Wed 12th Aug 2026, 4:50 pm

দুরেফিশান সেলিমের ইংরেজি উচ্চারণ বিতর্ক: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড়

দুরেফিশান সেলিমের ইংরেজি উচ্চারণ বিতর্ক: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড়
পাকিস্তানি অভিনেত্রী দুরেফিশান সেলিমের নতুন নাটক ‘দার-এ-নাজাত’ মুক্তির পর তাঁর ইংরেজি উচ্চারণভঙ্গি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক নতুন বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে। অভিনেত্রীর সংলাপ পরিবেশনা এবং ইংরেজি উচ্চারণের ধরন নিয়ে দর্শকদের মধ্যে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে, যা দ্রুতই সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

কিছু দর্শক দুরেফিশানের উচ্চারণকে ‘অস্বাভাবিক’ বলে অভিহিত করেছেন। এমনকি কেউ কেউ মন্তব্য করেছেন যে, তাঁর ইংরেজি উচ্চারণ বলিউড ফিল্ম দেখে ইংরেজি শেখার মতো শোনায়। এই ধরনের মন্তব্যগুলো সামাজিক মাধ্যমে আলোচনার ঝড় তুলেছে।

তবে, এর বিপরীত মতও প্রকাশ পেয়েছে। কিছু দর্শক দুরেফিশানের উচ্চারণের চেয়েও সংলাপের দুর্বল লেখা এবং জোর করে সংলাপ বলার ভঙ্গিকেই বেশি দৃষ্টিকটু বলে উল্লেখ করেছেন। তাদের মতে, আসল সমস্যা উচ্চারণে নয়, বরং পরিবেশনার সামগ্রিক দুর্বলতায়।

নাটকে দুরেফিশান 'জারিয়াব' চরিত্রে অভিনয় করছেন, যিনি একটি সচ্ছল পরিবারের তরুণী এবং উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন। চরিত্রটির এই পারিবারিক ও শিক্ষাগত পটভূমির সঙ্গে দুরেফিশানের ইংরেজি বলার ধরন কতটা মানানসই, তা-ই মূলত দর্শকদের আলোচনার প্রধান বিষয় হয়ে উঠেছে।

এই সমালোচনার মাত্রাতিরিক্ত রূপ ধারণ করায় পাকিস্তানের বিনোদন জগতের বেশ কিছু তারকা দুরেফিশানের সমর্থনে এগিয়ে এসেছেন। অভিনেত্রী সানাম সাঈদ তাঁর ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে এই ট্রলিংয়ের প্রতি তীব্র বিরক্তি প্রকাশ করেছেন। তিনি লিখেছেন যে, একজন অভিনেতার উচ্চারণ নিয়ে এত ব্যস্ত থাকাটা অস্বস্তিকর এবং সত্যিই বিরক্তিকর। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুরেফিশানের প্রতি যে আক্রমণ চালানো হচ্ছে, তাকে সানাম ‘নিষ্ঠুর’ এবং ‘অন্যের অনুভূতির প্রতি অবিবেচনাপ্রসূত’ বলে অভিহিত করেছেন।

অভিনেতা উমর আলমও দুরেফিশানের পক্ষ নিয়েছেন। তাঁর মতে, প্রতিটি মানুষের কথা বলার ধরনই স্বতন্ত্র। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দ্বারা তৈরি নিখুঁত এবং পরিশীলিত কণ্ঠস্বর শুনতে অভ্যস্ত হয়ে পড়া দর্শকদের কাছে স্বাভাবিক মানবিক উচ্চারণ অদ্ভুত মনে হতে পারে। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, “এআইয়ের অডিও শুনতে শুনতে তাঁদের কাছে আসল উচ্চারণও অদ্ভুত লাগছে। প্রত্যেক মানুষের কথা বলার ধরন আলাদা, আর সেটিই তাকে স্বতন্ত্র করে।”

নাট্যসমালোচক ড. এজাজ ওয়ারিসও এই সমালোচনার বিরোধিতা করেছেন। তাঁর ভাষ্যমতে, পাকিস্তানি উচ্চারণে ইংরেজি বললেও সমস্যা, আবার কৃত্রিম উচ্চারণ তৈরি করলেও সমস্যা—দর্শককে সন্তুষ্ট করা সত্যিই কঠিন।

এই সংবাদটি দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন থেকে সংগৃহীত।