবাবপত্র তছনছ করে তল্লাশি চালাতে থাকে এবং স্বর্ণালংকার খুঁজে বের করে। অভিযোগ রয়েছে, সিদ্ধার্থ একটি স্বর্ণের দোকানে কাজ করত; তাই সে আগুন জ্বালিয়ে গহনাগুলো আসল সোনা কি না, তা পরীক্ষা করে।
এসব করতে করতে দিনের অনেকটা সময় পেরিয়ে যায়। তখন তারা অনুমান করে যে দিনের বেলায় বের হলে আশপাশের মানুষ তাদের দেখে ফেলতে পারে। তাই তারা জুমার নামাজের সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করার সিদ্ধান্ত নেয়। অপেক্ষার এই সময়ে তারা ঘরে বসে খেজুর খায় এবং মাদকের প্রভাব কমাতে ফ্রিজ থেকে শসা বের করে খায়। অবশেষে জুমার নামাজের সময় যখন আশপাশের অধিকাংশ মানুষ মসজিদে ব্যস্ত, তখন তারা ছাদ দিয়ে পাশের বাড়ির ছাদ হয়ে সেখান থেকে পালিয়ে যায়।
একবার ভাবুন... চারটি প্রাণ কেড়ে নেওয়ার পরও তারা এতটা দীর্ঘ সময় ওই বাড়িতেই অবস্থান করেছে! নির্বিঘ্নে গোসল করেছে, খাবার খেয়েছে, মাদক সেবন করেছে, ঘরের জিনিসপত্র তল্লাশি করেছে—এবং এরপর সুযোগ বুঝে স্বাভাবিকভাবে প্রস্থান করেছে। শুধুমাত্র কয়েকজন নেশাগ্রস্ত ব্যক্তির ভয় এবং পৈশাচিক নিষ্ঠুরতার কারণে একটি পরিবারের চারটি মূল্যবান প্রাণ চিরতরে নিভে গেল। মাদকাসক্তি যে মানুষকে কতটা ভয়ংকর ও অমানবিক করে তুলতে পারে, এই ঘটনাই তার মর্মান্তিক উদাহরণ।
ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার রাতে। গণপতি চক্রবর্তীর বাসভবনের সংলগ্ন অন্য একটি ভবনের ছাদ থেকে অভিযুক্তরা স্যারের বাড়ির ছাদে প্রবেশ করে। সেখানে তারা মাদক সেবনে লিপ্ত ছিল। হঠাৎ গণপতি চক্রবর্তী ছাদে উঠে তাদের মাদক সেবনরত অবস্থায় দেখে ফেলেন এবং তাদের ভর্ৎসনা করেন। এতে অভিযুক্তরা ভীত হয়ে পড়ে। তাদের মনে হয়, একজন সম্মানিত শিক্ষক হিসেবে গণপতি চক্রবর্তী হয়তো ঘটনাটি জনসম্মুখে প্রকাশ করবেন, এমনকি থানায়ও জানাতে পারেন। আর তখনই মাদকাসক্ত ও নেশাগ্রস্ত অবস্থায় তারা এক ভয়ংকর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
স্যারের সঙ্গে থাকা একটি গামছা দিয়ে তাঁর গলায় ফাঁস দেওয়া হয়। কয়েক মিনিটের ধস্তাধস্তির পর তিনি মৃত্যুবরণ করেন। এই সময় শব্দ শুনে স্যারের স্ত্রী ছাদের দিকে এগিয়ে আসেন। তিনি হত্যাকাণ্ড প্রত্যক্ষ করায় তাকেও সিঁড়ির কাছে একইভাবে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। এরপর ধস্তাধস্তির শব্দ শুনে তাদের মেয়ে এগিয়ে এলে তাকেও নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।
ঘরে তখন ছোট ছেলে প্রিয়ম একা ছিল। প্রাথমিকভাবে তাকে অক্ষত রাখা হলেও, কিছুক্ষণ পর অভিযুক্তদের মনে হয় যে প্রিয়ম তাদের সুপরিচিত। আজ না হোক কাল, সে হয়তো এই নৃশংসতার কথা প্রকাশ করে দিতে পারে। এই আশঙ্কায় শেষ পর্যন্ত তাকেও বালিশ চাপা ও গামছা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়।
চারজনকে হত্যার পর অভিযুক্তরা ওই বাড়ির ওয়াশরুমে গোসল করে। এরপর ঘরে বসেই তারা পুনরায় মাদক সেবন করে। ততক্ষণে শুক্রবার সকাল হয়ে যায়। এরপর তারা ঘরের আসবাবপত্র তছনছ করে তল্লাশি চালাতে থাকে এবং স্বর্ণালংকার খুঁজে বের করে। অভিযোগ রয়েছে, সিদ্ধার্থ একটি স্বর্ণের দোকানে কাজ করত; তাই সে আগুন জ্বালিয়ে গহনাগুলো আসল সোনা কি না, তা পরীক্ষা করে।
এসব করতে করতে দিনের অনেকটা সময় পেরিয়ে যায়। তখন তারা অনুমান করে যে দিনের বেলায় বের হলে আশপাশের মানুষ তাদের দেখে ফেলতে পারে। তাই তারা জুমার নামাজের সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করার সিদ্ধান্ত নেয়। অপেক্ষার এই সময়ে তারা ঘরে বসে খেজুর খায় এবং মাদকের প্রভাব কমাতে ফ্রিজ থেকে শসা বের করে খায়। অবশেষে জুমার নামাজের সময় যখন আশপাশের অধিকাংশ মানুষ মসজিদে ব্যস্ত, তখন তারা ছাদ দিয়ে পাশের বাড়ির ছাদ হয়ে সেখান থেকে পালিয়ে যায়।
একবার ভাবুন... চারটি প্রাণ কেড়ে নেওয়ার পরও তারা এতটা দীর্ঘ সময় ওই বাড়িতেই অবস্থান করেছে! নির্বিঘ্নে গোসল করেছে, খাবার খেয়েছে, মাদক সেবন করেছে, ঘরের জিনিসপত্র তল্লাশি করেছে—এবং এরপর সুযোগ বুঝে স্বাভাবিকভাবে প্রস্থান করেছে। শুধুমাত্র কয়েকজন নেশাগ্রস্ত ব্যক্তির ভয় এবং পৈশাচিক নিষ্ঠুরতার কারণে একটি পরিবারের চারটি মূল্যবান প্রাণ চিরতরে নিভে গেল। মাদকাসক্তি যে মানুষকে কতটা ভয়ংকর ও অমানবিক করে তুলতে পারে, এই ঘটনাই তার মর্মান্তিক উদাহরণ।